হজ যাত্রীদের আর্থিক চাপ কমাতে বিমানভাড়া কমানোর বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী বছর হজের খরচ কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীতে হজ যাত্রীদের মাঝে ‘নুসুক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিমানভাড়া কমানোর পরিকল্পনা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার হজের খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে কাজ করছে। বিমানভাড়া সর্বনিম্ন যতটুকু না নিলেই নয়, ঠিক ততটুকুই নেওয়া হবে। এর ফলে আগামী বছর থেকে হজের মোট খরচ থেকে অন্তত ২০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হবে।
হজ ব্যবস্থাপনায় কঠোর হুঁশিয়ারি
হজ ব্যবস্থাপনা সুন্দর করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে তদারকি করছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন:
- এজেন্সিগুলোর ওপর নজরদারি: যদি কোনো হজ এজেন্সি যাত্রীদের সেবা দিতে অবহেলা করে, তবে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
- কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা: বিমান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ৩৫ জন কর্মকর্তার কেউ যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করেন, তবে তাদের সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হবে।
দেশে বসেই মিলছে ‘নুসুক কার্ড’
নতুন সরকারের অধীনে এবারই প্রথম হজ যাত্রীরা দেশ ছাড়ার আগেই হাতে পাচ্ছেন ‘নুসুক কার্ড’। এটি হজ ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক ও বড় অগ্রগতি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য শামীম কায়সার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিময় নেতৃত্বে এবার একটি সুশৃঙ্খল হজ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। সৌদি আরবের সব জায়গায় বাংলাদেশ হজ মিশনের অফিস থেকে যাত্রীরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাবেন।
নুসুক কার্ডের গুরুত্ব ও সতর্কতা
হাব (HAB) মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার নুসুক কার্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন:
- এই কার্ড ছাড়া হারাম শরীফে প্রবেশ করা সম্ভব নয়।
- কার্ড না থাকলে হজ যাত্রীরা আইনি জটিলতা বা আটকের শিকার হতে পারেন। তবে কার্ডটি সাবধানে রাখার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দেশে আগেই কার্ড দিয়ে দিলে তা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিমানে থাকাকালীন এই কার্ড বিতরণের প্রস্তাব দেন তিনি।
ভোগান্তি কমবে হজ যাত্রীদের
আমিন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ১৪টি এজেন্সির যাত্রীদের হাতে নুসুক কার্ড তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে হজ যাত্রীদের সৌদি আরবে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর বা কার্ড সংগ্রহের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে যাবে।
সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা ও কঠোর নজরদারি কার্যকর হলে হজ পালন যেমন সহজ হবে, তেমনি খরচ কমার ফলে অনেক সাধারণ মানুষের আজীবনের স্বপ্ন পূরণ হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও মানবিক সেবার সমন্বয়ই এবারের হজের মূল লক্ষ্য।








