যারা আমেরিকার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা দেওয়া পুরোপুরি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন নির্দেশনার ফলে এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই কঠোর নির্দেশনা কার্যকর হতে যাচ্ছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিল বাইডেন প্রশাসন এবং এর প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো আজকের প্রতিবেদনে।
কেন হঠাৎ ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্ত?
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত কনস্যুলার অফিসগুলোতে একটি জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভিসা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটি নতুন করে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। তবে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি সহায়তার বিষয়টি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে মার্কিন সরকারের দেওয়া সামাজিক সুরক্ষা বা আর্থিক অনুদানের ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তাদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ। সহজ কথায়, যারা বিদেশি নাগরিক হয়েও আমেরিকার করদাতাদের টাকার ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, তাদের আর দেশটিতে ঢুকতে দিতে চায় না প্রশাসন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র টমি পিগট সংবাদমাধ্যমকে জানান, তারা পুরো ভিসা প্রদান প্রক্রিয়াটি পুনর্নিরীক্ষণ বা রিভিয়্যু করছেন। তিনি বলেন,
“পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়াগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখছে। তাই আপাতত ৭৫টি দেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে আসা বন্ধ রাখা হবে। মূলত যারা বিদেশি নাগরিক হয়েও আমেরিকার সরকারি ত্রাণ বা সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করতে পারেন, তাদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
টমি পিগট আরও স্পষ্ট করেছেন যে, যতক্ষণ না পর্যন্ত পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত হচ্ছে যে আগত অভিবাসীরা কল্যাণ ভাতা বা সরকারি সুবিধার লোভে আসছেন না, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ৭৫টি দেশ থেকে অভিবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ, ২১ তারিখের পর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে।
বাংলাদেশসহ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলো
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে যারা শিক্ষার্থী, পর্যটক বা অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তারা বড় ধরনের বিপাকে পড়তে পারেন।
তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হলো:
- এশিয়া: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, ইরান, ইরাক, লেবানন, জর্ডান, কুয়েত, থাইল্যান্ড ইত্যাদি।
- অন্যান্য: ব্রাজিল, মিশর, রাশিয়া, ইউক্রেন (পরোক্ষভাবে), আলজেরিয়া, কলম্বিয়া, কিউবা এবং আফ্রিকার দেশ যেমন: নাইজেরিয়া, সুদান, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া।
এছাড়াও আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, বসনিয়া, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুনসহ মোট ৭৫টি দেশের নাম এই তালিকায় রয়েছে।
ভিসা প্রত্যাশীদের করণীয় কী?
এই মুহূর্তে যারা ভিসার জন্য আবেদন করেছেন বা ইন্টারভিউয়ের অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘পুনর্নিরীক্ষণ চলাকালীন’ সকল আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে। এর মানে হলো, ২১ জানুয়ারির পর থেকে যারা ইন্টারভিউ দেবেন, তাদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়, যতক্ষণ না নতুন কোনো ঘোষণা আসছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির একটি বড় পরিবর্তন। এর ফলে বৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে আসবে। তবে এটি সাময়িক স্থগিতাদেশ নাকি দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা, তা আগামী দিনগুলোতে আরও পরিষ্কার হবে। আপাতত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মের দিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।








