হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeইসলাম ও জীবনফিতরা কখন ও কিভাবে আদায় করতে হবে? জেনে নিন জরুরি কিছু মাসআলা
spot_img

ফিতরা কখন ও কিভাবে আদায় করতে হবে? জেনে নিন জরুরি কিছু মাসআলা

রমজান মাসের সিয়াম সাধনার পর অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা। এটি আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য ওয়াজিব। তবে ফিতরা কখন দিতে হয় এবং কিভাবে দিলে তা আদায় হবে, এ নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন থাকে।

হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে ফিতরা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

টাকা বা মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায়

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর যুগে খাদ্যশস্য দিয়ে ফিতরা দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সময়ে ওলামায়ে কেরামের মতে, এগুলোর সমপরিমাণ মূল্য বা টাকা দিয়েও ফিতরা আদায় করা জায়েজ।

  • হাদিসের প্রমাণ: বিশিষ্ট তাবেঈ আবু ইসহাক (রাহ.) বলেছেন, “আমি সাহাবা ও তাবেঈগণকে খাবারের পরিবর্তে দিরহাম বা টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করতে দেখেছি।” (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা)।

চাল বা অন্য শস্য দিয়ে আদায়ের নিয়ম

চাল বা অন্য কোনো খাদ্যশস্য দিয়ে ফিতরা দিতে চাইলে গমের ওজনের সমপরিমাণ মূল্য হিসেবে দিতে হবে। এক্ষেত্রে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম গম অথবা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম খেজুর বা যবের মূল্যের সমপরিমাণ চাল দান করতে হবে।

ফিতরা আদায়ের সঠিক সময়

সদকাতুল ফিতর ঈদের নামাজের আগে আদায় করা উত্তম।

  • উত্তম সময়: ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে দেওয়া সবচেয়ে সওয়াবের কাজ।
  • আগে আদায়: তবে গরিবদের ঈদের কেনাকাটার সুবিধার্থে রমজানের শেষ দিকে বা ঈদের দুই-তিন দিন আগেও ফিতরা আদায় করা জায়েজ আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) ঈদের দু-একদিন আগেই ফিতরা দিয়ে দিতেন।
  • পরবর্তীতে আদায়: যদি কেউ কোনো কারণে ঈদের আগে দিতে না পারেন, তবে পরবর্তীতে অবশ্যই তা আদায় করে দিতে হবে। এটি মাফ হয় না।

প্রবাসীদের ফিতরা কোন দেশের হিসাবে হবে

যারা প্রবাসে বা বিদেশে থাকেন, তাদের ফিতরা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা হলো:

  • অবস্থানস্থলের ধর্তব্য: আদায়কারী যে দেশে অবস্থান করছেন, সেই দেশের সর্বনিম্ন ফিতরার হার অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবে অবস্থানরত কেউ যদি বাংলাদেশে ফিতরা দিতে চান, তবে তাকে সৌদি আরবের নির্ধারিত রেট অনুযায়ী টাকা পাঠাতে হবে।

ফিতরা বিতরণের নিয়ম

  • এক ফিতরা একজনকে দেওয়া যেমন জায়েজ, তেমনি ভাগ করে কয়েকজনকে দেওয়াও জায়েজ।
  • আবার অনেকগুলো ফিতরা একত্রিত করে একজন গরিব মানুষকে দেওয়াও ইসলামি শরিয়তে বৈধ। তবে একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে পূর্ণ একটি ফিতরা দেওয়া বেশি উত্তম।

কাদের পক্ষ থেকে ফিতরা দিতে হবে?

পরিবারের প্রধানকে তার নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীল অপ্রাপ্তবয়স্ক (না-বালেগ) সন্তানদের পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করতে হবে। সন্তান প্রবাসে থাকলেও পিতার অবস্থানস্থলের মূল্য অনুযায়ী ফিতরা হিসাব করা হবে।


সদকাতুল ফিতর গরিবের হক। এটি সঠিক সময়ে আদায়ের মাধ্যমে যেমন আপনার রোজা কবুলিয়াতের পথে অন্তরায়গুলো দূর হয়, তেমনি সমাজের অভাবী মানুষেরা ঈদের আনন্দে শামিল হতে পারে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!