শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা এবং কানাডার ইউকন (Yukon) সীমান্ত এলাকায় ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪১ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। যদিও ভূমিকম্পের মাত্রা অনেক বেশি ছিল, তবে প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
ভূমিকম্পের কেন্দ্র ও গভীরতা
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছে:
- মাত্রা: ৭.০ (প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী)।
- সময়: স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৪১ মিনিট।
- অবস্থান: কম্পনটি আলাস্কার জুনো শহর থেকে প্রায় ২৩০ মাইল (৩৭০ কিমি) উত্তর-পশ্চিমে এবং ইউকনের রাজধানী হোয়াইটহর্স থেকে ১৫৫ মাইল (২৫০ কিমি) পশ্চিমে অনুভূত হয়।
- গভীরতা: ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার (৬ মাইল) গভীরে। অপেক্ষাকৃত অগভীর এই উৎপত্তিস্থল সাধারণত ভূকম্পনের প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
ভূমিকম্পের পরপরই ওই অঞ্চলে একাধিক ছোট আফটারশক অনুভূত হয়েছে বলে ইউএসজিএস জানিয়েছে।
জনবসতি ও প্রভাব
যদিও সীমান্ত এলাকাটি সাধারণভাবে জনবিরল, তবে কম্পনের প্রভাবে কাছের কয়েকটি বসতিতে ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে।
কানাডার পরিস্থিতি: ইউকন
ভূমিকেন্দ্রের সবচেয়ে কাছের কানাডিয়ান বসতি হলো হেইন্স জাংশন গ্রাম। এটি কেন্দ্র থেকে প্রায় ৮০ মাইল (১৩০ কিমি) দূরে অবস্থিত। ২০২২ সালের হিসেবে এই এলাকায় বসবাস করে মাত্র ১ হাজার ১৮ জন।
হোয়াইটহর্সে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ সার্জেন্ট কালিস্টা ম্যাকলিয়ড নিশ্চিত করেন যে তারা ভূমিকম্প নিয়ে দুটি ৯১১ কল পেয়েছেন। কানাডার ন্যাচারাল রিসোর্সেসের ভূকম্পবিদ অ্যালিসন বার্ড জানান, ইউকনের যেসব এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে, সেগুলো মূলত পার্বত্য এবং সেখানে লোকসংখ্যা কম।
স্থানীয়রা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে তারা শক্তিশালী ঝাঁকুনি টের পেয়েছেন। অ্যালিসন বার্ডের তথ্য অনুযায়ী, মানুষ মূলত জানিয়েছে, ঝাঁকুনির কারণে শেলফ রাখা এবং দেয়ালে ঝোলানো জিনিসপত্র পড়ে গেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো অবকাঠামোগত ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
আলাস্কার পরিস্থিতি
ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র আলাস্কার ইয়াকুতাত শহর থেকেও মাত্র ৫৬ মাইল (৯১ কিমি) দূরে ছিল। এই শহরে জনসংখ্যা মাত্র ৬৬২ জন। এ পর্যন্ত আলাস্কা থেকেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
শক্তিশালী ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সত্ত্বেও, লোকালয় থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে এবং জনবিরল পার্বত্য অঞ্চলে আঘাত হানার কারণে এই ভূমিকম্পে প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত বিপর্যয় ঘটেনি। কর্তৃপক্ষ ওই এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।








