বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই সারা বিশ্বে এক আলাদা উত্তেজনা, আর সেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে সোনালী রঙের বিশ্বজয়ের ট্রফিটি। ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশে আসছে ফিফা বিশ্বকাপের মূল ট্রফি। আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকায় পা রাখতে যাচ্ছে ফুটবলের এই সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবেই ট্রফিটির এই ঢাকা সফর। তবে ট্রফি এলেও, সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন সবাই কি এটি দেখার সুযোগ পাবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
ঢাকায় ট্রফি আগমনের বিস্তারিত সময়সূচি
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলার সূচি অনুযায়ী, বুধবার ঢাকায় পৌঁছাবে ট্রফিটি। এটি মূলত ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি ট্যুরের অংশ। ট্রফিটি বাংলাদেশে অবস্থান করবে খুবই অল্প সময়ের জন্য। তবে এই সংক্ষিপ্ত সফরই বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বয়ে আনবে অসামান্য আনন্দের উপলক্ষ।
যদিও ট্রফি দেখার আগ্রহ সবার, তবুও নিরাপত্তার খাতিরে এবং আয়োজকদের নিয়ম অনুযায়ী এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকছে না।
কারা পাচ্ছেন ট্রফি দেখার সুযোগ?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঐতিহাসিক ট্রফিটি সবাই সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না। কেবল নির্বাচিত কিছু ভাগ্যবান ব্যক্তিই ট্রফির খুব কাছে যাওয়ার এবং ছবি তোলার সুযোগ পাবেন।
কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ ক্যাম্পেইন
ট্রফি প্রদর্শনীটি মূলত কোকা-কোলার একটি বিশেষ প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইনের অংশ।
- এই ক্যাম্পেইনটি চলেছে গত ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
- যারা নির্দিষ্ট প্রোমোশনাল বোতল কিনে কিউআর কোড (QR Code) স্ক্যান করেছেন এবং ফিফা-থিমভিত্তিক কুইজে অংশ নিয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে বিজয়ীরাই এই সুযোগ পাচ্ছেন।
- বিজয়ীরা একটি এক্সক্লুসিভ পাস বা টিকিট অর্জন করেছেন, যা দেখিয়ে তারা ট্রফি দর্শনের সুযোগ পাবেন।
অর্থাৎ, যারা এই ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন, কেবল তারাই এই সোনালী ট্রফির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে পারবেন।
রিয়াদ থেকে শুরু হওয়া বিশ্বভ্রমণ
বাংলাদেশে আসার আগে এই ট্রফি ট্যুরের জমকালো উদ্বোধন হয়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। গত শনিবার, কিংবদন্তি ইতালিয়ান ফুটবলার এবং ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী তারকা আলেসান্দ্রো দেল পিয়ে রো এই বিশ্বভ্রমণের উদ্বোধন করেন।
রিয়াদে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। দেল পিয়ে রো বিমানবন্দর টারমাকে ট্রফি উন্মোচন করেন এবং স্থানীয় শিশুদের সাথে ফুটবল খেলে সময় কাটান। রিয়াদের একটি বড় শপিং মলে সাধারণ দর্শকদের জন্যও ট্রফিটি প্রদর্শন করা হয়, যেখানে হাজারো ফুটবলপ্রেমী ভিড় জমিয়েছিলেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ: ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর
এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুরটি অত্যন্ত বিশেষ, কারণ সামনেই অপেক্ষা করছে ফিফা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আসর। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপ হবে নানা কারণেই অনন্য:
১. তিনটি আয়োজক দেশ: ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে।
২. ৪৮টি দল: এবারই প্রথম ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮টি দল বিশ্বকাপে অংশ নেবে।
৩. ১০৪টি ম্যাচ: রেকর্ডসংখ্যক ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই আসরে।
ফিফা ও কোকা-কোলার যৌথ উদ্যোগে এই ট্রফিটি বিশ্বের ৩০টি সদস্য দেশের ৭৫টি গন্তব্যে ভ্রমণ করবে। ১৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা এই ট্যুরে ট্রফিটি ২০২৬ সালের তিন আয়োজক দেশ ছাড়াও মরক্কো, পর্তুগাল, স্পেন, সৌদি আরব ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোতেও যাবে।
কর্মকর্তাদের চোখে ট্রফি ট্যুর
কোকা-কোলার গ্লোবাল অ্যাসেটস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মিকায়েল ভিনে বলেন, “ফুটবল এমন একটি খেলা যা ভাষা বা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষকে একত্রিত করে। আমরা দুই দশক ধরে এই জাদুর সাথে মানুষকে যুক্ত রাখতে পেরে গর্বিত।”
অন্যদিকে ফিফার চিফ বিজনেস অফিসার রোমি গাই বলেন, “ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি হলো ক্রীড়া জগতের সর্বোচ্চ সম্মানের প্রতীক। এই ট্যুরের মাধ্যমে আমরা বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগের সাথে যুক্ত হতে চাই।”
বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। যদিও সবাই ট্রফিটি সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না, তবুও বিশ্বকাপের মূল ট্রফি দেশের মাটিতে থাকাটাই ভক্তদের জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয়। ফুটবল নিয়ে বাঙালির এই আবেগ ও উন্মাদনা ট্রফি ট্যুরের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হবে।








