দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বছর নতুন সেশনে পুনঃভর্তি ফি (Readmission Fee) আদায়ের যে রেওয়াজ চলে আসছে, তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অহেতুক ও অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি অনুমোদিত ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নীতিমালা, ২০২৬’ (Financial Transparency and Accountability Guidelines for Educational Institutions)-এর নির্দেশনায় এই তথ্য স্পষ্ট করা হয়েছে।
নীতিমালায় স্পষ্ট যা বলা হয়েছে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও আর্থিক লেনদেনে শৃঙ্খলা আনতে তৈরি করা এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী একই প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা চালিয়ে গেলে পরবর্তী শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ার সময় তার কাছ থেকে কোনোভাবেই পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না।
অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতি বছর সেশন ফি বা ভর্তি ফি নামে মোটা অঙ্কের টাকা অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করত, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য ছিল এক বড় আর্থিক বোঝা। সরকারের নতুন এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বারবার ভর্তির নামে টাকা আদায়ের সুযোগ চিরতরে বন্ধ হলো।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক স্বচ্ছতা আনয়ন ও অভিভাবক নির্যাতন বন্ধ করা।
নীতিমালার মূল লক্ষ্যগুলো হলো:
- আর্থিক নিপীড়ন বন্ধ: সেশন পরিবর্তনের নামে প্রতি বছর অতিরিক্ত ফি আদায়ের অনৈতিক চর্চা বন্ধ করা।
- স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ: বিদ্যালয়ের সকল ধরনের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও ফি নির্ধারণে একটি সুনির্দিষ্ট ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো তৈরি করা।
- অভিভাবকদের সুরক্ষা: শিক্ষার খরচ সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখা এবং অযৌক্তিক খাতের ফি বাতিল করা।
অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা
নীতিমালায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, নির্দেশ অমান্য করে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় অব্যাহত রাখে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অভিভাবক ও সচেতন মহল সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে দেশের লাখ লাখ পরিবার আর্থিক মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাবে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।








