জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়াসহ অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাসের রোজা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত শেষ রাতে সাহরি খেয়ে রোজা রাখা শুরু করেছেন মির্জাখীল দরবার শরিফের হাজার হাজার অনুসারী।
প্রতি বছরের মতো এবারও সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে সিয়াম পালন করছেন তারা। দক্ষিণ চট্টগ্রামে এটি দীর্ঘদিনের পরিচিত একটি চিত্র হলেও, একই দেশে ভিন্ন ভিন্ন দিনে রোজা শুরু হওয়া নিয়ে প্রতিবছরই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল তৈরি হয়।
কেন একদিন আগেই রোজা শুরু করেন তারা
মির্জাখীল দরবার শরিফ সূত্রে জানা যায়, এই রীতির পেছনে রয়েছে প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো এক ধর্মীয় ফতোয়া। সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল গ্রামের হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীরি (রহ.) হানাফি মাজহাবের আলোকে একটি বিশেষ নিয়ম প্রবর্তন করেন। তার ফতোয়া অনুযায়ী, পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা অনুসরণ করে রোজা ও ঈদ পালন করা যায়।
সেই ধারাবাহিকতায় দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চাঁদ দেখার ঘোষণাকে গুরুত্ব দিয়ে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।
বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় ব্যাখ্যা
মির্জাখীল দরবার শরিফের অন্যতম দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ জালালুল হাই সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“আমরা হানাফি মাজহাবের অনুসারী। আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার খবর দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদের অবস্থান বিবেচনা করে আমরা বুধবার থেকেই সিয়াম শুরু করেছি। এটি আমাদের শতবর্ষী ধর্মীয় অনুশাসন এবং আমরা কারো বিরোধিতা করছি না।”
যেসব এলাকায় আজ রোজা পালিত হচ্ছে
দক্ষিণ চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি উপজেলায় মির্জাখীল দরবারের বিপুল সংখ্যক অনুসারী রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, অন্তত ৫০টির বেশি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ আজ প্রথম রোজা রাখছেন। এলাকাগুলো হলো:
- সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া
- বাঁশখালী ও চন্দনাইশ
- বোয়ালখালী ও আনোয়ারা
- পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম
ভোররাত থেকেই এসব এলাকার মসজিদগুলোতে সাহরির ডাক শোনা গেছে এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে প্রথম রোজা শুরু করেছেন।
জনমনে কৌতূহল ও ভিন্নমত
একই দেশে দুই দিনে রোজা বা ঈদ পালন নিয়ে প্রতিবছরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। তবে মির্জাখীল দরবারের অনুসারীদের মতে, এটি তাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা একটি রীতি এবং তারা মনে করেন বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই রোজা রাখা ওয়াজিব। যদিও দেশের অধিকাংশ মানুষ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা অনুযায়ী রোজা পালন করেন, তবুও এই বৈচিত্র্য দক্ষিণ চট্টগ্রামের ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চাঁদ দেখা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও রমজানের মূল শিক্ষা হলো আত্মসংযম ও ভ্রাতৃত্ব। চট্টগ্রামের এই গ্রামগুলোতে আজ উৎসবমুখর পরিবেশে প্রথম রোজা পালিত হচ্ছে। কাল বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে একযোগে রমজানের আমেজ শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।








