যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রতিবাদে আবারও কৌশলগত হরমুজ প্রণালির কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ এক বিবৃতিতে জানায়, প্রণালিটি এখন থেকে তাদের ‘পূর্বের অবস্থায়’ ফিরে গেছে এবং এর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সশস্ত্র বাহিনীর হাতে থাকবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত
ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে যে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, তা মূলত ‘জলদস্যুতা’ বা সামুদ্রিক ডাকাতির শামিল। তেহরান স্পষ্ট করে বলেছে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সামরিক বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার অধীনে থাকবে।
উত্তেজনার প্রেক্ষাপট
- স্বল্পস্থায়ী উন্মুক্তকরণ: শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।
- যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: কিন্তু এই ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।
- ইরানের প্রতিক্রিয়া: যুক্তরাষ্ট্রের এই অনড় অবস্থানের প্রতিবাদেই ইরান শনিবার আবারও প্রণালিতে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দেয়।
বিশ্ব বাণিজ্যে প্রভাব
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের এই নতুন পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর আগে প্রণালি খোলার খবরে বিশ্ব শেয়ারবাজারে যে ইতিবাচক হাওয়া লেগেছিল, এই ঘোষণার পর তাতে আবার স্থবিরতা ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধের এই নাটকীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব অর্থনীতির বড় একটি অংশ। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান এই ‘চুক্তি ও অবরোধ’র রাজনীতির পরবর্তী মোড় কী হয়, তা এখন দেখার বিষয়। আন্তর্জাতিক এই সংবাদের নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের পোর্টালের সাথেই থাকুন।








