দেশের স্বর্ণের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতা কমায় এবং স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণ বা তেজাবি স্বর্ণের দরপতন হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজকের এই প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন বর্তমান বাজার দর সম্পর্কে বিস্তারিত।
স্বর্ণের নতুন দাম: বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণা
বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল সকাল থেকেই এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে এবং আজও একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। নতুন তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:
| স্বর্ণের মান | বর্তমান দাম (প্রতি ভরি) |
| ২২ ক্যারেট | ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা |
কেন কমল স্বর্ণের দাম
স্বর্ণের দাম কমার প্রধান কারণ হিসেবে বাজুস বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতাকে দায়ী করছে। স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। এছাড়া ডলারের বিপরীতে টাকার মানের ভারসাম্য এবং চাহিদা ও জোগানের সমন্বয় করাও জরুরি হয়ে পড়ে। বাজুসের পরিসংখ্যান বলছে, এই বছর এখন পর্যন্ত ৫৬ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩২ বার দাম বেড়েছে এবং ২৪ বার কমেছে।
রুপার দামেও স্বস্তি
শুধুমাত্র স্বর্ণ নয়, রুপার দামেও কিছুটা ছাড় পেয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে রুপার দামও সমন্বয় করা হয়েছে।
বর্তমান বাজারের রুপার দর নিচে দেওয়া হলো:
- ২২ ক্যারেট রুপা: ৫ হাজার ৭১৫ টাকা
- ২১ ক্যারেট রুপা: ৫ হাজার ৪২৪ টাকা
- ১৮ ক্যারেট রুপা: ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা
- সনাতন রুপা: ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা
সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি
গত ১৫ এপ্রিল স্বর্ণের দাম বাড়ানো হলেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত ক্রেতাদের জন্য বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। বিয়ের মৌসুম বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যারা স্বর্ণ কেনার কথা ভাবছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি ভালো সময় হতে পারে।
স্বর্ণ কেনার আগে যা জানা প্রয়োজন
স্বর্ণ কেনার সময় সবসময় বাজুসের নির্ধারিত বা হালনাগাদ করা দর যাচাই করে নেবেন। নির্ভরযোগ্য এবং পরিচিত জুয়েলারি দোকান থেকে স্বর্ণ কেনা সব সময় নিরাপদ। কেনার সময় অবশ্যই পাকা রশিদ বা মেমো সংগ্রহ করবেন, যেখানে স্বর্ণের ক্যারেট এবং ওজনের স্পষ্ট উল্লেখ থাকে।
বাজারে পণ্যের দাম যখন কমে, তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি কাজ করে। স্বর্ণের বাজারের এই অস্থিরতা সাময়িক হলেও, বর্তমান দাম কমার বিষয়টি গ্রাহকদের জন্য বেশ ইতিবাচক। বাজারের পরবর্তী যেকোনো পরিবর্তনের খবর সবার আগে জানতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।








