বৈশ্বিক অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার এবং যুবসমাজকে সামরিক প্রশিক্ষণে দক্ষ করে তোলার দাবি জোরালো হচ্ছে। গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার রাজধানীর ঊষা চত্বরে ‘সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ’ আয়োজিত এক নাগরিক কর্মশালায় বক্তারা এই দুই বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বেকারত্বের অভিশাপ ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা
কর্মশালায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যমতে দেশে ২৬ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বেকার। এর মধ্যে শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৮৭ শতাংশ, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই হার আরও বেশি।
বক্তারা বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞাননির্ভর, যা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারছে না। ফলে ডিগ্রি শেষ করে তরুণরা কেবল চাকরির পেছনে ছুটছে, কিন্তু নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মানসিকতা বা দক্ষতা তাদের গড়ে উঠছে না। এই প্রেক্ষাপটে তারা বলেন:
- শিক্ষা ব্যবস্থাকে তাত্ত্বিক থেকে ব্যবহারিক ও কর্মমুখী করতে হবে।
- তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে শিক্ষার কারিকুলাম পরিবর্তন করতে হবে।
- বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
সময়ের দাবি: বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ
বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে বক্তারা যুবসমাজকে সুশৃঙ্খল ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন। তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক শিক্ষার অভাব ও শৃঙ্খলার সংকট দূর করতে সামরিক প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।
বক্তারা বলেন, চীন, রাশিয়া, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও ডেনমার্কের মতো উন্নত দেশগুলো তাদের যুবকদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রেখেছে। এটি বিলাসিতা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে সময়ের দাবি। বর্তমান সরকার যেহেতু রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে, তাই তারা সরকারের কাছে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।
কর্মশালায় যারা উপস্থিত ছিলেন
সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মো. মোস্তফা আল ইহযাযের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
- প্রধান অতিথি: লে. কর্নেল খন্দকার ফরিদুল আকবর (অব.)
- প্রধান বক্তা: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান (অব.)
- বিশেষ অতিথি: মেজর হারুনুর রশিদ (অব.), অ্যাডভোকেট জাকির সিরাজী, আলহাজ্ব শরিফ শাকি, মো. হাবিবুর রহমান, মো. আজম খান, এম এ সোহেল আহমেদ, এস এম সায়েদুল ইসলাম, সেলিম রেজা বাচ্চু, শাহ আলম, কবি ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসী ও জহিরুল কবির প্রমুখ।
সরকারের কাছে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং বেকারত্ব নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা মনে করেন, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত যুবসমাজই পারে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে।








