বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এক বিশাল ‘যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা’ তৈরি করছে ইউরোপীয় দেশগুলো। তবে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই বড় জোটে আপাতত যুক্তরাষ্ট্রকে রাখা হচ্ছে না। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক জোট ও ইউরোপের নতুন কৌশল
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই জোটের মূল লক্ষ্য হবে যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই মিশনে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই সামনে এগোতে চায় ইউরোপ।
‘আন্তর্জাতিক রক্ষণাত্মক মিশন’
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই উদ্যোগ সম্পর্কে ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, এই মিশনটি হবে সম্পূর্ণ ‘রক্ষণাত্মক’। তার মতে, এই জোটে কোনো ‘যুদ্ধরত পক্ষকে’ রাখা হবে না। এর সরাসরি অর্থ দাঁড়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং ইরান এই জোটের অংশ হতে পারবে না। মূলত নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব ও বর্তমান সংকট
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ পথ। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনার কারণে এই জলপথটি বারবার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেল ও পণ্য পরিবহন। ইউরোপ মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রকে এই মিশনে রাখলে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে, তাই তারা একটি বিকল্প ও স্বাধীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে চায়।
আলজাজিরার তথ্যসূত্র
ইউরোপের এই পরিকল্পনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরাও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ইউরোপীয় শক্তিগুলো এখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপের এই একক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলো কতটা সফলভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।








