ফেব্রুয়ারি মাস বাংলাদেশে এক অদ্ভুত সুন্দর সন্ধিক্ষণ। এটি শীতের বিদায় এবং বসন্তের আগমনের মাস। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মাঘ মাসের শেষ এবং ফাল্গুনের শুরু হয় এই সময়ে। যারা “ফেব্রুয়ারি মাসের আবহাওয়া” বা “February Weather in Bangladesh” লিখে খোঁজ করছেন, তাদের জন্য এই মাসটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হোক সেটা কৃষিকাজ, ভ্রমণ পরিকল্পনা কিংবা দৈনন্দিন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তাপমাত্রা (temperature in february 2026) কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা যেতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীতের স্থায়িত্ব কমে আসা এবং হঠাত বৃষ্টির প্রবণতা এই মাসের আবহাওয়াকে কিছুটা আনপ্রেডিক্টেবল বা অনিশ্চিত করে তোলে। এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের আবহাওয়া প্রতিটি দিক তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, কৃষি ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব বিস্তারিত আলোচনা করব।
একনজরে ফেব্রুয়ারি মাসের আবহাওয়া
ফেব্রুয়ারি মাসের আবহাওয়া বোঝা সহজ করতে নিচে একটি সাধারণ ডেটা টেবিল দেওয়া হলো। এটি গত ৫ বছরের গড় আবহাওয়া এবং ২০২৬ সালের পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
| আবহাওয়া | অবস্থা/পরিমাপ (গড়) | মন্তব্য |
| সর্বোচ্চ তাপমাত্রা | ২৬° সে. – ২৯° সে. | মাসের শেষের দিকে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে। |
| সর্বনিম্ন তাপমাত্রা | ১২° সে. – ১৫° সে. | মাসের শুরুতে উত্তরাঞ্চলে ১০° এর নিচে নামতে পারে। |
| বৃষ্টিপাত | ১৫ মি.মি. – ৩০ মি.মি. | পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আকস্মিক বৃষ্টি হতে পারে। |
| আর্দ্রতা | ৫৫% – ৬৫% | বাতাস বেশ শুষ্ক থাকে, ধুলোবালির প্রকোপ বাড়ে। |
| সূর্যোদয় | ভোর ৬:৩৫ – ৬:২০ | দিন ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। |
| ঋতু | শীত ও বসন্তের মিশ্রণ | ১৪ ফেব্রুয়ারির পর বসন্তের বাতাস শুরু হয়। |
বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারি মাসের আবহাওয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্য
ফেব্রুয়ারি মাসকে আবহাওয়াবিদরা “ট্রানজিশন পিরিয়ড” বা রূপান্তরকালীন সময় বলে থাকেন। এই সময়ের আবহাওয়ার প্রধান কিছু বৈশিষ্ট্য নিচে আলোচনা করা হলো:
শীতের বিদায় ও বসন্তের আগমন
ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাংলাদেশে শীতের আমেজ ভালোভাবেই থাকে, বিশেষ করে গ্রামবাংলায়। মাঘ মাসের শেষদিকের এই শীতকে বলা হয় “মাঘের শীত বাঘের গায়ে”। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারির পর বা ফাল্গুন মাসের শুরু থেকে বাতাস দিক পরিবর্তন করতে শুরু করে। উত্তরের হিমেল হাওয়া কমে গিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করে, যা বসন্তের আগমন বার্তা দেয়। এ সময় দিনের বেলা রোদের তেজ বাড়ে, কিন্তু ছায়ায় দাঁড়ালে আরাম অনুভব হয়।
দিনের ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য
ফেব্রুয়ারি মাসের আবহাওয়ার (february month temperature) অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো দিন ও রাতের তাপমাত্রার বিশাল ব্যবধান।
- দিনের বেলা: সূর্য বেশ উজ্জ্বল থাকে এবং তাপমাত্রা ২৭-২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। গায়ে হালকা গরম কাপড় রাখলে অস্বস্তি লাগতে পারে।
- রাতের বেলা: সূর্য ডোবার পর তাপমাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। শেষ রাতে তাপমাত্রা ১৩-১৪ ডিগ্রিতে নেমে আসে। এই তারতম্যের কারণে শরীর মানিয়ে নিতে হিমশিম খায়, যা সর্দি-কাশির প্রধান কারণ।

অঞ্চলভেদে আবহাওয়ার তারতম্য
বাংলাদেশ ছোট দেশ হলেও এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফেব্রুয়ারি মাসে অঞ্চলভেদে আবহাওয়ার ভিন্নতা দেখা যায়।
উত্তরাঞ্চলের শীত ও কুয়াশা পরিস্থিতি
রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হতে পারে। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে কুয়াশার দাপট বেশি থাকে।
- তাপমাত্রা: এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮° থেকে ১০° সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
- কুয়াশা: ঘন কুয়াশার কারণে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা নাও মিলতে পারে, যা যান চলাচল ও জনজীবন ব্যাহত করে।
ঢাকা ও মধ্যাঞ্চলের আবহাওয়া
ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর অঞ্চলে ফেব্রুয়ারি মাস বেশ আরামদায়ক। এখানে তীব্র শীত থাকে না, আবার গরমও পড়ে না। তবে ঢাকায় এই মাসে বায়ুদূষণ ও ধুলোবালির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে শহরের বাতাসে ধূলিকণা ওড়ে, যা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বিপজ্জনক।
দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার আবহাওয়া
বরিশাল, খুলনা, পটুয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চলে শীতের প্রভাব ফেব্রুয়ারিতে দ্রুত কমে যায়। সমুদ্রের কাছাকাছি হওয়ায় এখানকার বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ে। দুপুরের দিকে বেশ গরম অনুভূত হতে পারে। তবে ভোররাতে নদী তীরবর্তী এলাকায় হালকা কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস থাকে।
পাহাড়ি এলাকা ও পর্যটন কেন্দ্রের আবহাওয়া
ফেব্রুয়ারি মাসে যারা সাজেক ভ্যালি, বান্দরবান বা রাঙ্গামাটি ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি সেরা সময়।
- পাহাড়ি আবহাওয়া: পাহাড়ে দিনের বেলা রোদ থাকলেও রাতে তাপমাত্রা সমতলের চেয়ে অনেক কমে যায় (১০-১২° সে.)।
- মেঘ ও কুয়াশা: সাজেকে ভোরে মেঘের ভেলা দেখার জন্য ফেব্রুয়ারি আদর্শ সময়। তবে বিকেলের পর পাহাড়ি রাস্তায় ঘন কুয়াশা নামতে পারে, তাই সাবধানে গাড়ি চালানো জরুরি।
ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা
অনেকেই ভাবেন শীতকালে বৃষ্টি হয় না, কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল থাকে। একে বলা হয় “অকাল বৃষ্টি” বা “মাঘের বৃষ্টি”।
পশ্চিমা লঘুচাপ ও অকাল বৃষ্টির প্রভাব
আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে পুবালি বাতাস ও পশ্চিমা লঘুচাপের সংমিশ্রণ ঘটে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই বৃষ্টি শীতকে কয়েক দিনের জন্য বাড়িয়ে দিতে পারে।
বজ্রসহ শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা
মাসের শেষদিকে, অর্থাৎ ফাল্গুনের শুরুতে কালবৈশাখীর পূর্বলক্ষণ হিসেবে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। হঠাৎ আকাশ কালো করে ঝড়ো হাওয়া এবং শিলাবৃষ্টি ফসলের, বিশেষ করে আম ও গমের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে। ২০২৬ সালের আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষি ও অর্থনীতিতে ফেব্রুয়ারির আবহাওয়ার প্রভাব
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ, আর ফেব্রুয়ারি মাস কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বোরো ধান রোপণ এবং রবি শস্য তোলার সময় এটি।
বোরো ধান ও গমের জন্য আবহাওয়া সতর্কতা
- বোরো ধান: ফেব্রুয়ারির তাপমাত্রা বোরো ধানের চারা রোপণ ও বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। তবে তাপমাত্রা যদি হঠাত ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে যায় বা অতিরিক্ত মেঘলা আকাশ থাকে, তবে চারার বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।
- গম: গমের জন্য দীর্ঘস্থায়ী শীত প্রয়োজন। ফেব্রুয়ারিতে হঠাত তাপমাত্রা বেড়ে গেলে গমের দানা অপুষ্ট হতে পারে। কৃষকদের নিয়মিত জমিতে সেচ নিশ্চিত করতে হবে।
আম ও লিচুর মুকুলের ওপর আবহাওয়ার প্রভাব
ফেব্রুয়ারি মাসেই আম ও লিচুর গাছে মুকুল আসে। এই সময়ের আবহাওয়া ফলন নির্ধারণ করে।
- কুয়াশা: অতিরিক্ত কুয়াশা মুকুলের জন্য ক্ষতিকর। কুয়াশায় ‘পাউডারি মিলডিউ’ রোগের আক্রমণ হতে পারে।
- বৃষ্টি: হালকা বৃষ্টি মুকুল ধুয়ে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, কিন্তু শিলাবৃষ্টি মুকুল ঝরিয়ে দেয়। কৃষিবিদদের পরামর্শ হলো, কুয়াশা বেশি থাকলে ভোরে মুকুলে পানি স্প্রে করা এবং ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা।
স্বাস্থ্য সতর্কতা ও জীবনযাত্রা
আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময়ে শরীর খাপ খাওয়াতে পারে না, ফলে রোগবালাই বাড়ে। সুস্থ থাকতে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
ঋতু পরিবর্তনের সময় সাধারণ রোগবালাই ও প্রতিকার
ফেব্রুয়ারি মাসে দিন গরম এবং রাত ঠান্ডা হওয়ার কারণে “ভাইরাল ফিভার” বা ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ বাড়ে।
- রোগবালাই: সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা।
- প্রতিকার: প্রচুর পানি পান করা, ভিটামিন সি যুক্ত ফল খাওয়া এবং ধুলোবালি থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহার করা।
শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ যত্ন
পরিবারের শিশু ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে।
- শিশুদের ঘাম যেন শরীরে না বসে সেদিকে খেয়াল রাখুন। সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় হালকা জ্যাকেট বা সোয়েটার পরান।
- বয়স্কদের ত্বকের রুক্ষতা বাড়ে, তাই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের এই সময় বিশেষ সাবধানে থাকতে হবে।
ফেব্রুয়ারিতে ভ্রমণের প্রস্তুতি ও পোশাক নির্বাচন
ফেব্রুয়ারি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য প্রিয় মাস।
- কোথায় যাবেন: সেন্টমার্টিন দ্বীপ (সমুদ্র শান্ত থাকে), সুন্দরবন, কক্সবাজার, শ্রীমঙ্গল বা সিলেটের চা বাগান।
- পোশাক: খুব ভারী জ্যাকেটের প্রয়োজন নেই। ফুল হাতা টি-শার্ট, হুডি, পাতলা সোয়েটার বা উইন্ড-চিটার জ্যাকেট সাথে রাখা ভালো। লেয়ারিং পদ্ধতি (একাধিক পাতলা কাপড়) ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।

জলবায়ু পরিবর্তন: আগের বছরের সাথে বর্তমানের তুলনা
বিগত কয়েক দশকের তুলনায় বর্তমানে ফেব্রুয়ারি মাসের আবহাওয়া বদলে গেছে।
কেন ফেব্রুয়ারি মাসেও গরম অনুভূত হচ্ছে?
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এর প্রভাবে শীতকাল সংকুচিত হচ্ছে।
- শীতের স্থায়িত্ব হ্রাস: আগে যেখানে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস শীত থাকত, এখন মাসের মাঝামাঝেই ফ্যান চালাতে হয়।
- এল নিনো (El Niño): যেসব বছর এল নিনোর প্রভাব থাকে, সেসব বছর ফেব্রুয়ারিতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১-২ ডিগ্রি তাপমাত্রা বেশি থাকে। ২০২৬ সালে আবহাওয়ায় চরম ভাবাপন্ন লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যেমন হঠাত তীব্র শীত বা হঠাত গরম।
ফেব্রুয়ারি মাসের আবহাওয়া (february month weather 2026) মানেই পরিবর্তনের খেলা। শীতের বিদায়বেলায় প্রকৃতির এই রূপ যেমন উপভোগ্য, তেমনি অসতর্ক থাকলে তা ভোগান্তির কারণও হতে পারে। ২০২৬ সালে আপনি যদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন বা কৃষিকাজের সাথে যুক্ত থাকেন, তবে আবহাওয়া বার্তা নিয়মিত চেক করা জরুরি।
আমাদের পরামর্শ:
- বাইরে বের হওয়ার আগে স্মার্টফোনের ওয়েদার অ্যাপ চেক করুন।
- ধুলোবালি থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহার করুন।
- কৃষকরা কৃষি তথ্য সার্ভিসের (১৬১২৩) সাহায্য নিন।
ফেব্রুয়ারির এই মিষ্টি রোদ আর ফাল্গুনের হাওয়া আপনার জীবনে নতুন সজীবতা নিয়ে আসুক এই কামনাই রইল।
ফেব্রুয়ারি মাসের আবহাওয়া ২০২৬ সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: ফেব্রুয়ারি মাসে কি বাংলাদেশে খুব বেশি শীত থাকে?
উত্তর: সাধারণত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে মৃদু থেকে মাঝারি শীত থাকে। তবে ১৫ তারিখের পর থেকে শীত দ্রুত কমতে শুরু করে এবং দিনের বেলা বেশ উষ্ণতা অনুভূত হয়। উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি থাকে।
প্রশ্ন: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটুকু?
উত্তর: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে মাসের মাঝামাঝি ও শেষ দিকে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে মাঘের শেষে বা ফাল্গুনের শুরুতে এই বৃষ্টি হতে পারে।
প্রশ্ন: ফেব্রুয়ারি মাসে কি সেন্টমার্টিন যাওয়া নিরাপদ?
উত্তর: হ্যাঁ, ফেব্রুয়ারি মাসে আবহাওয়া সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য সেরা সময়। এ সময় সাগর শান্ত থাকে এবং আবহাওয়া খুব মনোরম থাকে।
প্রশ্ন: এই মাসে দিনের তাপমাত্রা কত ডিগ্রি থাকে?
উত্তর: ফেব্রুয়ারি মাসে দিনের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৬° থেকে ২৯° সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকে।
প্রশ্ন: ফেব্রুয়ারিতে কেমন পোশাক পরা উচিত?
উত্তর: এই মাসে খুব ভারী শীতের কাপড়ের প্রয়োজন নেই। হালকা সোয়েটার, ফুল হাতা টি-শার্ট, কার্ডিগান বা হুডি পরা যেতে পারে। সকালে এবং রাতে হালকা শীতবস্ত্র এবং দুপুরে সুতি কাপড় আরামদায়ক।
প্রশ্ন: কৃষকদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের প্রধান সতর্কতা কী?
উত্তর: কৃষকদের জন্য প্রধান সতর্কতা হলো শিলাবৃষ্টি এবং কুয়াশা। বোরো ধানের বীজতলা এবং আমের মুকুল রক্ষায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস মেনে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নিয়মিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হতে পারে।
প্রশ্ন: ফেব্রুয়ারি মাসে কক্সবাজারের আবহাওয়া কেমন থাকে?
উত্তর: কক্সবাজারে ফেব্রুয়ারিতে আবহাওয়া অত্যন্ত আরামদায়ক থাকে। তাপমাত্রা ২০°-২৮° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। বিচে ঘোরার জন্য এটি আদর্শ সময়, কারণ রোদের তাপ মার্চ-এপ্রিলের মতো তীব্র থাকে না।
প্রশ্ন: শিশুদের জন্য ফেব্রুয়ারিতে কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে?
উত্তর: তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে শিশুদের নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, সর্দি-কাশি এবং টনসিলের সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও ধুলাবালি থেকে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রশ্ন: সাজেক ভ্যালিতে ফেব্রুয়ারিতে কি মেঘ দেখা যায়?
উত্তর: শীতের শেষে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির ভোরে সাজেকে মেঘের সাগর দেখার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। তবে দুপুরের পর আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। মেঘ দেখতে হলে খুব ভোরে উঠতে হবে।
প্রশ্ন: ফাল্গুনের আবহাওয়া কবে থেকে শুরু হয়?
উত্তর: বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৪ বা ১৫ ফেব্রুয়ারি পহেলা ফাল্গুন পালিত হয়। আবহাওয়াগত ভাবে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ফাল্গুনের বাতাস বা বসন্তের আমেজ শুরু হয়ে যায়।








