ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি অস্থিরতার মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বৃহৎ একটি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে ভিক্টোরিয়া ফায়ার রেসকিউ সার্ভিসের ডেপুটি কমিশনার মিশেল কাউলিং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে জিলং (Geelong) শহরে অবস্থিত এই শোধনাগারটিতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপরই দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। প্রাথমিক তদন্তে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দমকল বাহিনীর দীর্ঘ প্রচেষ্টায় বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ
অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে সচল থাকা মাত্র দুটি তেল শোধনাগারের মধ্যে এই জিলং শোধনাগারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেছেন, “এটি কোনো ইতিবাচক খবর নয়।” উৎপাদনে বড় কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার ফলে স্থানীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট ও অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রয়োজনীয় পরিশোধিত জ্বালানির প্রায় ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার বড় একটি অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ইরান যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন নাজুক সময়ে দেশের অভ্যন্তরে শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জিলং শোধনাগারটি অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে যদি উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ থাকে, তবে কেবল অস্ট্রেলিয়া নয়, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।








