বিএনপির অন্যতম প্রধান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘কৃষক কার্ড’ এখন বাস্তব। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। পর্যায়ক্রমে দেশের ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে এই ডিজিটাল কার্ডের আওতায় আনা হবে।
কার্ড বিতরণের প্রথম ধাপ ও এলাকা
প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে প্রাক-পরীক্ষামূলকভাবে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে।
- যেসব জেলায় শুরু হয়েছে: টাঙ্গাইল, বগুড়া, পঞ্চগড়, ঝিনাইদহ, পিরোজপুর, কক্সবাজার, রাজবাড়ি, মৌলভীবাজার এবং জামালপুর।
- কুমিল্লা আপডেট: কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লকে এই কার্ড বিতরণ শুরু হবে আগামী ১৭ই এপ্রিল।
কারা পাবেন এই ‘কৃষি কার্ড’?
দেশের সব কৃষক পরিবারকে ৫টি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করে এই কার্ড প্রদান করা হচ্ছে:
১. ভূমিহীন: যাদের জমির পরিমাণ ৫ শতকের কম।
২. প্রান্তিক: ৫ থেকে ৪৯ শতক জমির মালিক।
৩. ক্ষুদ্র: ৫০ থেকে ২৪৯ শতক জমির মালিক।
৪. মাঝারি: ২৫০ থেকে ৭৪৯ শতক জমির মালিক।
৫. বড় কৃষক: যাদের ৭৫০ শতকের বেশি জমি রয়েছে।
তালিকায় কেবল শস্য উৎপাদনকারী কৃষকই নন, বরং মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং লবণচাষিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকছেন।
কৃষক কার্ডে কী কী সুবিধা থাকছে?
এই কার্ডটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি কৃষকদের জন্য একটি ‘ডিজিটাল ঢাল’ হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
- আর্থিক সহায়তা: ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা বছরে অন্তত আড়াই হাজার টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা পাবেন।
- উপকরণ কেনা: ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশক কেনার সুবিধা।
- সহজ ঋণ: কোনো জামানত ছাড়াই সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও কৃষি বিমা।
- প্রযুক্তিগত তথ্য: মোবাইলে বাজারের সঠিক দাম, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং ফসলের রোগ দমনের পরামর্শ।
- ডিজিটাল লেনদেন: ডিলারের কাছে থাকা POS মেশিনের মাধ্যমে কার্ড পাঞ্চ করে উপকরণ কেনা যাবে।
নগদ টাকা পাবেন যেভাবে
সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে একটি বিশেষ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। এটি মূলত একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। সরকার সরাসরি কৃষকের এই অ্যাকাউন্টে সহায়তার টাকা পাঠিয়ে দেবে, যা কৃষক তার প্রয়োজনমতো উত্তোলন করতে পারবেন।
পরবর্তী পরিকল্পনা
আগামী আগস্ট মাস থেকে শুরু হবে এই প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ বা পাইলটিং। এরপর তিন ধাপে আগামী ৪ বছরের মধ্যে সারা দেশের প্রতিটি কৃষকের ডাটাবেজ তৈরি করে তাদের হাতে স্মার্ট কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি ব্যবস্থায় এক আধুনিক ও ডিজিটাল যুগের সূচনা হলো। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সরকারি ভর্তুকির সুফল সরাসরি কৃষকের পকেটে পৌঁছাবে। দেশের অর্থনীতির প্রাণ কৃষকদের এই নতুন পথচলা সমৃদ্ধ আগামীর বার্তাই দিচ্ছে।








