চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে রাজধানী ঢাকায় শীতের তীব্রতা কমতে শুরু করেছে। কয়েক দিনের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার পর এখন রোদের তেজ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে ঢাকার আকাশ পরিষ্কার থাকবে এবং দিনের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তরী হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত থাকলেও, এখন বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। ফলে শীতের আমেজ থাকলেও দুপুরের দিকে গরম অনুভূত হচ্ছে।
কেন কমছে শীতের তীব্রতা?
আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এসে হিমালয় থেকে আসা শীতল বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতিতে:
- সূর্যের অবস্থান: উত্তর গোলার্ধে সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে দিনের দৈর্ঘ্য বাড়ছে।
- আকাশের অবস্থা: কুয়াশার দাপট কমে যাওয়ায় সরাসরি সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠে পড়ছে, যা তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
- লঘুচাপের প্রভাব: বঙ্গোপসাগরে কোনো লঘুচাপের সক্রিয়তা না থাকায় বাতাসের আর্দ্রতা কমছে এবং শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করছে।
আগামী কয়েক দিনের সম্ভাব্য তাপমাত্রা
ঢাকার বর্তমান আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে:
- দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ২৬°C থেকে ২৯°C পর্যন্ত উঠতে পারে।
- রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ১৪°C থেকে ১৭°C এর মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
| সময় | অবস্থা | তাপমাত্রা (আভাস) |
| সকাল | হালকা কুয়াশা ও মিষ্টি রোদ | ১৮°C |
| দুপুর | কড়া রোদ ও শুষ্ক আবহাওয়া | ২৮°C |
| রাত | হালকা শীতের আমেজ | ১৬°C |
জনজীবনে প্রভাব ও সতর্কতা
শীত কমতে শুরু করলেও ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। দিনের বেলা গরম এবং রাতে হালকা ঠান্ডা থাকায় সর্দি, কাশি বা জ্বরের প্রকোপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
এছাড়া, শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ধুলোবালির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, তাই বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী ফাল্গুনের আগমনে শীত বিদায় নিতে শুরু করেছে। যদিও উত্তরাঞ্চলে এখনও কিছুটা ঠান্ডা রয়েছে, তবে ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকায় বসন্তের আমেজ আগেভাগেই পাওয়া যাচ্ছে। পরবর্তী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও ২-৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








