আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহণ খাতে। ১৮ মার্চ থেকে সরকারি ছুটি শুরু হতে যাওয়ায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়বে, কিন্তু পর্যাপ্ত তেলের অভাবে ঈদযাত্রা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবহণ খাতে স্থবিরতার আশঙ্কা
পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের মতে, বাস, ট্রাক ও লঞ্চ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও এখন পর্যন্ত বড় কোনো ট্রিপ বাতিল হয়নি, তবে তেলের জন্য পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
- বাস মালিকদের উদ্বেগ: ঢাকা থেকে ফেরার পথে তেলের প্রাপ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। মহাখালী বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব পাম্পে তেল মিলছে না।
- ট্রাক ও পণ্য পরিবহণ: বাজারের নিত্যপণ্য পরিবহণের প্রধান মাধ্যম ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। তেল সংকটে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হলে বাজারে জিনিসপত্রের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পাম্পে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি
ঢাকার আশপাশের পাম্পগুলোতে তেল নিতে আসা যানবাহনের লাইন ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় চালকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মনির তালুকদার জানান, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক চালক ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন, যার ফলে দূরপাল্লার রুটে যেতে অনীহা প্রকাশ করছেন অনেকে।
নৌপথেও তেলের হাহাকার
জ্বালানি সংকটের আঁচ লেগেছে নৌপথেও। যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো চাহিদামতো ডিজেল পাচ্ছে না।
- লঞ্চ মালিকদের বক্তব্য: সুন্দরবন-১৫ লঞ্চের ম্যানেজার জানান, ঢাকা-পটুয়াখালী রাউন্ড ট্রিপের জন্য ৪,৪০০ লিটার তেল প্রয়োজন হলেও পাওয়া গেছে মাত্র ৩,৪০০ লিটার। মাঝপথে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে অনেক মালিক লঞ্চ ছাড়তে সাহস পাচ্ছেন না।
- বিআইডব্লিউটিএ-এর অবস্থা: সরকারি এই সংস্থার সক্ষমতা ২১ লাখ লিটার হলেও বর্তমানে মজুদ আছে মাত্র ৫-৬ লাখ লিটার। ড্রেজার ও উদ্ধারকারী জাহাজ পরিচালনা করাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ারও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরকারের আশ্বাস ও বাস্তব চিত্র
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম জানিয়েছেন, সরকার তাদের আশ্বস্ত করেছে যে ঈদের আগে-পরে তেলের কোনো সংকট হবে না। তবে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির সমাধান না হলে বড় ধরনের কর্মসূচি বা অবস্থান পরিষ্কার করার কথা ভাবছেন পরিবহণ নেতারা।
ঈদযাত্রায় ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে সরকার ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ মানুষ। তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।








