অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ উপকূলে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। একটি ছোট বিমান যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সরাসরি সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলটসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরের নিকটবর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কোথায় এবং কীভাবে ঘটলো এই দুর্ঘটনা?
অস্ট্রেলিয়া পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের রাজধানী অ্যাডিলেড থেকে প্রায় ৬৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বন্দর শহর গুলওয়া সাউথের কাছে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি লং বে এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সমুদ্রের পানিতে আছড়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানটি সমুদ্রের দিকে তীব্র গতিতে সামনের দিক হয়ে আছড়ে পড়ছে। সেই ভিডিওটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেখে নেটিজেনরা শিউরে উঠছেন।
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতি
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই অস্ট্রেলিয়ার উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ জানায়, বিমানের ভেতর থেকে পাইলটসহ আরও দুই আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বিমানের ধ্বংসাবশেষ টেনে তীরে নিয়ে আসা হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে বিমানে থাকা তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত
বিমানটি কেন এবং কীভাবে বিধ্বস্ত হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে ‘অস্ট্রেলিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেইফটি ব্যুরো’ (ATSB)। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করছেন। প্রাথমিক তদন্তে যান্ত্রিক ত্রুটির আশঙ্কা করা হলেও, প্রকৃত কারণ জানতে ব্ল্যাক বক্স ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ জানায়, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় সমুদ্র তীরে অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিমানটি যখন ওপর থেকে পড়ছিল, তখন এর ইঞ্জিনে কোনো গোলমাল বা অস্বাভাবিক শব্দ শোনা গিয়েছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি পানির গভীরে তলিয়ে যায়।
সাধারণত ব্যক্তিগত সফরের জন্য ব্যবহৃত এই ছোট বিমানটি অ্যাডিলেড থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে উড্ডয়নের কতক্ষণ পর এটি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে তা এখনো অস্পষ্ট।
সূত্র: রয়টার্স








