বইপ্রেমীদের প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ আজ থেকে শুরু হচ্ছে। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। আজ দুপুর ২টায় রাজধানীর বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম বইমেলা উদ্বোধন।
বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও বিশেষ অতিথি
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকলেও বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম এবং সভাপতিত্ব করবেন সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন।
এবারের মেলার বিন্যাস ও স্টল সংখ্যা
২০২৬ সালের বইমেলা বিস্তৃত পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে। এবারের মেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।
- বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ: ৮১টি প্রতিষ্ঠান।
- সোহরাওয়ার্দী উদ্যান: ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান।
- লিটল ম্যাগাজিন চত্বর: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের কাছে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল দেওয়া হয়েছে।
- শিশুচত্বর: ছোটদের জন্য থাকছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের স্টল।
মেলা চলাকালীন সময়সূচী
বইমেলা প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। তবে ছুটির দিনগুলোতে (শুক্র ও শনিবার) মেলা শুরু হবে সকাল ১১টা থেকে। মেলায় প্রবেশের শেষ সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিট। এরপর আর নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।
শিশুদের জন্য বিশেষ আয়োজন ও ‘শিশুপ্রহর’
প্রতিবারের মতো এবারও শিশুদের জন্য থাকছে বিশেষ আকর্ষণ। প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। এছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
বই বিক্রিতে বিশেষ কমিশন
পাঠকদের জন্য খুশির খবর হলো, বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী সকল বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থা বই বিক্রিতে ২৫ শতাংশ কমিশন দেবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে।
নতুন পুরস্কার: সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার
এবারের মেলায় একটি নতুন পুরস্কারের প্রবর্তন করা হয়েছে, যার নাম ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’। এটি মূলত নতুন প্রকাশকদের উৎসাহ দিতে দেওয়া হবে। এছাড়া গুণগত মানের জন্য ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং শৈল্পিক বিচারে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’সহ বেশ কিছু নিয়মিত পুরস্কার প্রদান করা হবে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা
মেলায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ‘মব’ মোকাবিলায় পুলিশ ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, মেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য সিাসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা:
- ব্রেস্টফিডিং কর্নার: মা ও শিশুদের জন্য আলাদা বসার স্থান।
- চিকিৎসা সেবা: জরুরি অসুস্থতায় প্রাথমিক চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা।
- লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার: কোনো জিনিস হারিয়ে গেলে সহায়তার কেন্দ্র।
- নামাজের ব্যবস্থা: রমজান উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তারাবি নামাজের ব্যবস্থা থাকবে।
ট্রাফিক নির্দেশনা ও পরিবেশ রক্ষা
মেলা এলাকাকে যানজটমুক্ত রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভারী যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত রাস্তাটি জনসমাগম অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এছাড়া এবারের মেলা সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।








