হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Tuesday, July 21, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeইসলাম ও জীবনজুমার নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও রাকাত সংখ্যা পূর্ণাঙ্গ গাইড ২০২৬
spot_img

জুমার নামাজের নিয়ম, নিয়ত ও রাকাত সংখ্যা পূর্ণাঙ্গ গাইড ২০২৬

ইসলাম ধর্মে সপ্তাহের শুক্রবার বা জুমার দিনটি “সাইয়্যেদুল আইয়্যাম” বা দিনসমূহের সর্দার হিসেবে পরিচিত। এই দিনটি মুমিন মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিনের মতো। জুমার দিনে জোহরের নামাজের পরিবর্তে দুই রাকাত জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম (নিজ এলাকায় অবস্থানকারী) মুসলমান পুরুষের ওপর ফরজ।

অনেকেই জুমার নামাজের নিয়ম, সঠিক রাকাআত সংখ্যা এবং নিয়ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে গুগলে সার্চ করেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা কোরআন ও হাদিসের আলোকে জুমার নামাজের পূর্ণাঙ্গ নিয়মকানুন, ফজিলত এবং মাসআলাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করব।

জুমার নামাজ কত রাকাত ও কী কী?

জুমার নামাজ মোট কত রাকাত, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকে। মূলত জুমার ফরজ নামাজ ২ রাকাত, যা ইমামের পেছনে পড়তে হয়। তবে এর আগে ও পরে সুন্নাত নামাজ রয়েছে। সব মিলিয়ে জুমার নামাজ সাধারণত ১০ রাকাত বা ১২ রাকাত পড়া হয়।

নিচে জুমার নামাজের রাকাআত সংখ্যার একটি স্পষ্ট ছক (Table) দেওয়া হলো:

নামাজের ধরনরাকাত সংখ্যাকখন পড়তে হয়হুকুম
কাবলাল জুমা (সুন্নাতে মুয়াক্কাদা)৪ রাকাতখুতবার আগেসুন্নাত
জুমার মূল নামাজ২ রাকাতখুতবার পর (জামাতে)ফরজ
বাদাল জুমা (সুন্নাতে মুয়াক্কাদা)৪ রাকাতফরজের পরেসুন্নাত
নফল নামাজ২ রাকাতসুন্নাতের পরেনফল (ঐচ্ছিক)

জুমার নামাজের রাকাআত বিভাজন

১. কাবলাল জুমা (ফরজের আগের সুন্নাত)

মসজিদে প্রবেশ করার পর খুতবা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ৪ রাকাত সুন্নাত নামাজ আদায় করতে হয়। একে ‘কাবলাল জুমা’ বলা হয়। এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা, অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.) এটি নিয়মিত পড়তেন।

২. জুমার ফরজ নামাজ

ইমাম সাহেব যখন খুতবা শেষ করে নামাজের জন্য দাঁড়াবেন, তখন ইমামের পেছনে ২ রাকাত নামাজ আদায় করা ফরজ। এটি জুমার মূল অংশ।

৩. বাদাল জুমা (ফরজের পরের সুন্নাত)

ফরজ নামাজ শেষ হওয়ার পর ৪ রাকাত সুন্নাত নামাজ আদায় করতে হয়। কোনো কোনো হাদিস ও মাযহাব অনুযায়ী ফরজের পরে ৪ রাকাত, আবার কোনো কোনো বর্ণনায় ২ রাকাত পড়ার কথা বলা হয়েছে। তবে হানাফি মাযহাব মতে, ফরজের পর ৪ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা পড়া উত্তম। এরপর সময় থাকলে আরও ২ রাকাত নফল পড়া যায়।

মোট কত রাকাত নামাজ পড়তে হয়?

সাধারণত আমাদের দেশে জুমার নামাজে মোট ১০ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ও ফরজ হিসেবে পড়া হয় (৪ রাকাত আগে + ২ রাকাত ফরজ + ৪ রাকাত পরে)। কেউ যদি নফলসহ পড়েন তবে ১২ রাকাত বা ১৪ রাকাতও হতে পারে। তবে ন্যূনতম ২ রাকাত ফরজ ইমামের সাথে পড়তেই হবে।

jumar namaj porar niyom

জুমার নামাজের নিয়ত আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ

নামাজের জন্য অন্তরের সংকল্পই হলো নিয়ত। মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে মনোযোগ ঠিক রাখার জন্য অনেকে মুখে নিয়ত করে থাকেন। আপনি যদি জুমার নামাজের নিয়ত আরবিতে বা বাংলায় করতে চান, তবে নিচের নিয়মটি অনুসরণ করতে পারেন।

জুমার নামাজের নিয়ত আরবি উচ্চারণ

 نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّيَ فَرْضَ الْجُمُعَةِ رَكْعَتَيْنِ لِلَّهِ تَعَالَى أَدَاءً إِمَامًا / مُقْتَدِيًا

জুমার নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ

উচ্চারণ: “নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহে তায়ালা, রাকয়াতাই সালাতিল জুমুয়াতি, ফারজুল্লাহে তায়ালা, ইক্বতাদাইতু বিহাজাল ইমাম, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি, আল্লাহু আকবার।”

জুমার নামাজের নিয়ত বাংলা অর্থসহ

আপনি বাংলায় খুব সহজভাবে মনে মনে বা মুখে এভাবে নিয়ত করতে পারেন:

নিয়ত: “আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর ওয়াস্তে ইমামের পেছনে জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি, আল্লাহু আকবার।”

(সুন্নাত নামাজের জন্য শুধু ‘জুমার ৪ রাকাত সুন্নাত নামাজ’ বললেই হবে, ইমামের পেছনে পড়ার কথা বলতে হবে না)।

জুমার নামাজের নিয়ম ধাপে ধাপে

সঠিকভাবে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য কিছু ধারাবাহিক নিয়ম বা ধাপ অনুসরণ করতে হয়। নিচে তা আলোচনা করা হলো:

ধাপ ১: আজানের পর করণীয়

জুমার দিনে দুইটি আজান দেওয়া হয়। প্রথম আজান হওয়ার সাথে সাথে কেনাবেচা বা দুনিয়াবি কাজ বন্ধ করে মসজিদের দিকে রওনা হওয়া ওয়াজিব। মসজিদে প্রবেশ করে বসার আগে ২ রাকাত ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ নামাজ পড়া উত্তম। এরপর খুতবা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ৪ রাকাত কাবলাল জুমা (সুন্নাত) পড়ে নিন।

ধাপ ২: খুতবার সময় করণীয়

ইমাম সাহেব যখন মেহরাব থেকে মিম্বরে ওঠেন, তখন থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত চুপ থাকা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন কোনো নামাজ পড়া, কথা বলা বা মোবাইল টেপা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।

ধাপ ৩: ইমামের সাথে ২ রাকাত ফরজ

ইকামতের পর ইমামের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাতার সোজা করে দাঁড়ান। ইমামের তাকবীরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বলার পর আপনিও হাত বাঁধবেন। জুমার ফরজ নামাজে সূরা ফাতেহা ও অন্য সূরা ইমাম সাহেব উচ্চস্বরে পড়বেন, মুক্তাদিরা (পেছনের মুসল্লিরা) চুপ করে শুনবেন। বাকি রুকু-সেজদার নিয়ম সাধারণ নামাজের মতোই।

ধাপ ৪: সুন্নাত ও নফল আদায়

ফরজ নামাজ শেষ হওয়ার পর ইমাম সাহেব মোনাজাত করতে পারেন বা মুসল্লিরা নিজে নিজে সুন্নাত নামাজ পড়ার জন্য দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। ফরজের পর ৪ রাকাত সুন্নাত এবং চাইলে এরপর ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করুন।

জুমার দিনের সুন্নত ও মোস্তাহাব আমলসমূহ

জুমার দিনটি সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। এই দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) কিছু বিশেষ আমল করতেন। জুমার দিনের আমল করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায়।

১. গোসল করা: জুমার নামাজের জন্য ভালো করে গোসল করা সুন্নাত।

২. পরিষ্কার পোশাক: সামর্থ্য অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো ও পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা।

৩. সুগন্ধি ও মেসওয়াক: শরীরে আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং মেসওয়াক করা।

৪. আগে আগে মসজিদে যাওয়া: হাদিসে আছে, যারা জুমার দিন সবার আগে মসজিদে যায়, তারা উট কুরবানি করার সওয়াব পায়।

৫. কাউকে কষ্ট না দেওয়া: মসজিদে গিয়ে মানুষের ঘাড় টপকে সামনে না যাওয়া। যেখানে জায়গা পাওয়া যাবে, সেখানেই বসে পড়া।

সূরা কাহাফ পাঠ করার ফজিলত

জুমার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত নূর বা আলো বিচ্ছুরিত হবে।” (মুস্তাদরাকে হাকেম)।

জুমার খুতবা চলাকালীন নিষিদ্ধ কাজসমূহ

অনেকেই খুতবার সময় কথা বলেন বা দানবাক্স চালাচালি করেন, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। খুতবা শোনার নিয়ম হলো একদম চুপচাপ বসে থাকা।

  • কথা বলা নিষিদ্ধ: খুতবা চলাকালীন পাশের ব্যক্তিকে “চুপ করো” বলাও অনর্থক কাজ এবং এতে সওয়াব নষ্ট হয়।
  • মোবাইল ব্যবহার: খুতবার সময় মোবাইল ফোন চেক করা বা গেম খেলা জুমার আদবের খেলাফ।
  • নামাজ পড়া: ইমাম যখন খুতবার জন্য মিম্বরে উঠে যাবেন, তখন আর কোনো সুন্নাত বা নফল নামাজ শুরু করা যাবে না। তবে কেউ যদি খুতবা চলাকালীন মসজিদে ঢোকেন, তবে সংক্ষেপে ২ রাকাত ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ পড়ে বসে যাবেন (এটি অধিকাংশ আলেমদের মত, তবে হানাফি মাযহাবে খুতবার সময় নামাজ না পড়ে বসে পড়ার বিধান রয়েছে)।

জুমার নামাজ কাদের ওপর ফরজ?

সবার ওপর জুমার নামাজ ফরজ নয়। জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার জন্য ৫টি শর্ত রয়েছে:

১. পুরুষ হওয়া: নারীদের ওপর জুমা ফরজ নয়।

২. স্বাধীন হওয়া: ক্রীতদাসের ওপর জুমা ফরজ নয়।

৩. সুস্থ হওয়া: মসজিদে যেতে অক্ষম অসুস্থ ব্যক্তির ওপর জুমা ফরজ নয়।

৪. মুকিম হওয়া: মুসাফির বা ভ্রমণকারীর ওপর জুমা ফরজ নয়।

৫. প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবেকবান হওয়া: শিশু ও পাগলের ওপর জুমা ফরজ নয়।

নারীদের জুমার নামাজের বিধান

নারীদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ নয়, তারা জোহরের নামাজ ঘরে আদায় করবেন। তবে যদি কোনো মসজিদে নারীদের জন্য আলাদা ও পর্দার ব্যবস্থা থাকে এবং তারা ইমামের পেছনে জুমার নামাজ আদায় করেন, তবে তাদের জুমার নামাজ আদায় হয়ে যাবে; আলাদা করে আর জোহর পড়তে হবে না।

মুসাফির ও অসুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে হুকুম

মুসাফির (ভ্রমণরত ব্যক্তি) এবং অসুস্থ ব্যক্তি যদি মসজিদে এসে জুমার জামাতে শরিক হন, তবে তাদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে। আর যদি জামাতে শরিক না হতে পারেন, তবে তারা জোহরের ৪ রাকাত ফরজ নামাজ পড়ে নেবেন।

জুমার নামাজ ছুটে গেলে বা না পেলে করণীয়

যানজট বা অন্য কোনো কারণে মসজিদে পৌঁছাতে দেরি হলে বা জুমার নামাজ সম্পূর্ণ মিস করলে কী করবেন, তা জানা জরুরি।

  • ইমামকে শেষ বৈঠকে পেলে: আপনি যদি ইমামকে তাশাহহুদ বা শেষ বৈঠকে পান, তবে দ্রুত নিয়ত করে জামাতে শরিক হয়ে যান। ইমাম সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে নিজের বাকি ২ রাকাত নামাজ (সূরা ফাতেহা ও অন্য সূরা মিলিয়ে) পড়ে নিন। এতে আপনার জুমার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
  • রুকু না পেলে: যদি আপনি দ্বিতীয় রাকাতের রুকুও না পান, তবে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে আপনাকে ৪ রাকাত জোহরের নামাজ পড়তে হবে (এটি হানাফি মাযহাবের মত)। তবে অধিকাংশের মতে, ইমামের সাথে সালাম ফেরানোর আগ পর্যন্ত পেলেই জুমা আদায় হবে, বাকিটা পূর্ণ করে নিতে হবে।
  • সম্পূর্ণ মিস করলে: যদি মসজিদে গিয়ে দেখেন জুমার নামাজ শেষ, তবে আপনাকে একাকি জোহরের ৪ রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতে হবে। কারণ জুমার নামাজ একা পড়া যায় না, এটি জামাতে পড়তে হয়।

জুমার নামাজ মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক। প্রতি সপ্তাহে এই নামাজ আমাদের আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার সুযোগ দেয়। জুমার নামাজের নিয়ম সঠিকভাবে জেনে এবং খুশুখুজুর সাথে নামাজ আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা আমাদের গুনাহ মাফ করে দেন। তাই আসুন, জুমার দিনের আদব ও সুন্নাতগুলো মেনে চলি এবং খুতবা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমিন।

জুমার নামাজের নিয়ম সম্পর্কিত বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: জুমার আজান কয়টি ও কেন?

উত্তর: জুমার দিনে আজান দুটি দেওয়া হয়। প্রথম আজান দেওয়া হয় জোহরের ওয়াক্ত হওয়ার পর মানুষকে সতর্ক করার জন্য এবং দ্বিতীয় আজান দেওয়া হয় ইমাম মিম্বরে খুতবা দেওয়ার জন্য বসার পর। হজরত ওসমান (রা.)-এর সময় মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রথম আজানটি চালু করা হয়।

প্রশ্ন: জুমার দিন কোনো বিশেষ দোয়া কবুলের সময় আছে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, হাদিস শরীফে আছে জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে যখন বান্দা যা দোয়া করে আল্লাহ তা কবুল করেন। অধিকাংশ আলেমদের মতে, এই সময়টি হলো আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত, অথবা দুই খুতবার মধ্যবর্তী সময়।

প্রশ্ন: জুমার নামাজে কি সানা পড়তে হয়?

উত্তর: হ্যাঁ, জুমার ফরজ নামাজের প্রথম রাকাতে ইমামের পেছনে তাকবীরে তাহরিমা বাঁধার পর মনে মনে ছানা (সুবহানাকাল্লাহুম্মা…) পড়তে হয়। এরপর ইমাম যখন কেরাত শুরু করবেন তখন চুপ থাকতে হবে।

প্রশ্ন: বিনা কারণে ৩ জুম্মা বাদ দিলে কী হয়?

উত্তর: রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, যে ব্যক্তি অবহেলা করে পরপর তিন জুম্মা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন (অর্থাৎ তার হেদায়েতের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে)। এটি কবিরা গুনাহ।

প্রশ্ন: জুমার নামাজের খুতবা বাংলায় দেওয়া যাবে কি?

উত্তর: খুতবার মূল অংশ আরবিতে হওয়া জরুরি, যা আল্লাহর জিকির। তবে মানুষকে নসিহত করার জন্য খুতবার আগে বা মাঝের অংশে স্থানীয় ভাষায় (যেমন বাংলায়) আলোচনা করা জায়েজ এবং উত্তম, যাতে মানুষ ইসলামের শিক্ষা বুঝতে পারে।

প্রশ্ন: জুমার নামাজ কি কাজা পড়া যায়?

উত্তর: না, জুমার নামাজের কোনো কাজা নেই। কারণ জুমা জামাত ছাড়া একা পড়া যায় না। কেউ যদি জুমার নামাজ মিস করেন, তবে তাকে জোহরের ৪ রাকাত ফরজ নামাজ কাজা হিসেবে বা ওয়াক্ত থাকলে জোহর হিসেবে পড়তে হবে।

প্রশ্ন: ঈদের দিন শুক্রবার হলে কি জুমার নামাজ পড়তে হবে?

উত্তর: যদি ঈদের দিন শুক্রবার হয়, তবে ঈদের নামাজ পড়ার পর জুমার নামাজ পড়া সাধারণ মুসল্লিদের জন্য ঐচ্ছিক (তবে পড়াই উত্তম), কিন্তু ইমামের জন্য জামাত চালু রাখা জরুরি। যারা জুমা পড়বেন না, তাদের জোহর পড়তে হবে। (এটি হাম্বলি মাযহাবসহ কিছু মত, তবে হানাফি মতে ঈদের দিনেও জুমা ফরজ)।

প্রশ্ন: জুমার নামাজের নিয়ত মুখে বলা কি জরুরি?

উত্তর: না, নিয়ত মুখে বলা জরুরি নয়। অন্তরে নামাজের সংকল্প থাকাই যথেষ্ট। তবে মনোযোগের জন্য মুখে বলা যেতে পারে।

প্রশ্ন: খুতবা চলাকালীন দানবাক্সে টাকা দেওয়া যাবে কি?

উত্তর: খুতবা চলাকালীন যেকোনো ধরনের নড়াচড়া বা কাজ মনোযোগ নষ্ট করে। তাই খুতবার সময় দানবাক্স চালানো বা টাকা দেওয়া উচিত নয়। নামাজের আগে বা পরে দান করা উত্তম।

প্রশ্ন: মসজিদে দেরি করে গেলে কি খুতবার সময় সুন্নাত পড়া যাবে?

উত্তর: হানাফি মাযহাব মতে, ইমাম খুতবা শুরু করলে বা মিম্বরে বসলে আর কোনো নামাজ পড়া যায় না। তখন বসে খুতবা শুনতে হবে। সুন্নাত নামাজগুলো ফরজের পরে আদায় করে নিতে হবে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!