আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সারাদেশে একযোগে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির ঢাকা থেকে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এ বছর গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড, সাধারণ, মাদ্রাসা ও কারিগরি সবগুলোর ফলাফল একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়। এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে ছেলে শিক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ১৩ হাজার ৫৫ জন এবং মেয়ে শিক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬ জন।
শিক্ষার্থীরা ফলাফল জানতে পারবেন তিনটি সহজ উপায়ে:
- অনলাইনে ওয়েবসাইটে ফলাফল:
পরীক্ষার্থীরা তাদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে “Result” কর্নারে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফলাফল দেখতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পেতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর ব্যবহার করে রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে। - শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফলা ফল:
শিক্ষার্থীরা চাইলে তাদের নিজ নিজ স্কুল বা কলেজ থেকে বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন। শিক্ষকরা EIIN কোড ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের সব ফলাফল দেখতে পারবেন। - এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল:
নির্ধারিত Short Code 16222-এ এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল জানা যাবে। পরীক্ষার্থীকে HSC <space> Board Name (প্রথম ৩ অক্ষর) <space> Roll <space> Year টাইপ করে 16222 নম্বরে পাঠাতে হবে।
উদাহরণ:
HSC Dha 123456 2025 পাঠাতে হবে 16222 নম্বরে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের ফলাফল পেয়ে যাবেন।
কোন বোর্ডে কেমন ফলাফল হলো এক নজরে
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড, যেখানে গড় পাসের হার প্রায় ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে কম পাসের হার দেখা গেছে ঢাকা বোর্ডে, যেখানে গড় পাসের হার প্রায় ৫৪ শতাংশ।
মাদ্রাসা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬১ শতাংশ, আর কারিগরি বোর্ডে ৬৫ শতাংশ। শিক্ষা বোর্ডগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে পাসের হার কিছুটা বেশি হলেও গ্রামীণ অঞ্চলে তা কিছুটা কম।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা
এ বছর মোট ৪৯,০০০ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, নতুন মূল্যায়ন কাঠামো ও কঠোর পরীক্ষার মানদণ্ডের কারণে এই পরিবর্তন ঘটেছে।
তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও ফলাফলের মান ও নির্ভুলতা বেড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রতিক্রিয়া
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির ফলাফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের বলেন,
“আমরা চাই শিক্ষার্থীরা কেবল নম্বর নয়, জ্ঞান ও দক্ষতায় এগিয়ে যাক। এবার ফলাফলে কিছুটা পার্থক্য এলেও এটি ভবিষ্যতের জন্য ভালো সংকেত।”
তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে বোর্ডগুলোতে ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতি আরও উন্নত করা হবে, যাতে ফলাফল প্রকাশ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে করা যায়।
অনলাইনে ফলাফল দেখার ধাপ
ফলাফল দেখতে শিক্ষার্থীদের নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে—
- www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
- পরীক্ষার নাম হিসেবে “HSC/Alim” নির্বাচন করুন।
- বোর্ডের নাম ও পরীক্ষার বছর নির্বাচন করুন।
- রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিন।
- “Submit” বাটনে ক্লিক করুন।
তৎক্ষণাৎ ফলাফল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হবে।
এসএমএসে ফলাফল জানার নিয়ম আবারও এক নজরে
HSC <space> বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর <space> রোল <space> বছর
উদাহরণ: HSC Dha 123456 2025
পাঠাতে হবে: 16222 নম্বরে
পরীক্ষার সময়সূচি ও অংশগ্রহণ
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২৬ জুন ২০২৫ তারিখে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ১৯ আগস্টে, আর ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২১ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়—ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের ফলাফলে খুশি, আবার কেউ কেউ পুনর্মূল্যায়নের আবেদন করার পরিকল্পনা করছেন।
ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন,
“প্রশ্নের মান ভালো ছিল, কিন্তু মার্কিং একটু কঠিন হয়েছে। তবুও পাস করতে পেরে খুশি।”
অন্যদিকে রাজশাহীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বলেন,
“আমাদের মাদ্রাসায় ভালো ফল হয়েছে। শিক্ষকরা আমাদের প্রচুর সাহায্য করেছেন।”
ফলাফল সংক্রান্ত সহায়তা
শিক্ষার্থীরা যদি ফলাফল সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে শিক্ষা বোর্ডগুলোর হেল্পলাইন বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করতে পারবেন।
এছাড়া, বোর্ডগুলোর ‘Result Correction’ ফর্মের মাধ্যমে ভুল সংশোধনের আবেদন করা যাবে।
২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গড় পাসের হার ৫৮.৮৩%, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম হলেও ফলাফলের মান ও স্বচ্ছতা বেড়েছে। এবার থেকে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও যাচাই প্রক্রিয়া আরও ডিজিটালাইজড হবে বলে জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।








