হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
সোমবার, জুন ২২, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়তারেক রহমানের ঢাকা-১৭ আইনী সহায়তা টিমের আহ্বায়ক হলেন আশরাফ জালাল খান মনন
spot_img

তারেক রহমানের ঢাকা-১৭ আইনী সহায়তা টিমের আহ্বায়ক হলেন আশরাফ জালাল খান মনন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে বইছে নতুন হাওয়া। এই নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম ও আইনি বিষয়গুলো দেখাশোনার জন্য একটি বিশেষ ‘আইনি সহায়তা টিম’ গঠন করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)। ২১ সদস্যের এই শক্তিশালী টিমের আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ও কিশোরগঞ্জের কৃতী সন্তান অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মননকে।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। দলের হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্তে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

কিশোরগঞ্জের খান পরিবারের উজ্জ্বল নক্ষত্র

অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের সন্তান। তাঁর ধমনীতে রয়েছে রাজনীতির রক্ত। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট আরফান উদ্দিন খান ছিলেন একাধারে একজন প্রখ্যাত আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ।

খান পরিবারের সুনাম ও সুখ্যাতি ওই এলাকায় দীর্ঘদিনের। অ্যাডভোকেট মননের পূর্বপুরুষরা প্রায় ৯৫ বছর ধরে বনগ্রাম ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকার মানুষের সুখে-দুখে পাশে থেকে তাঁরা বংশপরম্পরায় যে সম্মান ও মর্যাদা অর্জন করেছেন, অ্যাডভোকেট মনন সেই ঐতিহ্যেরই ধারক ও বাহক। তিনি নিজেও কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন এবং এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ।

আন্দোলন ও সংগ্রামে সম্মুখ সারির যোদ্ধা

গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন ছিলেন রাজপথের লড়াকু সৈনিক। বিশেষ করে জুলাই ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে উপস্থিত থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে এই দীর্ঘ লড়াইয়ে তাঁকে অসংখ্যবার জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। তবুও তিনি দমে যাননি। পুলিশের দমন-পীড়ন উপেক্ষা করে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন। তাঁর এই অকুতোভয় মানসিকতা তাঁকে দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ ও সাহসী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

দলের প্রতি আনুগত্যের অনন্য দৃষ্টান্ত

রাজনীতিতে ত্যাগ ও আনুগত্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন অ্যাডভোকেট মনন। তিনি কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন না পেলেও তিনি হতাশ হননি বা দলের বিরুদ্ধে যাননি। বরং দলের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন। তাঁর এই ত্যাগের মূল্যায়ন করেছে দল। নিজ এলাকায় মনোনয়ন না পেলেও, এবার খোদ দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের নির্বাচনী আসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এটি তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের এক বিশাল স্বীকৃতি।

ছাত্রদল থেকে আইন অঙ্গনের নেতৃত্ব

২০০০ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে অ্যাডভোকেট মননের রাজনৈতিক জীবনের হাতেখড়ি। তৃণমূল পর্যায় থেকে ধাপে ধাপে উঠে আসা এই নেতা থানা ও মহানগরের গণ্ডি পেরিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন।

শুধু ছাত্রদল নয়, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সংসদের নির্বাচিত প্রথম সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিট এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তিনি সফলভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও নির্বাহী সদস্য হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।

আইনি সহায়তায় ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা

রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও তিনি দলের নেতাকর্মীদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য এবং দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফাউন্ডেশনের ‘লিগ্যাল এইড সেল’ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আওয়ামী সরকারের শাসনামলে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের হাজার হাজার নেতাকর্মী যখন মিথ্যা মামলায় জর্জরিত, তখন অ্যাডভোকেট মনন তাঁদের আইনি সহায়তা দিয়েছেন। বিনা পারিশ্রমিকে অসংখ্য নেতাকর্মীকে জেল থেকে মুক্ত করতে তিনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বিশ্বস্ততার কারণেই আজ তাঁকে তারেক রহমানের আসনের আইনি টিমের প্রধান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।


নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন জানান, তিনি দেশনায়ক তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞ। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতে তিনি ও তাঁর টিম সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম দিয়ে কাজ করে যাবেন।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!