আজকের তথ্যের যুগে দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন পাওয়াকে আমরা অনেকেই কঠিন এক লক্ষ্য বলে মনে করি। দীর্ঘায়ু পাওয়ার জন্য আমরা ইন্টারনেটে কত ধরনের ডায়েট, ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যগত পরামর্শ খুঁজে থাকি। তবে আয়ু বাড়াতে এত বিভ্রান্তির একদম প্রয়োজন নেই। হৃদ্রোগ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের কিছু ভালো শখ ও ছোট ছোট সাধারণ অভ্যাসই আয়ু বহুগুণ বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, নির্দিষ্ট কিছু চমৎকার কর্মকাণ্ডে নিয়মিত অংশগ্রহণ করলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। সহজ কথায়, দীর্ঘ জীবনের এই রহস্যকে প্রধানত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায় শারীরিক সক্রিয়তা, মানসিক বা মস্তিষ্কের চর্চা এবং সামাজিক যোগাযোগ। চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক দীর্ঘায়ু লাভের উপায় হিসেবে এই তিন চাবিকাঠি কীভাবে কাজ করে।
১. শরীরকে সক্রিয় রাখা (Physical Activity)
দীর্ঘ জীবন পাওয়ার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি হলো শরীরকে কোনো না কোনোভাবে সক্রিয় বা সচল রাখা। অলস জীবনযাপন হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এমন কোনো শখ বেছে নেওয়া উচিত, যা শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।
সেরা কিছু শারীরিক শখ
- প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে বা বিকেলে হাঁটা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানো।
- সাঁতার কাটা বা নিয়মিত বাগান করা।
- গলফ, টেনিস, ব্যাডমিন্টন বা ফুটবল-ক্রিকেটের মতো বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নেওয়া।
একটি গবেষণায় প্রায় ১৮ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো বা সাইকেল চালানোর মতো শারীরিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন, তারা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি দিন বেঁচেছেন।
২. মস্তিষ্ককে সচল ও ব্যস্ত রাখা (Brain Engagement)
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শুধু শরীরের যত্ন নিলেই হয় না, সুস্থ থাকতে মস্তিষ্কের চর্চাও সমান জরুরি। মস্তিষ্ককে সচল রাখতে না পারলে স্মৃতিভ্রংশ বা আলঝেইমারের মতো মানসিকভাবে দুর্বল করার মতো রোগ বাসা বাঁধতে পারে।
মানসিক চর্চার জন্য যা করতে পারেন
- নিয়মিত নতুন নতুন বই পড়া ও লেখালেখি করা।
- ছবি আঁকা, ছবি তোলা বা নতুন কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখা।
- পাজল মেলাব, দাবা খেলা বা নতুন কোনো ভাষা শেখার চেষ্টা করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কাজের সাথে যুক্ত থাকলে মস্তিষ্ক সবসময় উদ্দীপিত থাকে এবং মানসিক চঞ্চলতা বজায় থাকে, যা দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
৩. অন্যদের সাথে যুক্ত হওয়া বা সামাজিক যোগাযোগ (Social Connection)
মানুষ একা বেঁচে থাকতে পারে না। দীর্ঘায়ুর তৃতীয় এবং অত্যন্ত কার্যকর চাবিকাঠি হলো সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখা। একা থাকা বা বিষণ্নতা মানুষের আয়ু কমিয়ে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
পরিবার, বন্ধু বা প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা এবং তাদের সাথে সময় কাটালে মন ভালো থাকে। মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে একা হাঁটার চেয়ে বন্ধুদের সাথে হাঁটতে যাওয়া বা কোনো সামাজিক ক্লাবে যুক্ত হয়ে খেলাধুলা করার উপকারিতা অনেক বেশি। এতে শারীরিক অনুশীলনের পাশাপাশি মানসিকভাবেও আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।
তিনটির মিশ্রণেই লুকিয়ে আছে আসল সাফল্য
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুস্থ থাকার জন্য এই তিনটি বিষয়ের একটি বেছে নেওয়া ভালো, দুটি বেছে নেওয়া আরও ভালো, আর তিনটি চাবিকাঠি একসঙ্গে নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারা সবচেয়ে ভালো।
যখন আপনি শারীরিক কাজ (যেমন: হাঁটা), মস্তিষ্কের চর্চা (যেমন: নতুন পথ খোঁজা) এবং সামাজিক যোগাযোগ (যেমন: বন্ধুদের সাথে গল্প করা) একসঙ্গে করবেন, তখন তা আপনার আয়ু ও স্বাস্থ্যের ওপর সবচেয়ে চমৎকার ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
দীর্ঘায়ু লাভ নিয়ে বাজারে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে, আপনার নিজের পছন্দের ও আনন্দদায়ক কাজগুলোকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানিয়ে নিন। নিজের শরীরকে সচল রাখুন, নতুন কিছু শিখুন আর মানুষের সাথে হাসিখুশি সময় কাটান। এই ৩টি সহজ নিয়ম মেনে চললেই কোনো কঠিন ওষুধ ছাড়াই পাওয়া সম্ভব দীর্ঘ ও সুস্থ এক সুন্দর জীবন!








