স্মার্টফোন ব্যবহারকারী সাড়ে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল গ্রাহকের জন্য আসছে বড় ধরনের স্বস্তির খবর। দীর্ঘ ১৫ বছর পর প্রথমবারের মতো মোবাইল সেবার ওপর করের বোঝা কমানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। আসছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য আরোপিত বিশেষ সারচার্জ বাতিল এবং সিম কর কমানোর জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে মোবাইল সেবায় উচ্চমাত্রার করের কারণে গ্রাহকরা ১০০ টাকা রিচার্জ করলে সব মিলিয়ে ব্যবহার করতে পারেন মাত্র ৫৮ টাকা। কলরেট এবং ইন্টারনেটের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে আনতে এই কর কাঠামো পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিনের।
পদ্মা সেতুর সারচার্জ ও সিম কর নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত
২০১৬ সালে পদ্মা সেতু নির্মাণের অর্থ জোগাতে মোবাইল সেবায় ১ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হয়েছিল। সেতু উদ্বোধনের চার বছর পেরিয়ে গেলেও গ্রাহকরা এখনো এই কর দিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি সূত্র ও মোবাইল অপারেটরদের মতে, আসন্ন বাজেটে এই ১ শতাংশ সারচার্জ পুরোপুরি বাতিল হতে পারে। এর পাশাপাশি একটি নতুন সিম কেনা বা রিপ্লেস করার ক্ষেত্রে বর্তমান ৩০০ টাকা করও উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব রয়েছে।
কেন কলরেট ও ইন্টারনেটের দাম কমছে না
মোবাইল অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে একজন গ্রাহককে ১০০ টাকা রিচার্জে প্রায় ৪২ টাকা কর দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে:
- সম্পূরক শুল্ক: ২৩ শতাংশ
- কার্যকরী ভ্যাট: ১৮ শতাংশ
- সারচার্জ: ১ শতাংশ এই বিশাল শুল্কের চাপে অপারেটরগুলো চাইলেও কলরেট বা ইন্টারনেটের খরচ কমাতে পারছে না। গত ১০ বছরে মোবাইল অপারেটরগুলো সরকারকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে, যার মধ্যে সারচার্জই ছিল ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও ডিজিটাল বাংলাদেশ
প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়াতে ব্রডব্যান্ড সেবাদাতারাও কর ছাড়ের দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি ব্রডব্যান্ড গ্রাহক ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিচ্ছেন। ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি (ISPAB) এই ভ্যাট শূন্যে নামিয়ে আনার পাশাপাশি রাউটার ও নেটওয়ার্কিং পণ্য আমদানিতে কর প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও টেলিকম খাতে করের বোঝা কমানোর আশ্বাস পাওয়া গেছে।
বেসরকারি অপারেটরদের বাড়তি চাপ
চলতি বছরেই তিনটি বেসরকারি মোবাইল অপারেটরকে প্রায় ১৬ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা মূল্যের তরঙ্গ (Spectrum) নবায়ন করতে হবে। এই বিপুল অংকের ওপর ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে সরকারকে দিতে হবে আরও ১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। এই আর্থিক চাপ কমাতে না পারলে গ্রাহক পর্যায়ে সেবার মান নিশ্চিত করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোবাইল সেবায় করের বোঝা কমলে সরাসরি লাভবান হবেন সাধারণ গ্রাহকরা। কলরেট এবং ডেটা খরচ কমলে ডিজিটাল অর্থনীতি আরও বেগবান হবে। সরকারের এই প্রতিশ্রুতি বাজেটে বাস্তবায়িত হলে তা হবে গত দেড় দশকের মধ্যে টেলিকম খাতের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন।








