কমলা একটি জনপ্রিয় সাইট্রাস ফল, যা তার মিষ্টি-টক স্বাদ এবং উজ্জ্বল রঙের জন্য পরিচিত। এটি কেবল মুখরোচকই নয়, বরং অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতার একটি ভান্ডার। ভিটামিন C এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানে ভরপুর এই ফলটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে ত্বককে সতেজ রাখা পর্যন্ত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শীতকালে কমলার চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকলেও, সারা বছরই এটি আমাদের খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখার জন্য কমলা কেন এত উপকারী, সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো এই নির্দেশিকায়।
কমলা ফলের পরিচিতি
এই কমলা হলো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফলগুলোর মধ্যে একটি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Citrus sinensis।
কমলা কী ধরনের ফল
কমলা হলো এক ধরনের সাইট্রাস (Citrus) ফল। সাইট্রাস ফলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের মিষ্টি-টক স্বাদ, মোটা খোসা এবং রসালো কোষযুক্ত শাঁস। সাইট্রাস পরিবারে লেবু, মাল্টা, জাম্বুরা ইত্যাদি ফলও অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশে কমলার প্রাপ্যতা ও জনপ্রিয়তা
যদিও বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে কমলার উৎপাদন কম, তবুও এটি আমদানিকৃত ফল হিসেবে সারা বছরই বেশ সহজলভ্য এবং অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে শীতকালে এর সহজলভ্যতা ও মান বেড়ে যায়। বাংলাদেশে কমলা মূলত সতেজ ফল হিসেবে খাওয়া হয়, এছাড়া রস ও জ্যাম তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়।
কমলা খাওয়ার পুষ্টিগুণ
কমলা হলো পুষ্টি উপাদানের একটি চমৎকার উৎস। এর প্রতিটি অংশই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

কমলায় থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান
কমলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- ভিটামিন C (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড): এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর প্রধান উপাদান।
- ভিটামিন A: চোখের স্বাস্থ্য এবং ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- বি ভিটামিন (থিয়ামিন, ফোলেট/B9): কোষের কার্যকারিতা ও বিপাক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
- পটাশিয়াম: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
- ক্যালসিয়াম: হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়।
ভিটামিন C এর প্রধান উৎস হিসেবে কমলা
কমলা ভিটামিন C এর একটি অন্যতম প্রধান উৎস। একটি মাঝারি আকারের কমলা দৈনিক চাহিদার প্রায় ৭০-৮০% ভিটামিন C সরবরাহ করতে পারে। এই ভিটামিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের ক্ষতিকারক ফ্রি র্যাডিক্যাল থেকে কোষকে রক্ষা করে।
কমলায় থাকা ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
- ফাইবার (আঁশ): কমলায় দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় উভয় ধরনের ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে মসৃণ করে।
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: ভিটামিন C ছাড়াও কমলায় বিভিন্ন ফ্ল্যাভোনয়েড (যেমন হেস্পেরিডিন, নারিঞ্জেনিন) এবং ক্যারোটিনয়েড (যেমন বিটা-ক্রিপ্টোক্সানথিন) থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো শরীরের প্রদাহ কমায় এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
কমলা খাওয়ার উপকারিতা
নিয়মিত কমলা খেলে শারীরিক স্বাস্থ্য বজায় রাখা সম্ভব।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কমলার ভূমিকা
কমলার উচ্চ মাত্রার ভিটামিন C শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত কমলা সেবন ঠান্ডা লাগা, ফ্লু এবং অন্যান্য সাধারণ সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।
হজম শক্তি উন্নত করতে কমলা
কমলায় থাকা ডায়েটারি ফাইবার হজমের প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে এবং পাকস্থলীর স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে কমলা খাওয়ার উপকারিতা
কমলায় থাকা ফাইবার, পটাশিয়াম এবং কোলিন হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- পটাশিয়াম: রক্তনালীগুলোকে শিথিল করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- ফাইবার: রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতে কমলা
ভিটামিন C ত্বকের প্রধান প্রোটিন কোলাজেন উৎপাদনে অপরিহার্য। কোলাজেন ত্বককে স্থিতিস্থাপক ও দৃঢ় রাখে। নিয়মিত কমলা খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে, বলিরেখা কম হয় এবং ফ্রি র্যাডিক্যালের কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে ত্বক রক্ষা পায়।
চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কমলার উপকারিতা
কমলায় ভিটামিন A (বিটা-ক্যারোটিন আকারে) এবং ভিটামিন C উভয়ই উপস্থিত। এই উপাদানগুলো দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে এবং বয়সজনিত চোখের রোগ (যেমন ম্যাকুলার ডিজেনারেশন) প্রতিরোধে সহায়ক।
কমলা খাওয়ার উপকারিতা পুরুষদের জন্য
পুরুষদের স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে কমলার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
কর্মক্ষমতা ও শক্তি বাড়াতে কমলা
কমলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা (ফ্রুক্টোজ) দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। পাশাপাশি, এতে থাকা থিয়ামিন এবং ফোলেট শরীরের শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে, যা দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা ও জীবনীশক্তি বাড়াতে সহায়ক।
হৃদরোগ ঝুঁকি কমাতে কমলার ভূমিকা
যেহেতু পুরুষদের মধ্যে হৃদরোগের প্রবণতা বেশি দেখা যায়, তাই কমলার ফাইবার ও পটাশিয়াম রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে বিশেষভাবে কার্যকর।
কমলা খাওয়ার উপকারিতা নারীদের জন্য
কমলা নারীদের ত্বক, রক্তস্বল্পতা এবং হরমোন স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
ত্বক ও চুলের যত্নে কমলা
ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি, কমলার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলের ফলিকলকে শক্তিশালী করে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। এটি চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও সহায়তা করে।
রক্তস্বল্পতা ও হরমোন ভারসাম্যে কমলার ভূমিকা
কমলায় যদিও সরাসরি আয়রন কম, এতে থাকা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন C খাদ্যের মাধ্যমে গৃহীত আয়রনের শোষণ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এটি রক্তস্বল্পতা (Anemia) প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, ভিটামিন B6 ও ফোলেট হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
গর্ভাবস্থায় কমলা খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভবতী মায়েদের জন্য কমলা একটি সুপারফুড হিসেবে কাজ করতে পারে।

গর্ভস্থ শিশুর বিকাশে কমলার ভূমিকা
কমলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ফোলেট (ভিটামিন B9) থাকে। গর্ভাবস্থায় ফোলেট গ্রহণ শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের সঠিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নিউরাল টিউব ত্রুটি প্রতিরোধে সহায়তা করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য ও দুর্বলতা কমাতে কমলা
গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা। কমলার ফাইবার এই সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন C গর্ভবতী মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শক্তি বজায় রাখে।
শিশুদের জন্য কমলা খাওয়ার উপকারিতা
শিশুদের ক্রমবর্ধমান শরীরের জন্য কমলা খুবই উপকারী।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
শিশুদের জন্য এটি একটি চমৎকার ইমিউনিটি বুস্টার। প্রতিদিন একটি কমলা খেলে তারা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি সুরক্ষিত থাকে।
হাড় ও দাঁত মজবুত করতে কমলা
কমলায় থাকা ক্যালসিয়াম, যদিও দুধের মতো বেশি নয়, তবে এতে থাকা ভিটামিন C ক্যালসিয়ামকে শরীরে ভালোভাবে শোষিত হতে সাহায্য করে। এটি সুস্থ হাড় এবং দাঁতের গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কমলা খাওয়ার সঠিক সময় ও নিয়ম
কমলা থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে এর সঠিক সময় ও নিয়ম জানা জরুরি।
সকালে না রাতে কমলা খাওয়া ভালো
কমলা মূলত যেকোনো সময় খাওয়া যেতে পারে, তবে সকালে বা দিনের প্রথম ভাগে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। কারণ:
- সকালে ফাইবার গ্রহণ হজম প্রক্রিয়া শুরু করতে সাহায্য করে।
- ভিটামিন C দিনের শুরুতে কর্মশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
- রাতে খাওয়ার কারণে এর অ্যাসিডিক গুণাগুণ অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
খালি পেটে কমলা খাওয়া উচিত কি না
খালি পেটে কমলা খাওয়া নিয়ে বিতর্ক আছে। বেশিরভাগ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যাদের গ্যাসট্রাইটিস বা পেটে অ্যাসিডের সমস্যা নেই, তারা খালি পেটে কমলা খেতে পারেন। তবে যাদের বুক জ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা আছে, তাদের জন্য সকালে খালি পেটে অ্যাসিডিক ফল যেমন কমলা খাওয়া এড়িয়ে চলাই উত্তম।
কমলা খাওয়ার অপকারিতা
যদিও কমলা খুবই স্বাস্থ্যকর, তবুও কিছু ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
অতিরিক্ত কমলা খেলে কী হতে পারে
অতিরিক্ত কমলা খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে:
- পেটের সমস্যা: কমলায় প্রচুর ফাইবার থাকায় অতিরিক্ত সেবনে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ডায়রিয়া হতে পারে।
- দাঁতের ক্ষয়: ফলের অ্যাসিডিক প্রকৃতির কারণে অতিরিক্ত সেবন দাঁতের এনামেলের ক্ষয় ঘটাতে পারে।
- অতিরিক্ত ভিটামিন C: যদিও এটি জলে দ্রবণীয়, তবুও অত্যধিক ভিটামিন C গ্রহণে বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা বা কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কোন রোগীদের কমলা খাওয়া সতর্কতার সঙ্গে করা উচিত
- গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের রোগী: এদের ক্ষেত্রে কমলার অ্যাসিডিক উপাদান সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
- কিডনি রোগী: কমলায় পটাশিয়াম থাকায় কিডনি রোগীদের এটি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কমলা বনাম অন্যান্য সাইট্রাস ফল
সাইট্রাস ফলগুলো প্রায় সবাই স্বাস্থ্যকর, কিন্তু তাদের পুষ্টিগুণে সামান্য পার্থক্য আছে।
লেবু ও মাল্টার সঙ্গে কমলার তুলনা
| বৈশিষ্ট্য | কমলা | লেবু | মাল্টা |
| ভিটামিন C | উচ্চ | সবচেয়ে বেশি | উচ্চ |
| ফাইবার | উচ্চ | কম | মাঝারি |
| স্বাদ | মিষ্টি-টক | অত্যন্ত টক | মিষ্টি |
| শর্করা | বেশি | কম | মাঝারি |
| ব্যবহার | সরাসরি খাওয়া | রস ও স্বাদ বৃদ্ধিতে | সরাসরি খাওয়া/জুস |
কোন ফল কার জন্য বেশি উপকারী
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: লেবু (ভিটামিন C এর সর্বোচ্চ ঘনত্ব)।
- হজম ও স্বাস্থ্য: কমলা (ফাইবার ও মিষ্টি স্বাদের জন্য)।
- হাইড্রেশন: মাল্টা (এর রস বেশি)।
প্রতিদিন কয়টা কমলা খাওয়া উচিত
কমলা খাওয়ার পরিমাণ বয়স, স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে।

বয়সভেদে কমলা খাওয়ার পরিমাণ
সাধারণত একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন ১ থেকে ২ টি মাঝারি আকারের কমলা বা ১ গ্লাস কমলার রস (যা পুরো ফল খাওয়ার চেয়ে কম উপকারী) যথেষ্ট।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ
পুষ্টিবিদরা সাধারণত ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য বজায় রাখার পরামর্শ দেন। দৈনিক ফলের চাহিদা পূরণের জন্য অন্যান্য ফলের পাশাপাশি দিনে ১টি কমলা খাওয়া আদর্শ। ডায়াবেটিস বা অন্যান্য স্বাস্থ্য জটিলতা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কমলা থেকে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়ার টিপস
কমলার সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে কিছু টিপস অনুসরণ করা যেতে পারে।
কাঁচা কমলা বনাম জুস
কমলার জুস তৈরি করলে ফলের আঁশ বা ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়। ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং হজমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাঁচা বা গোটা কমলা খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া জুস পান করার চেয়ে বেশি উপকারী।
কমলা সংরক্ষণের সঠিক উপায়
এই কমলা ঠাণ্ডা এবং শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করা উচিত। ফ্রিজের বাইরে রাখলে এক সপ্তাহ এবং ফ্রিজে রাখলে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সতেজ থাকে।
কমলা খাওয়া নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা
কিছু ভুল ধারণা দূর করা প্রয়োজন।
ঠান্ডা লাগলে কমলা খাওয়া যাবে কি না
হ্যাঁ, ঠান্ডা লাগলে কমলা খাওয়া একেবারেই নিরাপদ এবং উপকারী। এটি একটি ভুল ধারণা যে সাইট্রাস ফল খেলে ঠান্ডা বা কফ বাড়ে। বরং কমলার ভিটামিন C রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দ্রুত আরোগ্যে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস রোগীরা কমলা খেতে পারবেন কি না
ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণে কমলা খেতে পারেন। কমলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) কম এবং এতে থাকা ফাইবার শর্করার শোষণকে ধীর করে দেয়। তবে জুস খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
নিয়মিত কমলা খাওয়ার গুরুত্ব
নিয়মিত কমলা খাওয়া কেবল শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, বরং এটি মানসিক সতেজতাও এনে দেয়। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কমলা যুক্ত করা একটি সহজ এবং প্রাকৃতিক উপায়, যার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
কমলা হলো একটি বহুমুখী ফল, যা স্বাদে অতুলনীয় এবং স্বাস্থ্যে আশীর্বাদস্বরূপ। এর উচ্চ ভিটামিন C, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান একে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর, হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার এবং ত্বককে উজ্জ্বল রাখার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পরিমিত পরিমাণে গোটা কমলা খেয়ে এর সম্পূর্ণ উপকারিতা লাভ করা সম্ভব। আপনার খাদ্যতালিকায় নিয়মিত কমলা রাখুন এবং এর জাদুকরী স্বাস্থ্য সুবিধা উপভোগ করুন।
কমলা সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: কমলার প্রধান পুষ্টি উপাদান কী?
উত্তর: কমলার প্রধান পুষ্টি উপাদান হলো ভিটামিন C এবং ডায়েটারি ফাইবার।
প্রশ্ন: কমলা কি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে?
উত্তর: হ্যাঁ, কমলায় থাকা উচ্চ মাত্রার ভিটামিন C শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন: খালি পেটে কমলা খাওয়া কি ক্ষতিকর?
উত্তর: যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা নেই, তাদের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে খালি পেটে না খাওয়াই ভালো।
প্রশ্ন: গর্ভাবস্থায় কমলা খাওয়া কি নিরাপদ?
উত্তর: হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় কমলা খাওয়া নিরাপদ। এতে থাকা ফোলেট গর্ভস্থ শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: জুসের চেয়ে গোটা কমলা খাওয়া কেন ভালো?
উত্তর: গোটা কমলায় জুসের চেয়ে অনেক বেশি ফাইবার থাকে, যা হজম ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
প্রশ্ন: কমলা কি ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী?
উত্তর: হ্যাঁ, কমলার ভিটামিন C ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ত্বক উজ্জ্বল ও চুল মজবুত রাখে।
প্রশ্ন: ডায়াবেটিস রোগীরা কি কমলা খেতে পারবেন?
উত্তর: হ্যাঁ, ডায়াবেটিস রোগীরা পরিমিত পরিমাণে কমলা খেতে পারবেন, কারণ এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তবে জুস এড়িয়ে চলতে হবে।
প্রশ্ন: অতিরিক্ত কমলা খেলে কি কোনো সমস্যা হতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, অতিরিক্ত কমলা খেলে পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা অ্যাসিডের কারণে দাঁতের এনামেলের ক্ষয় হতে পারে।
প্রশ্ন: ঠান্ডা লাগলে কি কমলা খাওয়া উচিত?
উত্তর: হ্যাঁ, ঠান্ডা লাগলে কমলা খাওয়া উচিত। ভিটামিন C রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দ্রুত আরোগ্যে সাহায্য করে।
প্রশ্ন: দিনে কয়টি কমলা খাওয়া স্বাস্থ্যকর?
উত্তর: সাধারণত একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে ১ থেকে ২ টি মাঝারি আকারের কমলা খাওয়া স্বাস্থ্যকর।








