হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়অগ্নিকাণ্ড-পরবর্তী জট: বকেয়া টাকায় আটকে থার্ড টার্মিনাল, বিপাকে বিমানবন্দর
spot_img

অগ্নিকাণ্ড-পরবর্তী জট: বকেয়া টাকায় আটকে থার্ড টার্মিনাল, বিপাকে বিমানবন্দর

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি হয়েছে গভীর সংকট। আমদানি করা শত শত টন পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পণ্য খালাস ও হেফাজতের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে কার্গো কার্যক্রম। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) উদ্যোগ নেয়। তারা থার্ড টার্মিনালের নবনির্মিত কার্গো হাউস ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। গত রবিবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়ামকে (এডিসি) এ বিষয়ে একটি চিঠি দেয় বেবিচক। তারা আমদানি শাখা চালু করার জন্য সহযোগিতা চায়।

কিন্তু এই চিঠির জবাবে নতুন জটিলতার সৃষ্টি হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গতকাল সোমবার একটি পাল্টা চিঠি দেয়। তারা নতুন কার্গো হাউস ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। উল্টো তারা বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছে। এতে করে নতুন কার্গো হাউস চালুর পুরো পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। প্রতিদিন আসা কয়েকশ টন পণ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে গুরুতর শঙ্কা। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এখন এক প্রকার অসহায় অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলেও এ নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত সমাধানের কোনো পথ দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। এই অচলাবস্থা কবে কাটবে তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। এই জটিলতা দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিমানবন্দরের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান প্রবেশদ্বার।

ঠিকাদারের অভিযোগ: পাওনা টাকা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় 

কোরিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম (এডিসি) তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। তাদের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসিওক কিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, আমদানি কার্গো টার্মিনালের (আইসিটি) নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের অক্টোবরেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু নিয়োগকর্তা সংস্থা বেবিচক নিজস্ব কারণে টেকওভার সার্টিফিকেট জারিতে বিলম্ব করে। এই বিলম্বের কারণে স্থাপনা ও মূল্যবান সরঞ্জামের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে স্থাপনা বুঝে নেওয়ার আগ পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ খরচে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে যাচ্ছিল।

এই রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ের কথা তারা চলতি বছরের ৬ আগস্ট বেবিচককে একটি চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছিল। কিন্তু বেবিচক কর্তৃপক্ষ এই অতিরিক্ত খরচ পরিশোধ করেনি। এডিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্প সম্পদের সুরক্ষায় তাদের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বেবিচক অর্থ পরিশোধ করছে না। এটি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ। তারা চুক্তির সব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে। তারপরও তারা যথাযথ পাওনা পাচ্ছে না। এরই মধ্যে বেবিচকের পক্ষ থেকে নতুন কার্গো ভবন ব্যবহারের জন্য চিঠি আসে। কিন্তু পাওনা টাকা না পেয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এই মুহূর্তে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দিতে পারছে না।

তাছাড়া বেবিচকের চিঠিতে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। এই অস্পষ্টতাও তাদের সিদ্ধান্তহীনতার কারণ বলে দাবি করা হয়েছে। সূত্র মতে, ঠিকাদারের পাওনার পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা হতে পারে। এই টাকা পরিশোধ না করলে তারা নতুন কার্গো হাউসের চাবি হস্তান্তর করবে না। এই আর্থিক দাবিকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে। এই জটিলতার কারণে দেশের বাণিজ্য অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে।

থার্ড টার্মিনাল: আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও চালুর বাধা 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল একটি আধুনিক ও সর্বাধুনিক প্রকল্প। এর কার্গো হাউসও তেমনিভাবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত। এটি সম্পূর্ণ অটোমেটেড সিস্টেমে পরিচালিত হবে। কিন্তু শুধু ঠিকাদারের অনুমতি নিলেই এই কার্গো হাউস চালু করা সম্ভব নয়। বেবিচকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই কার্গো হাউস চালু করতে হলে বেশ কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এটি আন্তর্জাতিক মানের নকশা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে।

ফলে এর জন্য দেশি-বিদেশি অন্তত তিনটি সংস্থার সার্টিফিকেট অপরিহার্য। প্রথমত, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি সার্টিফিকেট নিতে হবে। এই সার্টিফিকেট নিশ্চিত করবে যে কার্গো হাউসটি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিমুক্ত এবং সব ধরনের জরুরি ব্যবস্থা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, সিটি কর্পোরেশন বা স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে একটি সার্টিফিকেট লাগবে। এটি সাধারণত স্থাপনা নির্মাণের সব নিয়ম মেনে করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে। তৃতীয়ত, এই ধরনের অটোমেটেড কার্গো হাউস পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার অনুমোদন বা সার্টিফিকেট প্রয়োজন হতে পারে।

এছাড়াও এই কার্গো হাউস পরিচালনার জন্য আধুনিক স্ক্যানার মেশিন ও প্রশিক্ষিত কর্মী দরকার। এই সব সরঞ্জাম ও জনবল এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই সব বাধা দূর না হওয়া পর্যন্ত নতুন কার্গো হাউস চালু করা সম্ভব হবে না। ফলে ঠিকাদারের অনুমতি পেলেও কারিগরি জটিলতার কারণে কার্যক্রম শুরু করা যাবে না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে বেবিচকের তাড়াহুড়ো করা সিদ্ধান্ত সমালোচনার মুখে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি একটি আধা-প্রস্তুত পরিকল্পনা ছিল।

পুড়ে যাওয়া কার্গো হাউস: ধসে পড়ার শঙ্কা ও তদন্ত প্রক্রিয়া 

গত শনিবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শাহজালাল বিমানবন্দরের পুরনো কার্গো হাউস মূলত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভবনটির অধিকাংশ অংশই সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ভবনের কিছু অংশের ছাদ ধসে পড়েছে। এতে করে পুরো ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার মারাত্মক শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তীব্র তাপে ভবনের ইস্পাতের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে এটি আর ব্যবহারের উপযোগী নয়। মালামাল রাখার জন্য ব্যবহৃত স্টিলের তৈরি তাকগুলোও সম্পূর্ণরূপে গলে গেছে বা পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে।

এই ধ্বংসযজ্ঞের কারণ উদঘাটন ও ভবনের বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। বেবিচক ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। এই আলামতের মধ্যে রয়েছে গলে যাওয়া ইস্পাত, পোড়া তার ও অন্যান্য উপকরণ। এসব আলামত পরীক্ষার জন্য আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগে পাঠানো হবে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা এই আলামত পরীক্ষা করে জানাবেন যে ভবনটি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তারা এটিও নির্ধারণ করবেন যে ভবনটি সংস্কার করে আবার ব্যবহার করা সম্ভব কিনা। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কোথা থেকে এবং কীভাবে ছড়িয়েছে তা খতিয়ে দেখতে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এই তদন্তের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ: আটকে পড়া পণ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষতি 

কার্গো হাউসের এই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হলেন আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা। প্রতিদিন বিদেশ থেকে আসা কয়েকশ টন পণ্য এখন আটকে পড়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা পচনশীল পণ্য, ওষুধপত্র, শিল্পের কাঁচামাল এবং মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। আমদানিকারকরা তাদের পণ্যের হেফাজত নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। তাদের কোথাও পণ্য রাখার জায়গা নেই। বিমানবন্দরের ওপেন স্পেসে এসব পণ্য রাখতে হচ্ছে, যা নিরাপদ নয়।

এতে করে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চুরির ঝুঁকিও বেড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তাদের পণ্য খালাস না হওয়ায় উৎপাদন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাদের ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। শিল্প-কারখানায় কাঁচামালের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে বিদেশি ক্রেতার কাছে পণ্য সরবরাহ করতে না পেরে সুনাম হারানোর আশঙ্কা করছেন। এই পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সরকারও রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এই সংকটের দ্রুত সমাধান দাবি করেছে। তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অনেকে ঠিকাদার ও বেবিচকের মধ্যে আপসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে সমাধানের কোনো পথ দেখছেন না তারা। এই অচলাবস্থা যত দিন থাকবে, তত দিন ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়তেই থাকবে। এর ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তদন্তের জট: একাধিক কমিটি ও সমাধানের অনিশ্চয়তা 

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো হাউসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ঘটনার গুরুত্ব বোঝা যায়, অন্যদিকে তদন্ত প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির প্রধান হলেন অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী।

তাদের মূল কাজ হলো অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও কারণ নির্ধারণ করা। তারা খতিয়ে দেখবেন যে আগুন কোথা থেকে লেগেছে এবং এটি এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ কী। বৈদ্যুতিক গোলযোগ, অবহেলা নাকি অন্য কোনো কারণ ছিল তা তারা তদন্ত করবেন। এই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ও একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাদের লক্ষ্য হলো বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো গাফিলতি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, যারা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে আছে, তারাও একটি তদন্ত কমিটি করেছে। সম্প্রতি দেশে পরপর কয়েকটি বড় অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটি ‘কোর কমিটি’ও গঠন করেছে। স্বরাষ্ট্র সচিবকে প্রধান করে গঠিত এই সাত সদস্যের কমিটিকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। এতগুলো কমিটির তদন্ত একই সাথে চলায় সমন্বয়ের অভাব দেখা দিতে পারে। এতে সমাধান পেতে আরও সময় লাগতে পারে। এই তদন্তগুলোর ফলাফল কী হবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সমাধানের পথ ও দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ 

বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানোর জন্য একটি ব্যাপক ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। স্বল্পমেয়াদী সমাধান হিসেবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে একটি অস্থায়ী কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বিমানবন্দরের কোনো খোলা জায়গা বা আশপাশের এলাকায় এমন ব্যবস্থা করা সম্ভব হতে পারে। এতে আপাতত আটকে পড়া পণ্য খালাস করা যেতে পারে।

একই সঙ্গে, বেবিচককে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসির সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে। তাদের বকেয়া পাওনার বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করা প্রয়োজন। পাওনা পরিশোধ করলে ঠিকাদার নতুন কার্গো হাউসের দখল বুঝিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর থার্ড টার্মিনালের কার্গো হাউস চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। ফায়ার সার্ভিস, সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য সংস্থার সার্টিফিকেট পেতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পুড়ে যাওয়া কার্গো হাউসটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে। বুয়েটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে ভবনটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে নাকি সংস্কার করা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশের সব অবকাঠামোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিক ও কার্যকর করা। নিয়মিত অগ্নি নিরাপত্তা মহড়া ও পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। এই সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে। তবেই দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা থামবে না।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!