কানাডার টরন্টোতে হিমাংশী খুরানা নামে ৩০ বছর বয়সী এক ভারতীয় নারী নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ৩২ বছর বয়সী আবদুল গফুরির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে স্থানীয় পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি টরন্টোর প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিখোঁজ সংবাদের পর মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে টরন্টোর স্ট্রাচান অ্যাভিনিউ ও ওয়েলিংটন স্ট্রিট ওয়েস্ট এলাকা থেকে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার খবর পান তারা। এই খবরের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে। তল্লাশির পরদিন শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে একটি আবাসিক ভবনের ভেতর থেকে হিমাংশীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উদ্ধারকৃত মরদেহটি নিখোঁজ হওয়া সেই নারীরই।
সন্দেহভাজন খুনি আবদুল গফুরি
প্রাথমিক তদন্ত শেষে টরন্টো পুলিশের তদন্ত ইউনিট জানিয়েছে, হিমাংশী ও আবদুল গফুরি একে অপরের পূর্বপরিচিত ছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিপি২৪ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, তারা দুজন ‘ইন্টিমেট পার্টনার রিলেশনশিপ’ বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন। হিমাংশীকে হত্যার পর থেকেই আবদুল গফুরি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ গফুরির ছবি প্রকাশ করে জনসাধারণের কাছে তার অবস্থান জানাতে বিশেষ আবেদন জানিয়েছে। তবে গফুরি কোন দেশের নাগরিক, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতীয় কনস্যুলেটের প্রতিক্রিয়া
হিমাংশী খুরানা নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে টরন্টোর ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখছে এবং মরদেহ দেশে পাঠানোসহ সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে।
তদন্তে টরন্টো পুলিশ
পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমরা সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছি এবং এটি নিয়ে তদন্ত গুরুত্বের সাথে চলছে। জনসাধারণের কাছে আমাদের অনুরোধ, যদি কেউ আবদুল গফুরির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তবে দেরি না করে পুলিশকে খবর দিন।” এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা।
সূত্র: এনডিটিভি, সিপি২৪ নিউজ।








