হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeআবহাওয়াপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলো ‘মোন্থা’, বাংলাদেশে এর প্রভাব কখন পড়বে
spot_img

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলো ‘মোন্থা’, বাংলাদেশে এর প্রভাব কখন পড়বে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ শক্তি সঞ্চয় করে বর্তমানে এক প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে (Severe Cyclonic Storm) পরিণত হয়েছে, যা ভারতীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এটি আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা রাতের দিকে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলের কোনো অংশে আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর নিয়মিত বিরতিতে এই ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে এবং উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর জন্য সতর্কতা জারি করেছে। যদিও ঘূর্ণিঝড়ের মূল কেন্দ্র ভারতে আঘাত হানবে, তবুও এর প্রভাবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে, বিশেষ করে বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে।

‘মোন্থা’-এর নামকরণ ও আবহাওয়ার প্রেক্ষাপট

এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘মোন্থা’, যা থাইল্যান্ডের দেওয়া। ‘মোন্থা’ শব্দের অর্থ হলো সুগন্ধি ফুল। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়গুলো সাধারণত সমুদ্রের উষ্ণ জলের প্রভাবে সৃষ্টি হয় এবং নিম্নচাপ থেকে ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। সমুদ্রের জলের উষ্ণতা এবং বায়ুমণ্ডলের অনুকূল পরিস্থিতি ‘মোন্থা’-কে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে সাহায্য করেছে।

সর্বশেষ অবস্থান ও গতিপথ বিশ্লেষণ

আজ সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের (BMD) দেওয়া বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে ঘূর্ণিঝড়ের সর্বশেষ শক্তি ও অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

  • অবস্থান: ঘূর্ণিঝড়টি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে পশ্চিম–মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং তার কাছাকাছি অঞ্চলে অবস্থান করছে।
  • বাংলাদেশের বন্দর থেকে দূরত্ব: ঘূর্ণিঝড়টি চারটি প্রধান সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৪০ থেকে ১ হাজার ২৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এর মধ্যে মোংলা বন্দর থেকে ছিল ১ হাজার ১৪০ কিলোমিটার দূরে।
  • বাতাসের শক্তি ও ঝুঁকি: প্রবল ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের প্রায় ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে বেড়ে ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। এই তীব্র বাতাসের কারণে ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী সমুদ্র এলাকা অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ রয়েছে, যা গভীর সাগরে থাকা নৌযানগুলোর জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
  • আঘাত হানার পূর্বাভাস: এটি আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং আজ সন্ধ্যা বা রাত নাগাদ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

সমুদ্রবন্দরে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত জারি

ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি ও শক্তির কারণে বাংলাদেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

  • বন্দরের তালিকা: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর।
  • সংকেতের তাৎপর্য: ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত নির্দেশ করে যে, একটি ঘূর্ণিঝড় উপকূল থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে, তবে এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে এবং যেকোনো সময় উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে বাতাসের গতিপথ ও আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।

জেলে ও ট্রলারের জন্য কঠোর নির্দেশনা

উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদে থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে এবং গভীর সাগরে প্রবেশে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। এই সময়ে গভীর সাগরে যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক এই পদক্ষেপ অপরিহার্য।

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব

বৃষ্টির পূর্বাভাস

যেহেতু ঘূর্ণিঝড়ের স্থলভাগ অতিক্রমের স্থান ভারত, তাই বাংলাদেশে সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র আঘাত হানার সম্ভাবনা কম। তবে এর প্রভাবে বাংলাদেশে বাতাসের গতিপথ পরিবর্তন হবে এবং প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ করবে, যা বৃষ্টিপাত ঘটাবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ এই বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে উঠে আসার পরই মূলত এর অবশিষ্টাংশ এবং শক্তি বাংলাদেশের আবহাওয়ার ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে তা স্পষ্ট হবে।

  • আজ (মঙ্গলবার) পরিস্থিতি: আবহাওয়াবিদদের মতে, আজ বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাবের কারণে বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত ও সামান্য বৃষ্টিপাত হতে পারে।
  • আগামীকাল (বুধবার) বৃষ্টির শুরু: ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে প্রবেশের পর এর শক্তি কমতে শুরু করবে এবং সিস্টেমটি দুর্বল হয়ে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর ফলস্বরূপ, আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশের উপকূলে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে।
  • বৃহস্পতি ও শুক্রবারে বৃষ্টি বৃদ্ধি: সাধারণত ঘূর্ণিঝড় স্থলভাগে আঘাত হানার পর এর নিম্নচাপের প্রভাবে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বৃষ্টি বাড়ে। সেই হিসাবে, আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ পূর্বাভাস দিয়েছেন যে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে বাংলাদেশে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এই বৃষ্টিপাত ফসল এবং জনজীবনের ওপর মিশ্র প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, ধান কাটার মৌসুমের সময় যদি ভারি বৃষ্টি হয়, তবে কৃষকদের জন্য তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

উপকূলীয় অঞ্চলের প্রস্তুতি ও সতর্কতা

ঘূর্ণিঝড় সরাসরি আঘাত না হানলেও, সমুদ্রের পরিস্থিতি উত্তাল থাকায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। আবহাওয়াবিদরা পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছেন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে দুর্যোগ মোকাবিলা পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া যায়।


প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ ভারতের জন্য বড় হুমকি হলেও, এর পরোক্ষ প্রভাবে বুধবার থেকে বাংলাদেশে আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে এবং বৃষ্টিপাত শুরু হবে, যা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার নাগাদ বাড়তে পারে। সকল উপকূলবাসী ও গভীর সাগরে অবস্থানরত নৌযানকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: ঘূর্ণিঝড় ‘মোন্থা’ কোথায় সৃষ্টি হয়েছে?


উত্তর: এটি বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম–মধ্য অংশে সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশ্ন: ‘মোন্থা’ বর্তমানে কোন অবস্থানে রয়েছে?


উত্তর: আজ সকালে এটি পশ্চিম–মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছিল, যা বাংলাদেশের উপকূল থেকে প্রায় ১২০০ কিলোমিটার দূরে।

প্রশ্ন: ‘মোন্থা’ কখন উপকূলে আঘাত হানবে?


উত্তর: আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা বা রাতে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে কি?


উত্তর: সরাসরি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম, তবে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া হতে পারে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে কবে থেকে বৃষ্টি শুরু হতে পারে?


উত্তর: বুধবার থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে বাড়তে পারে।

প্রশ্ন: কোন কোন এলাকায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে?


উত্তর: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলে বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রশ্ন: বর্তমানে কোন সংকেত দেখানো হয়েছে?


উত্তর: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

প্রশ্ন: ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের বাতাসের গতি কত?


উত্তর: কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটার এলাকায় বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, দমকা হাওয়ায় ১১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

প্রশ্ন: সাগর এখন কেমন আচরণ করছে?


উত্তর: ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

প্রশ্ন: জেলেদের জন্য কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে?


উত্তর: সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন: ‘মোন্থা’ নামের অর্থ কী?


উত্তর: ‘মোন্থা’ নামটি থাইল্যান্ডের দেওয়া, যার অর্থ “সুগন্ধি ফুল”।

১২. ‘মোন্থা’-এর কারণে কোন কোন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে?


উত্তর: প্রবল বাতাস, ভারি বৃষ্টি ও উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা থাকতে পারে।

প্রশ্ন: এই ঘূর্ণিঝড় কত দিন স্থায়ী হতে পারে?


উত্তর: স্থলভাগে প্রবেশের পর এটি ক্রমে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে, যা ২–৩ দিন স্থায়ী হতে পারে।

প্রশ্ন: পূর্ববর্তী কোন ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে এটি তুলনীয়?


উত্তর: ঘূর্ণিঝড় ‘সিত্রাং’ বা ‘রেমাল’-এর মতো প্রভাব ফেলতে পারে, তবে ‘মোন্থা’ তুলনামূলক পশ্চিম দিকে সরে গেছে।

প্রশ্ন: সাধারণ জনগণ কীভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন?


উত্তর: আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে চলা, উপকূলীয় এলাকায় নিরাপদ আশ্রয় নেওয়া এবং জরুরি জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখা উচিত।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!