হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
মঙ্গলবার, জুন ২৩, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeআর্ন্তজাতিকগাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: ইসরায়েলের হামলায় এক পরিবারের ১১ জন নিহত
spot_img

গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন: ইসরায়েলের হামলায় এক পরিবারের ১১ জন নিহত

গাজার জেতুন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী এক ফিলিস্তিনী পরিবারের উপর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাত শিশু, তিন নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। হামলা ঘটে এমন সময় যখন পরিবারটি বেসামরিক গাড়িতে যাচ্ছিল।

হামলার ঘটনা

গাজার সিভিল ডিফেন্সের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি বাহিনী একটি ট্যাংকের গোলা ছুড়ে পরিবারের গাড়িতে আঘাত করে। গাড়িটিতে শিশু ও নারীও ছিল। নিহত পরিবারটি শান্তি চুক্তি এলাকায় যাচ্ছিলো, যেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, “পরিবারটিকে সতর্ক করা যেত বা অন্যভাবে মোকাবিলা করা যেত। যা ঘটেছে তা প্রমাণ করে দখলদাররা এখনও নিরীহ মানুষদের রক্তের জন্য তৃষ্ণার্ত।”

হামাসের প্রতিক্রিয়া

হামাস এই হামলাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। হামলার সময় পরিবারটি এমন এলাকায় ছিল, যেটি শান্তি চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনাদের ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।

যুদ্ধবিরতির শর্ত

যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, ‘ইয়েলো লাইন’ হলো সেই সীমান্ত, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী অবস্থান করবে না। কিন্তু যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনিরা এই সীমারেখার কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। অধিকাংশ ফিলিস্তিনির ইন্টারনেট সুবিধা না থাকার কারণে তারা জানে না ইসরায়েলি বাহিনী কোথায় অবস্থান করছে। ফলে পরিবারগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, গাজায় ইয়েলো লাইনগুলো শিগগিরই স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হবে।

গাজার বর্তমান অবস্থা

যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরও গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। চুক্তি অনুযায়ী বন্দি বিনিময় অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধবিরতি কার্যকালে এ পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

হামাসের শান্তি প্রয়াস

হামাস বলেছে, তারা শান্তি চুক্তি মেনে চলছে। এছাড়া তারা মাটির নিচে থাকা ইসরায়েলি বন্দীদের দেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছে। শুক্রবার আরেক জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। এভাবে ফেরত দেওয়া মৃত জিম্মির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ইসরায়েলের উপর চাপ সৃষ্টি করা যাতে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়িত হয় এবং নিরীহ মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

শিশু ও নারী হত্যা

নিহতদের মধ্যে ৭ শিশু এবং ৩ নারী। এটি গাজার আট দিন আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সহিংসতা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই হত্যাকাণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেছে।

নিরাপত্তা সংকট

গাজার অনেক ফিলিস্তিনি এলাকা এখনো ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে সাধারণ মানুষ সীমারেখা সম্পর্কে ঠিকমতো জানতে পারছে না। এর ফলে পরিবারগুলো সহজেই ঝুঁকিতে পড়ছে।

শান্তি চুক্তি রক্ষার প্রয়াস

হামাস চেষ্টা করছে চুক্তি রক্ষা করতে এবং আহত ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা দিতে। এছাড়া বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া চলমান রাখছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের এই ঘটনার পরও হামাস শান্তি চুক্তি মেনে চলার বার্তা দিয়েছে।


এই ঘটনা গাজার পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তার অভাব, অসামরিক মানুষদের ঝুঁকি, এবং শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে অসুবিধা স্পষ্ট।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!