হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Monday, August 10, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়শহীদ হাদি হত্যার বিচার করার দাবিতে আজ সারা দেশে ইনকিলাব মঞ্চের অবরোধ
spot_img

শহীদ হাদি হত্যার বিচার করার দাবিতে আজ সারা দেশে ইনকিলাব মঞ্চের অবরোধ

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় আধিপত্য ও প্রভাব থেকে মুক্ত করার দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। সংগঠনটি ঘোষণা দিয়েছে যে, আজ রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে ‘অবরোধ কর্মসূচি’ পালন করা হবে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক বিশাল অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের উপস্থিত ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচরি ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, আজ রবিবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে এই অবরোধ চলবে।

ইনকিলাব মঞ্চের অবরোধ কর্মসূচির বিস্তারিত

ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষণা অনুযায়ী, রবিবার সকাল থেকেই রাজপথে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংগঠনের কর্মীরা। আবদুল্লাহ আল জাবের তার বক্তব্যে কর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, শনিবার যারা শাহবাগে উপস্থিত ছিলেন, তারা যেন রবিবারও ঠিক সকাল ১১টায় শাহবাগে উপস্থিত হন।

কর্মসূচির মূল সময়সূচি ও পরিকল্পনা:

  • তারিখ: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর।
  • সময়: সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
  • স্থান: ঢাকা সহ দেশের ৮টি বিভাগীয় শহর।
  • প্রধান কেন্দ্র: ঢাকার শাহবাগ মোড়।

আবদুল্লাহ আল জাবের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “কোনো ধরনের প্ররোচনা কিংবা বাইরের কারো চাপের মুখে এই অবরোধ তুলে নেওয়া যাবে না। ইনসাফের এই লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতে হবে।”

আন্দোলনের মূল দাবি

এই কঠোর কর্মসূচির পেছনে প্রধানত দুটি দাবি উঠে এসেছে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলছেন, এই অবরোধ নিছক কোনো রাজনৈতিক শো-ডাউন নয়, বরং এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।

১. শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড। সংগঠনের দাবি, হাদি হত্যার বিচারের ক্ষেত্রে প্রশাসনের গড়িমসি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “এই অবরোধ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি হাদি ভাইয়ের রক্তের ঋণ শোধ করার এবং তার হত্যার বিচারের দাবিতে আমাদের দৃঢ় অবস্থান।”

২. ভারতীয় প্রভাব থেকে মুক্তি

দ্বিতীয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি হলো বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত করা। ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা মনে করেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের দেশের, বিশেষ করে ভারতের প্রভাব এখনো বিদ্যমান। তারা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে এই প্রভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতি হুঁশিয়ারি

শাহবাগের সমাবেশ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি সরাসরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যদি শহীদ হাদি হত্যার বিচারের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান এবং কার্যকর পদক্ষেপ না নেন, তবে তারা তাকে মানবেন না।

তিনি বলেন, “আমরা ইনসাফের লড়াইয়ে নেমেছি। এখানে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। যদি সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে ছাত্র-জনতা তাদের নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে।”

মিডিয়ার ভূমিকা ও অপপ্রচার নিয়ে ক্ষোভ

বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল মিডিয়ার ভূমিকার সমালোচনা। আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, দেশের কিছু গণমাধ্যম ভুল তথ্য প্রচার করে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “কিছু মিডিয়া প্রচার করছে যে ইনকিলাব মঞ্চ ‘যমুনা ভবন ঘেরাও’ করার পরিকল্পনা করছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য। আমাদের আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হিসেবে দেখানোর জন্যই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”

তিনি সাধারণ জনগণ এবং কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল পেজ বা দায়িত্বশীল নেতাদের থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো মিডিয়ার খবরের ওপর অন্ধভাবে ভরসা করবেন না। আমাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং ন্যায়ের পক্ষে।”

ছাত্র-জনতার শপথ

শনিবার রাতের শাহবাগের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত আবেগঘন এবং উত্তপ্ত। বক্তৃতার এক পর্যায়ে আবদুল্লাহ আল জাবের নিজের এবং সহযোদ্ধাদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাদের ক্রমাগত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা এসব হুমকিতে ভীত নন।

তিনি বলেন, “আমরা মৃত্যুকে ভয় পাই না। বুকে ‘শাহাদাতের তামান্না’ নিয়ে রাজপথে নেমেছি। ইনসাফ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।”

উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “যদি আমরা শহীদ হয়ে যাই, আপনারা কি ইনসাফের এই লড়াই থামিয়ে দেবেন?” উত্তরে উপস্থিত হাজারো ছাত্র-জনতা সমস্বরে চিৎকার করে বলেন, “না!” জনতার এই উত্তাল সমর্থনে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ধৃড় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আগামীকালের প্রস্তুতি ও জনদুর্ভোগ প্রসঙ্গ

যেহেতু রবিবার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস এবং আটটি বিভাগীয় শহরে একযোগে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ চলবে, তাই সাধারণ মানুষের চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা বলছেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে এই সাময়িক অসুবিধাটুকু মেনে নেওয়ার জন্য তারা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং জরুরি পরিষেবার গাড়িগুলো অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে। তবে সাধারণ যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।


শহীদ হাদি হত্যার বিচার এবং ভারতীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের এই কর্মসূচি দেশের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। রবিবার সরকার এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে কতটা অনড় থাকেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এটা নিশ্চিত যে, রবিবার দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে এক বড় ধরনের শো-ডাউন হতে যাচ্ছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!