বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য বছরের শেষটা হতে যাচ্ছে বেশ রোমাঞ্চকর। চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে যাবে টাইগাররা। এই সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে এবং তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ক্রিকেট প্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই সিরিজের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)।
ব্যস্ত সূচির মাঝে টাইগারদের চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আমেজ চললেও দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের ঘরের মাঠের ব্যস্ত সূচি নিয়ে পরিকল্পনা সেরে ফেলেছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তারা ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজ খেলবে। সেই হাই-ভোল্টেজ সিরিজের ধকল কাটিয়েই তারা মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের। অন্যদিকে, কন্ডিশন বিবেচনায় দক্ষিণ আফ্রিকার গতিময় পিচে বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য এটি হবে বড় এক পরীক্ষা।
টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু হবে লড়াই
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার এই সফরের পর্দা উঠবে সাদা পোশাকের লড়াই দিয়ে। এই সিরিজটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্ট টেবিলের লড়াইয়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রথম টেস্ট: ১৫ নভেম্বর শুরু হবে জোহানেসবার্গে।
- দ্বিতীয় টেস্ট: ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের সময়সূচি
টেস্টের লড়াই শেষ করেই দুই দল সাদা বলের ক্রিকেটে মেতে উঠবে। বিশেষ করে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই ওয়ানডে সিরিজটি প্রোটিয়াদের জন্য প্রস্তুতির বড় মঞ্চ।
ওয়ানডে সিরিজের তারিখ:
১. প্রথম ওয়ানডে: ১ ডিসেম্বর
২. দ্বিতীয় ওয়ানডে: ৪ ডিসেম্বর
৩. তৃতীয় ওয়ানডে: ৭ ডিসেম্বর
ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হবে টি-টোয়েন্টির ধামাকা। ১০ থেকে ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে এই সফরের ইতি ঘটবে।
কী বলছেন সিএসএ প্রধান
ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নির্বাহী ফোলেতসি মোসেকি এই সিরিজ নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে আতিথ্য দিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। মোসেকির মতে, প্রতিটি ওয়ানডে সিরিজই ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তাদের দলের শক্তির গভীরতা যাচাই করার সুযোগ। তারা কেবল আয়োজক হিসেবে নয়, বরং চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে চান।
টাইগারদের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা
বিদেশের মাটিতে বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে বাংলাদেশের রেকর্ড খুব একটা সুখকর নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পেস বোলিং ইউনিটের উন্নতি টাইগার সমর্থকদের মনে আশার আলো দেখাচ্ছে। তাসকিন, শরীফুল ও তানজিম সাকিবদের হাত ধরে প্রোটিয়াদের মাটিতে নতুন কোনো ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে বছরের শেষ দিকে ক্রিকেট প্রেমীরা যে একটি টানটান উত্তেজনার সিরিজ দেখতে যাচ্ছেন, তা বলাই বাহুল্য।








