হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Friday, August 7, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeআবহাওয়াকনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে কুড়িগ্রাম: বাড়ছে শীতজনিত রোগ
spot_img

কনকনে ঠান্ডায় কাঁপছে কুড়িগ্রাম: বাড়ছে শীতজনিত রোগ

উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলা, যার ফলে কনকনে শীতের তীব্রতা জনজীবনে এনেছে চরম স্থবিরতা। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাওয়ায়, বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।

তাপমাত্রার রেকর্ড ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস

কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগার থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের বেলা সূর্যের দেখা মিললেও কুয়াশার ঘনত্ব এবং হিম বাতাসের কারণে ঠাণ্ডার অনুভূতি তীব্রভাবে বিদ্যমান।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমানে যে হারে কুয়াশা পড়ছে এবং তাপমাত্রা কমছে, তাতে আগামী দিনগুলোতে এই জেলায় শীতের তীব্রতা আরও বাড়বে। অর্থাৎ, কুড়িগ্রাম জেলা আসন্ন শৈত্যপ্রবাহের মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থবির জনজীবন ও নিম্ন আয়ের মানুষের করুণ চিত্র

শীতের তীব্রতা বাড়ায় কুড়িগ্রামের দৈনন্দিন কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, যার ফলে গ্রামীণ বাজার এবং সড়কগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে লোকসমাগম অনেক কম।

নদী তীরবর্তী মানুষের দুর্ভোগ

জেলার চিলমারী উপজেলার মতো নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। এখানকার ঘরবাড়িগুলো সাধারণত ঠাণ্ডা প্রতিরোধক নয় এবং পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাব রয়েছে।

চিলমারী উপজেলার মফিজুল হক (৫০) নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা তাঁর কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন:

“শীত মৌসুম আসলে হামর নদীর পারের মানুষের খুব কষ্ট হয়। ঘন কুয়াশা ও বরফশীতল বাতাসের কারণে ঘর থাকি বাইরে বের হওয়া যায় না, তাই কাজ-কামাই করবের পাইনে (করতে পারি না)। হাত-পাও খালি শিষ্ঠি (ঠান্ডা) লাগি আইসে।”

অর্থাৎ, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করতে না পারায় এই মানুষগুলোর আয় রোজগার কমে যাচ্ছে, যা তাদের খাদ্য ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে বাধা সৃষ্টি করছে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সিভিল সার্জনের সতর্কতা

তীব্র ঠাণ্ডা শুরু হওয়ায় কুড়িগ্রামের হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। শিশু ও বয়স্করা এই রোগের শিকার হচ্ছেন বেশি।

যাত্রপুর ইউনিয়নের আমেনা বেগম (৪০) নামের এক নারী তার বাচ্চার অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন:

“ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে কয়েক দিন থাকি বাচ্চার জ্বর-সর্দি হয়েছে, তাই হাসপাতালে নিয়ে আসছি ডাক্তার দেখানোর জন্য।”

সিভিল সার্জনের স্বাস্থ্য নির্দেশনা

কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে মানুষ মূলত সর্দি-কাশি, ফ্লু (ইনফ্লুয়েঞ্জা), ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা বা হাঁপানি, এবং হুপিং কাশিতে আক্রান্ত হতে পারে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডা. বিশ্বাস নিম্নলিখিত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উপর জোর দিয়েছেন:

  • গরম পোশাক পরিধান: সর্বদা পর্যাপ্ত গরম কাপড়, বিশেষ করে মাফলার, কানটুপি ও মোজা পরিধান করা।
  • ঘরের ভেতরে থাকা: জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া, বিশেষ করে ভোরে ও সন্ধ্যার পরে।
  • বিশেষ যত্ন: শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া, কারণ তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

ডা. বিশ্বাস আরও উল্লেখ করেন যে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে এবং হাসপাতালে শীতজনিত রোগীর সেবার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, কুড়িগ্রামের মানুষকে এখন প্রয়োজন উষ্ণতা এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তা।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!