কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীতে নোঙর করে রাখা সেন্ট মার্টিনগামী পর্যটকবাহী জাহাজ ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোরের এই ঘটনায় পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের কোনো বিপদ ঘটেনি।
কীভাবে ঘটল এই অগ্নিকাণ্ড?
স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ ঘাট সংলগ্ন নদীতে অবস্থানরত জাহাজটি থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ধোঁয়ায় চারপাশ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। জাহাজে থাকা কর্মীরা দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন। জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষ অথবা বৈদ্যুতিক লাইনের কোনো গোলযোগ (Short Circuit) থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানাতে পারবে বলে জানিয়েছে।
আগুনে জাহাজের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার সময় জাহাজটিতে কোনো পর্যটক ছিলেন না, যা একটি বড় রক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও জাহাজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বর্তমানে জাহাজটি অগ্নিনিরাপত্তা কর্মীদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং জাহাজ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন। জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পর্যটকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, এই ঘটনার পর সেন্ট মার্টিন যাত্রা ব্যাহত হবে কি না। এ বিষয়ে জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাহাজটির যাত্রা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পর্যটকদের যাত্রার বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতা
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের মৌসুম হওয়ায় এই মুহূর্তে কক্সবাজারে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। পর্যটকবাহী জাহাজে আগুনের এই ঘটনা নৌ-পথে ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা এবং অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা জোরদার থাকলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের ভূমিকা
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হন। যার ফলে আগুন জাহাজের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছেন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন।
সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে আগুনের এই ঘটনাটি পর্যটন সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সৌভাগ্যবশত কোনো হতাহত না হলেও, ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানতে পর্যটকদের জাহাজ কর্তৃপক্ষের নোটিশের দিকে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে।








