হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়সালমান এফ রহমানকে ৫ আগস্ট যেসব কথা বলেছিলেন শেখ রেহানা
spot_img

সালমান এফ রহমানকে ৫ আগস্ট যেসব কথা বলেছিলেন শেখ রেহানা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তনের দিন। ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ওই দিন পতন ঘটে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের। ঠিক সেই মুহূর্তে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। দেশ ছাড়ার আগমুহূর্তে চারদিকে যখন চরম উত্তেজনা, তখন সরকারের মন্ত্রী ও ঘনিষ্ঠজনদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল।

ঠিক এই সময়েই শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা ফোন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে। তাকে দ্রুত ‘সেইফ জোনে’ বা নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য তাগিদ দেন শেখ রেহানা। দীর্ঘদিন পর সেই গোপন ফোনালাপের অডিও রেকর্ড বাজিয়ে শোনানো হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

ট্রাইব্যুনালে যেভাবে এলো এই ফোনালাপ

জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে কারফিউ জারি, গণহত্যায় উসকানি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বেশ কিছু মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলোর অন্যতম আসামি হলেন সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

সোমবার (১৮ মে, ২০Useful) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার নবম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন সিআইডির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ উপ-পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতে সবার সামনে বাজিয়ে শোনানো হয় সালমান এফ রহমান এবং শেখ রেহানার সেই চাঞ্চল্যকর অডিও রেকর্ডটি।

শেখ রেহানা ও সালমান এফ রহমানের সেই ফোনালাপ (হুবহু বিবরণ)

২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের সেই ফোনালাপে শোনা যায়, শেখ রেহানা শুরু থেকেই সালমান এফ রহমানকে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বাসা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলছেন। নিচে সেই কথোপকথনটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

  • সালমান: হ্যালো।
  • কর্নেল রাজিব: সালামালাইকুম স্যার। স্যার কর্নেল রাজিব বলছি স্যার। রেহানা আপা একটু কথা বলতো ওভার টু ওভার স্যার।
  • সালমান: কে?
  • কর্নেল রাজিব: রেহানা আপা, রেহানা আপা। জ্বি স্যার।
  • রেহানা: স্লামালাইকুম ভাইয়া।
  • সালমান: হ্যাঁ, অলাইকুমল্লাম।
  • রেহানা : জি আপনি কই?
  • সালমান : আমি আমার বাসায়।
  • রেহানা : থাইকেন না।
  • সালমান : থাকবো না, হ্যাঁ ঠিকাছে।
  • রেহানা: আমরা অন্য জায়গায় আছি, আমরা মানে ববি, টিউলিপ ওকে কনভিন্স করছে তো… কল না করতে পারলেও আল্লাহ যদি বাঁচাই রাখে কথা হবে।
  • সালমান : আচ্ছা, তো তোমরা অন্য জায়গায় চলে গেছ? আপাও গেছে?
  • রেহানা : জি ভাই। তো আপনি…
  • সালমান : আমরা যদি বাইর হইতে পারি, আমরা বের হয়ে যাবো। আনিসুল হককেই বের করে ফেলি সাথে?
  • রেহানা : হ্যাঁ, হ্যাঁ, যেটা হয় আপনি ইমিডিয়েটলি ওই যে শায়ান আর জয় যেটা বলছে আপনি ওইটা করেন।
  • সালমান : ঠিকাছে, ঠিকাছে। ওকে।
  • রেহানা : এক সেকেন্ডও দেরি কইরেন না। কারণ সম্পার বাসায় গেছে ফটো তুলছে এবং চারদিকে মানে সাদা জোব্বা পরা দাড়িওয়ালা এই আরকি। ইউ শুড বি (you should be) মানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আর আমি কনভিন্স করতেছি যে, মানে যা আছে ঐটা করবো আরকি। এখানে একদম থাকা সেইফ না।
  • সালমান : আচ্ছা ঠিকাছে তাহলে ও কি বলবে মার্শাল ‘ল’ ডিক্লার করতেছে না সে?
  • রেহানা : ঐগুলো এখন বাদ দেন, ইউ শুড বি লিভ ইমিডিয়েটলি (you should be leave emediatly.)
  • সালমান : ওকে।
  • রেহানা : জ্বি ভাইয়া ফি-আমানিল্লাহ দোয়া করবেন।
  • সালমান : ফি আমানিল্লাহ।
  • রেহানা : স্লালামালাইকুম।
  • সালমান : অলাইকুমস্লাম।

ফোনালাপের সময় কাঠগড়ায় সালমানের প্রতিক্রিয়া

আদালত কক্ষে যখন এই অডিও রেকর্ডটি বাজানো হচ্ছিল, তখন কাঠগড়ায় বসে নিজের এই ফোনালাপটি অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনতে দেখা যায় সালমান এফ রহমানকে। এর ঠিক কিছু সময় আগেই তিনি কাঠগড়ায় তার পাশে বসা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে নিচু স্বরে কথা বলছিলেন। অডিওটি বাজার সময় পুরো আদালত জুড়ে এক পিনপতন নীরবতা নেমে আসে।

এই মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। তার সাথে আইনি সহায়তায় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সুলতান মাহমুদ, মামুনুর রশিদ এবং মার্জিনা রায়হানসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।

৫ আগস্টের শেষ মুহূর্তের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক

শেখ রেহানা ও সালমান এফ রহমানের এই ফোনালাপ বিশ্লেষণ করলে ৫ আগস্টের শেষ মুহূর্তের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিষ্কার হয়ে ওঠে:

১. দ্রুত স্থান ত্যাগের তাগিদ

কথোপকথন থেকে স্পষ্ট যে, শেখ রেহানা বারবার সালমান এফ রহমানকে তার নিজ বাসভবন ছাড়ার তাগিদ দিচ্ছিলেন। চারদিকের পরিস্থিতি যে তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তা তারা বুঝতে পেরেছিলেন।

২. আনিসুল হককে সঙ্গে নেওয়ার পরিকল্পনা

ফোনালাপে সালমান এফ রহমান নিজেই সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে সাথে নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এতে বোঝা যায়, দলের শীর্ষ নেতারা একে অপরের সাথে যোগাযোগ রেখে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।

৩. মার্শাল ল বা সামরিক শাসনের চিন্তা

ফোনালাপের এক পর্যায়ে সালমান এফ রহমান জানতে চান, “ও কি বলবে মার্শাল ‘ল’ ডিক্লার করতেছে না সে?”। এর জবাবে শেখ রেহানা তাকে এই সব চিন্তা বাদ দিয়ে দ্রুত স্থান ছাড়ার নির্দেশ দেন। এর থেকে প্রমাণিত হয়, শেষ মুহূর্তেও তারা সামরিক শাসন জারির মতো কোনো পরিস্থিতি আশা করছিলেন।


৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান এবং তৎকালীন সরকারের পতনের পর এই প্রথম কোনো শীর্ষ নেতার এমন গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আদালতে প্রকাশ পেল। এই ফোনালাপটি সেদিনের আসল পরিস্থিতি এবং ক্ষমতার শেষ মুহূর্তের ভেতরের চিত্রটি সাধারণ মানুষের সামনে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!