জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) পর্যালোচনা বিষয়ক সম্মেলনে ইরানকে অন্যতম সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা নিয়ে জাতিসংঘে তীব্র বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শুরু হওয়া এই সম্মেলনটি এখন বিশ্বরাজনীতির নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত যেখানে
নন-অ্যালাইনড মুভমেন্ট (NAM)-এর প্রার্থী হিসেবে ইরানকে এনপিটি সম্মেলনের ৩৪ জন সহ-সভাপতির একজন হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এই সিদ্ধান্তের পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ক্রিস্টোফার ইয়াও তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, যে দেশটি পারমাণবিক চুক্তির প্রতি ধারাবাহিকভাবে অবজ্ঞা প্রদর্শন করে আসছে, তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া সম্মেলনের গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান
- যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ: ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে সহযোগিতা করছে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে অস্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তকে এনপিটি চুক্তির প্রতি এক ধরনের ‘উপহাস’ বলে বর্ণনা করেছে।
- ইরানের পাল্টা যুক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের প্রতিনিধিদের পাল্টা দাবি, বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে যারা পারমাণবিক বোমা ব্যবহার করেছে, তাদের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার নেই।
কেন এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ
২৭ এপ্রিল শুরু হওয়া এই এনপিটি পর্যালোচনা সম্মেলনটি আগামী ২২ মে পর্যন্ত চলবে। পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির প্রাসঙ্গিকতা রক্ষা করা এবং নতুন প্রযুক্তির যুগে এর সীমাবদ্ধতা দূর করাই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্ষমতার লড়াই সম্মেলনটির মূল লক্ষ্যকে অনেকটা আড়াল করে দিয়েছে।
বিশ্বের পরমাণু কূটনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে যখন নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দুই শক্তির এমন মুখোমুখি অবস্থান সম্মেলনটির সফলতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক সপ্তাহে এই উত্তেজনা প্রশমিত হয় নাকি বিশ্বশান্তির এই মঞ্চ ক্ষমতার লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকে।








