দুর্নীতির অভিযোগ ও ব্যাংক হিসাব তলবের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের এবং পরিবারের যাবতীয় সম্পত্তির হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
কেন এই সংবাদ সম্মেলন
গত সোমবার (২ মার্চ) বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করে দেশের ৫৬টি ব্যাংকে চিঠি পাঠায়। এরপর থেকেই বিভিন্ন মহলে তার সম্পদ নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। আসিফ মাহমুদ জানান, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের কথা ওঠার পর থেকেই একটি নির্দিষ্ট পক্ষ তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তিনি নিজেই সব তথ্য পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য
সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ তার স্যালারি অ্যাকাউন্ট ও সেভিংস অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্যমতে:
- সোনালী ব্যাংক (সেভিংস অ্যাকাউন্ট): বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টে জমা আছে মাত্র ৯ হাজার ৯৩০ টাকা।
- স্যালারি অ্যাকাউন্ট: ১৬ মাস উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বেতন, ভাতা এবং সরকারি ৫টি বিদেশ সফরের টিএ-ডিএ এই অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।
- মোট আয় ও ব্যয়: সরকারে যোগ দেওয়ার আগে তার অ্যাকাউন্টে ছিল ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মোট জমা হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এর মধ্যে তিনি উত্তোলন করেছেন ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা।
- বর্তমান ব্যালেন্স: বর্তমানে তার মূল অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা।
পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের চিত্র
আসিফ মাহমুদ শুধু নিজের নয়, বরং তার বাবা, মা এবং স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করেন। তিনি দেখান যে, তার পরিবার কোনো বিলাসিতার মধ্যে নেই বরং ঋণের চাপে রয়েছে।
১. বাবার ব্যাংক হিসাব ও ঋণ
আসিফ মাহমুদ জানান, তার বাবার ৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১১ টাকা রয়েছে। তবে এর বিপরীতে তার বাবার ১০ লাখ টাকার একটি ‘সার্ভিস লোন’ রয়েছে, যা প্রতি মাসে বেতন থেকে কেটে নেওয়া হয়। এখনো ঋণের ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা বাকি। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে তার বাবা এখনো ৮২ হাজার ৪৫ টাকা দেনায় রয়েছেন।
২. মা ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব
পরিবারের অন্য সদস্যদের অবস্থা আরও সাধারণ। তার মায়ের অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা এবং স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে রয়েছে মাত্র ৬১৩ টাকা।
আসিফ মাহমুদের বক্তব্য: “যারা বিগত সময়ে আমাদের ওপর মনোক্ষুণ্ন হয়েছেন এবং আওয়ামী লীগের যারা এখনো সক্রিয়, তারাই এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন। ব্যাংক হিসাব তলব করে একটি রহস্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছিল, তাই আমি নিজেই সবকিছু পরিষ্কার করে দিলাম।”
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
আসিফ মাহমুদ মনে করেন, তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এই হিসাব তলবের বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি যখন দায়িত্ব ছাড়লাম, তখন কেউ কোনো কথা বলেনি। কিন্তু এখন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আলোচনা আসতেই এসব শুরু হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, একটি বিশেষ দল হীন উদ্দেশ্যে এই বিষয়টিকে বড় করে প্রচার করছে।
জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করা স্বচ্ছ রাজনীতির একটি বড় অংশ। আসিফ মাহমুদ নিজে থেকে এই তথ্য প্রকাশ করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা। এখন বিএফআইইউ-এর তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, সেটাই দেখার বিষয়।








