হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeইসলাম ও জীবনতাহাজ্জুদ নামাজের সময়: কখন পড়বেন, সঠিক নিয়ম ও ফজিলত
spot_img

তাহাজ্জুদ নামাজের সময়: কখন পড়বেন, সঠিক নিয়ম ও ফজিলত

ইসলামে ফরজ নামাজের পরেই যে নামাজের মর্যাদা সবচেয়ে বেশি, তা হলো তাহাজ্জুদ নামাজ। গভীর রাতে যখন চারদিক নিস্তব্ধ থাকে, তখন বান্দা তার রবের দরবারে সিজদাবনত হয়ে যে নামাজ আদায় করে, তাই তাহাজ্জুদ। মুমিনের আধ্যাত্মিক উন্নতির সোপান হলো এই নামাজ। কিন্তু অনেকেই তাহাজ্জুদ নামাজের সময়, সঠিক নিয়ম এবং রাকাআত সংখ্যা নিয়ে দ্বিধায় থাকেন।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে তাহাজ্জুদ নামাজের সময়সূচি ( tahajjud namaz time ), পড়ার নিয়ম এবং এর অসীম ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। আপনি যদি আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এই নামাজ শুরু করতে চান, তবে এই গাইডলাইনটি আপনার জন্য।

তাহাজ্জুদ নামাজের সঠিক সময় কখন?

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নামাজের নির্দিষ্ট ওয়াক্ত বা সময় মেনে চলা জরুরি। তাহাজ্জুদ একটি নফল নামাজ হলেও এর সময়সীমা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। মূলত রাতের নামাজ বা ‘কিয়ামুল লাইল’-এর একটি বিশেষ অংশ হলো তাহাজ্জুদ। তাহাজ্জুদ নামাজের সময়সূচী নিচে দেয়া হলো:

তাহাজ্জুদ নামাজের সময় কখন শুরু হয়?

সহজ কথায়, এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত যে নামাজ পড়া হয়, তাকেই রাতের নামাজ বা সালাতুল লাইল বলা হয়। তবে ‘তাহাজ্জুদ’ শব্দের অর্থ হলো ‘ঘুম থেকে জাগা’। তাই ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, এশার নামাজ পড়ে ঘুমানোর পর, মধ্যরাতে বা শেষ রাতে ঘুম থেকে জেগে যে নামাজ পড়া হয়, সেটাই হলো তাহাজ্জুদ নামাজ।

অর্থাৎ, তাহাজ্জুত নামাজের সময় শুরু হয় এশার নামাজের পর ঘুমের শেষে। আপনি যদি রাত ১০টায় এশা পড়ে ঘুমিয়ে যান এবং রাত ২টায় জেগে নামাজ পড়েন, তবে সেটিই তাহাজ্জুদের সময়। তবে মনে রাখবেন, এশার ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর থেকে এই নামাজের সময় গণনা শুরু হয়।

তাহাজ্জুদ পড়ার সর্বোত্তম সময় কোনটি?

যদিও এশার পর থেকে ফজরের আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া যায়, কিন্তু এর একটি ‘সর্বোত্তম’ বা ‘আফজাল’ সময় রয়েছে। হাদিস শরীফে রাতের শেষ তৃতীয়াংশকে তাহাজ্জুদ পড়ার শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দাদের ডাকতে থাকেন ‘আছ কি কোনো আহ্বানকারী? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। আছ কি কোনো প্রার্থী?আমি তাকে দান করব। আছ কি কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী? আমি তাকে ক্ষমা করব।’” (বুখারি ও মুসলিম)

রাতের শেষ তৃতীয়াংশ বের করার নিয়ম: ধরুন, সন্ধ্যা ৬টায় সূর্য অস্ত যায় এবং ভোর ৫টায় সুবহে সাদিক হয়। তাহলে মোট রাত হলো ১১ ঘণ্টা। এই ১১ ঘণ্টাকে ৩ দিয়ে ভাগ করলে প্রতি ভাগে প্রায় ৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পড়ে।

  • প্রথম ভাগ: সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯:৪০ পর্যন্ত।
  • দ্বিতীয় ভাগ: রাত ৯:৪০ থেকে রাত ১:২০ পর্যন্ত।
  • তৃতীয় ভাগ (শ্রেষ্ঠ সময়): রাত ১:২০ থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত।

সুতরাং, রাত ১টা বা ২টার পর থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টি তাহাজ্জুদের জন্য সবচেয়ে বরকতময়।

তাহাজ্জুদ নামাজের শেষ সময়

এই তাহাজ্জুদ নামাজের শেষ সময় কখন সবার জানা উচিত। তাহাজ্জুদ নামাজের সময় শেষ হয় ‘সুবহে সাদিক’ হওয়ার সাথে সাথে। অর্থাৎ, যখন ফজরের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয়, ঠিক তখনই তাহাজ্জুদের সময় শেষ হয়ে যায়। ফজরের আজান সাধারণত সুবহে সাদিক শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বা কিছুক্ষণ পর দেওয়া হয়। তাই সতর্কতা হিসেবে ফজরের আজানের অন্তত ১০-১৫ মিনিট আগে তাহাজ্জুদ ও বিতর নামাজ শেষ করা উত্তম। সেহেরি খাওয়ার সময়টিতেই মূলত তাহাজ্জুদ পড়া যায়।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম ও পদ্ধতি

অন্যান্য নফল নামাজের মতোই তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ম। তবে এর পবিত্রতা এবং গুরুত্বের কারণে কিছু বিশেষ আদব মেনে চলা উচিত। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাআত পড়তে হয়?

তাহাজ্জুদ নামাজ কত রাকাআত পড়তে হবে, তা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ৮ রাকাআত তাহাজ্জুদ এবং ৩ রাকাআত বিতর পড়তেন।

  • সর্বনিম্ন: ২ রাকাআত।
  • সর্বোত্তম: ৮ রাকাআত।
  • সর্বোচ্চ: ১২ রাকাআত বা তার বেশিও পড়া যায়।

আপনি আপনার শারীরিক সক্ষমতা এবং সময়ের ওপর ভিত্তি করে ২, ৪, ৮ বা ১২ রাকাআত নামাজ পড়তে পারেন। তবে তাড়াহুড়ো না করে ধীরস্থিরে ২ রাকাআত পড়া তাড়াহুড়ো করে ১০ রাকাআত পড়ার চেয়ে উত্তম।

তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত

নামাজের জন্য মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা জরুরি নয়, মনের ইচ্ছা বা সংকল্পই যথেষ্ট। আপনি যখন ওযু করে জায়নামাজে দাঁড়াবেন, তখন মনে মনে এই ইচ্ছা পোষণ করবেন যে “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ২ রাকাআত তাহাজ্জুদের নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করছি।”

যদি কেউ আরবিতে নিয়ত করতে চান, তবে বলতে পারেন: “নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রাক’আতাই সালাতিত তাহাজ্জুদি সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা’আলা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি, আল্লাহু আকবার।” (তবে আরবি নিয়ত জানা বাধ্যতামূলক নয়)।

পড়ার বিস্তারিত নিয়ম

১. পবিত্রতা অর্জন: ঘুম থেকে উঠে মিসওয়াক করা এবং সুন্দরভাবে ওযু করা সুন্নাত। 

২. পোশাক ও স্থান: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরুন এবং নিরিবিলি স্থানে জায়নামাজ বিছান। 

৩. তাকবীরে তাহরিমা: কিবলামুখী হয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামাজ শুরু করুন। 

৪. সানা ও সূরা পাঠ: সানা পড়ার পর সূরা ফাতিহা পাঠ করুন। এরপর কুরআনের যে কোনো জায়গা থেকে সূরা বা আয়াত তিলাওয়াত করুন। তাহাজ্জুদ নামাজে দীর্ঘ সূরা পড়া বা ধীরে ধীরে তিলাওয়াত করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। 

৫. রুকু ও সিজদা: অন্য নামাজের মতোই রুকু ও সিজদা করুন। নফল নামাজে সিজদায় গিয়ে নিজের ভাষায় (মনে মনে) বা আরবিতে বেশি বেশি দোয়া করা যায়। 

৬. সালাম ফেরানো: প্রতি ২ রাকাআত পর পর ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলে সালাম ফেরান। 

৭. বিতর নামাজ: আপনি যদি এশার নামাজের পর বিতর না পড়ে থাকেন, তবে তাহাজ্জুদ শেষ করার পর অবশ্যই বিতর নামাজ পড়ে নেবেন। কারণ, রাতের শেষ নামাজ বিতর হওয়া বাঞ্ছনীয়।

ঘুম থেকে না জাগলে কি তাহাজ্জুদ পড়া যায়?

এটি একটি সাধারণ প্রশ্ন। অনেকে রাতে দেরিতে ঘুমান বা জাগার নিশ্চয়তা পান না। তাদের ক্ষেত্রে বিধান হলো:

‘তাহাজ্জুদ’ শব্দের অর্থই হলো ঘুম ভেঙে ওঠা। তাই প্রথাগতভাবে ঘুমের পর ওঠাই তাহাজ্জুদের শর্ত। তবে, কোনো ব্যক্তি যদি এশার নামাজের পর না ঘুমিয়ে নফল নামাজ পড়েন, তবে তা ‘কিয়ামুল লাইল’ বা রাতের নামাজ হিসেবে গণ্য হবে এবং তিনি বিপুল সওয়াব পাবেন।

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) তাকে তিনটি বিষয়ে ওসিয়ত করেছিলেন, যার একটি হলো ঘুমানোর আগে বিতর নামাজ আদায় করা। (বুখারি)।

তাই, যদি আপনার মনে হয় যে শেষ রাতে জাগতে পারবেন না, তবে ঘুমানোর আগেই কিছু নফল নামাজ এবং বিতর পড়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। আর যদি নিয়ত করে ঘুমান এবং জাগতে না পারেন, তবে ইনশাআল্লাহ নিয়তের কারণে আপনি সওয়াব পেয়ে যাবেন।

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব

তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত বলে শেষ করা যাবে না। এটি মুমিনের চরিত্র গঠন এবং আল্লাহর প্রিয়ভাজন হওয়ার অন্যতম মাধ্যম।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে তাহাজ্জুদ

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বান্দাদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন:

“এবং যারা তাদের রবের উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে (নামাজে) রাত্রি যাপন করে।” (সূরা ফুরকান: ৬৪)

অন্য আয়াতে রাসুল (সা.)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

“রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ নামাজে জাগরণ করুন, এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত। শীঘ্রই আপনার রব আপনাকে ‘মাকামে মাহমুদ’ বা প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।” (সূরা বনি ইসরাইল: ৭৯)

দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়

দিনের বেলার কোলাহলমুক্ত হয়ে গভীর রাতে যখন বান্দা আল্লাহর সামনে দাঁড়ায়, তখন তার দোয়া ও কান্নাকাটি সরাসরি আরশে আজিমে পৌঁছায়। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেছেন, “মজলুমের দোয়া এবং তাহাজ্জুদের দোয়া এগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না।”

জীবনের যেকোনো কঠিন বিপদ, রিজিকের অভাব, বা মানসিক প্রশান্তির জন্য তাহাজ্জুদের নামাজ হলো মহৌষধ। যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়েন, তাদের চেহারায় এক বিশেষ নূর বা জ্যোতি থাকে এবং তাদের কথা মানুষের হৃদয়ে প্রভাব ফেলে।


তাহাজ্জুদ নামাজের সময় এবং এর নিয়মকানুন মেনে যারা নিয়মিত এই ইবাদত করেন, দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের মর্যাদা সবার চেয়ে আলাদা। এটি এমন এক ইবাদত যা আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ককে গভীর থেকে গভীরতর করে তোলে।

আসুন, আমরা অলসতা ঝেড়ে ফেলে অন্তত সপ্তাহে এক বা দুই দিন হলেও শেষ রাতে ওঠার চেষ্টা করি। ২ রাকাআত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহ মাফ চাই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাহাজ্জুদ গুজার বান্দা হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

তাহাজ্জুদ নামাজের সময় সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: তাহাজ্জুদ নামাজ কি ফরজ নাকি সুন্নাত?

উত্তর: তাহাজ্জুদ নামাজ ফরজ নয়, এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। তবে নবীজি (সা.) এটি নিয়মিত পড়তেন।

প্রশ্ন: তাহাজ্জুদ নামাজের আজান হয় কি?

উত্তর: না, তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য আলাদা কোনো আজান বা ইকামতের প্রয়োজন হয় না। এটি নিভৃতে পড়ার নামাজ।

প্রশ্ন: তাহাজ্জুদ নামাজে কোন সূরা পড়তে হয়?

উত্তর: তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সূরা নেই। আপনি কুরআনের যেকোনো সূরা বা আয়াত দিয়ে এই নামাজ পড়তে পারেন। তবে বড় সূরা পড়া উত্তম।

প্রশ্ন: বিতর নামাজ কি তাহাজ্জুদের আগে না পরে পড়তে হয়?

উত্তর: উত্তম হলো তাহাজ্জুদ নামাজ শেষ করার পর বিতর পড়া। তবে জাগার নিশ্চয়তা না থাকলে এশার নামাজের পর ঘুমানোর আগেই বিতর পড়ে নেওয়া যায়।

প্রশ্ন: তাহাজ্জুদ নামাজ কি জামাতে পড়া যায়?

উত্তর: তাহাজ্জুদ নামাজ একাকী পড়াই উত্তম এবং সুন্নাত। তবে মাঝেমধ্যে অনিয়মিতভাবে জামাতে পড়লে তা জায়েজ আছে, কিন্তু একে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা ঠিক নয় (রমজানের তারাবিহ ছাড়া)।

প্রশ্ন: তাহাজ্জুদ নামাজের নিয়ত মুখে বলা কি জরুরি?

উত্তর: না, নিয়ত মুখে বলা জরুরি নয়। অন্তরে নামাজের সংকল্প থাকাই যথেষ্ট।

প্রশ্ন: আমি যদি তাহাজ্জুদের নিয়ত করে ঘুমাই কিন্তু জাগতে না পারি, তবে কি গুনাহ হবে?

উত্তর: না, গুনাহ হবে না। বরং হাদিস অনুযায়ী, আপনার সহীহ নিয়তের কারণে আল্লাহ আপনাকে তাহাজ্জুদের সওয়াব দান করবেন এবং আপনার ঘুমকে সদকা হিসেবে গণ্য করবেন।

প্রশ্ন: স্ত্রী কি স্বামীকে তাহাজ্জুদের জন্য জাগাতে পারবে?

উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই। এটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) ওই স্বামী-স্ত্রীর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষণের দোয়া করেছেন, যারা একে অপরকে তাহাজ্জুদের জন্য জাগিয়ে দেয়।

প্রশ্ন: ফজরের আজান হয়ে গেলে কি তাহাজ্জুদ পড়া যাবে?

উত্তর: না। ফজরের আজান বা সুবহে সাদিক হয়ে গেলে তাহাজ্জুদের সময় শেষ হয়ে যায়। তখন আর তাহাজ্জুদ পড়া যাবে না, তখন ফজরের সুন্নাত ও ফরজ পড়তে হবে।

প্রশ্ন: তাহাজ্জুদ নামাজ কি বসে পড়া যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, শারীরিক অসুস্থতা বা অক্ষমতা থাকলে বসে তাহাজ্জুদ পড়া জায়েজ। তবে সক্ষম ব্যক্তির জন্য দাঁড়িয়ে পড়াই উত্তম এবং এতে পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায়।

প্রশ্ন: তাহাজ্জুদ নামাজের সময় কখন শেষ হয়?

উত্তর: তাহাজ্জুদ নামাজের সময় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত থাকে, অর্থাৎ ফজরের আযানের ঠিক আগ পর্যন্ত তাহাজ্জুদ ও বিতর পড়া যায়, তবে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ তাহাজ্জুদ আদায়ের জন্য সবচেয়ে উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ সময়। সাহরি শেষ হয়ে গেলে বা ফজরের ওয়াক্ত শুরু হলেই তাহাজ্জুদের সময় শেষ হয়ে যায়। 

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!