দীর্ঘ ১৫ বছর পর এক নতুন অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এবার রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কথা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানোর পথ তৈরি হলো।
কবে এবং কখন ভাষণ দেবেন মামুনুল হক ও নাহিদ ইসলাম
বিটিভি সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই এই বিশেষ ভাষণ সম্প্রচার শুরু হচ্ছে। প্রথম দিনেই দেশের আলোচিত দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভাষণ প্রচার করা হবে।
- মামুনুল হক (আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস): রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে তার ভাষণ প্রচারিত হবে।
- নাহিদ ইসলাম (আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি): একই দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে তার ভাষণ প্রচারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিটিভির এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর বিরোধী দলগুলোর নেতারা রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তি ফিরেছে।
তারেক রহমান ও ডা. শফিকুর রহমানের ভাষণের সূচি
পরদিন অর্থাৎ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ভাষণের দিন ধার্য করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী:
- ডা. শফিকুর রহমান (আমির, জামায়াতে ইসলামী): ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে তিনি জাতির উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন।
- তারেক রহমান (চেয়ারম্যান, বিএনপি): একই দিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে তার ভাষণটি বিটিভিতে সম্প্রচার করা হবে।
তারেক রহমানের ভাষণ ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বিটিভির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে এই ৪টি দলের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে অন্য কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আবেদন করলে তাদের জন্যও সময় বরাদ্দ করার পরিকল্পনা রয়েছে বিটিভির।
গণমাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংস্কার ও নতুন নিয়ম
বিটিভির ইতিহাসে এর আগে ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের সময় এমন সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো এই রাষ্ট্রীয় সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। ৫ আগস্টের পর গণমাধ্যমের যে নীতিগত পরিবর্তন হয়েছে, এটি তারই একটি বড় বহিঃপ্রকাশ।
বিটিভির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা চাইছি প্রতিটি নিবন্ধিত দল যেন তাদের নির্বাচনী ইশতেহার জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে পারে। আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সবার জন্য সময় বরাদ্দ করছি।”
নির্বাচনী আমেজ ও জনমনে প্রত্যাশা
ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে এই ভাষণগুলো ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা যারা আগে কখনো রাষ্ট্রীয় চ্যানেলে বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য শোনেননি, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।
আপনার প্রিয় নেতার ভাষণ মিস করতে না চাইলে চোখ রাখুন বিটিভির পর্দায়।








