ফ্যামিলি কার্ড ২০২৬: প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার শক্তিশালী বলয়ে নিয়ে আসতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৩টি উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ড বিতরণ করা হবে।
গতকাল রোববার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে প্রকৃত অভাবীদের কাছে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
১৩টি উপজেলার তালিকা: আপনার এলাকা আছে কি?
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের সব এলাকায় এই কার্ড দেওয়া না হলেও, পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম চলবে। এলাকাগুলো হলো:
১. ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি
২. রাজবাড়ীর পাংশা
৩. চট্টগ্রামের পতেঙ্গা
৪. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর
৫. বান্দরবানের লামা
৬. খুলনার খালিশপুর
৭. ভোলার চরফ্যাশন
৮. সুনামগঞ্জের দিরাই
৯. কিশোরগঞ্জের ভৈরব
১০. বগুড়া সদর
১১. নাটোরের লালপুর
১২. ঠাকুরগাঁও সদর
১৩. ঢাকার নবাবগঞ্জ
ফ্যামিলি কার্ডে কী কী সুবিধা মিলবে?
এই একটি কার্ডের মাধ্যমেই সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়া যাবে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে:
- একীভূত সেবা: টিসিবি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং ভ্যালনেরেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচিগুলো এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় চলে আসবে।
- সরাসরি অর্থ সাহায্য: অনুদানের টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ/নগদ) মাধ্যমে সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছে যাবে।
- নারীদের অগ্রাধিকার: পরিবার প্রতি একটি করে কার্ড বিতরণ করা হবে এবং তা প্রদান করা হবে পরিবারের ‘নারী খানা প্রধানের’ নামে।
সুবিধাভোগী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া
সরকার এবার সুবিধাভোগী নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্মতারিখ ও সচল মোবাইল নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক।
- মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করে উপকারভোগী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
- একই ব্যক্তি যাতে একাধিক ভাতা পেয়ে অন্যদের বঞ্চিত না করতে পারেন, সেজন্য ডেটাবেজ যাচাই করা হবে।
- একটি পরিবারে ৫ জন সদস্য বিবেচনা করা হবে। তবে বড় একান্নবর্তী পরিবারের ক্ষেত্রে প্রতি ৫ জনের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে।
কেন এই নতুন উদ্যোগ?
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল মানুষ সুবিধা পায় বা অর্থের অপচয় হয়। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনে প্রকৃত দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং দারিদ্র্য বিমোচন ত্বরান্বিত হবে।
সরকারি এই মহতী উদ্যোগ গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। ১০ মার্চের উদ্বোধনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্ড বিতরণের কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের এই ডিজিটাল সুরক্ষাকবচ সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে এটাই এখন প্রত্যাশা।








