রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারের একটি বিয়ারিং প্যাড, আকস্মিকভাবে খুলে নিচে পড়ে যাওয়ায় এক পথচারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই মারাত্মক দুর্ঘটনার ফলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা মহানগরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে।
আজ রোববার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মেট্রোরেলের লাইনের নিচে উড়ালপথের পিলারের সঙ্গে রাবারের তৈরি বিশেষ ধরনের এই বিয়ারিং প্যাডগুলো লাগানো থাকে। প্রতিটি প্যাডের ওজন আনুমানিক ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি। দ্রুত গতিতে থাকা ট্রেনগুলোর কম্পন শোষণ এবং উড়ালপথকে সঠিক স্থানে ধরে রাখার জন্য এই প্যাডগুলো অত্যন্ত জরুরি। ঠিক দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এমন একটি প্যাড খুলে সরাসরি নিচে থাকা এক পথচারীর ওপর পড়ে।
নিহত পথচারীর পরিচয় ও পুলিশের প্রাথমিক পদক্ষেপ
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোবারক হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিয়ারিং প্যাডটি খুলে নিচে পড়লে ঘটনাস্থলেই একজন পথচারী নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে পাওয়া একটি পাসপোর্ট থেকে তাঁর নাম আবুল কালাম এবং বাড়ি শরীয়তপুর বলে জানা গেছে। পাসপোর্টে তাঁর জন্মসাল ১৯৯০ উল্লেখ করা আছে। পথচারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে পুলিশ। এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মেট্রোরেল চলাচল বন্ধের কারণ ও যাত্রী দুর্ভোগ
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই দুর্ঘটনার পরপরই দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো মেট্রোরেলের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর প্রধান কারণ হিসেবে ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা বলছেন, বিয়ারিং প্যাড ছাড়া ট্রেন চালালে উড়ালপথের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। বিয়ারিং প্যাডগুলো না থাকলে উড়ালপথ দেবে যাওয়া কিংবা স্থানচ্যুত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, যা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি।
ট্রেন চলাচল আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা শহরের অসংখ্য যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে যাঁরা জরুরি প্রয়োজনে বা কর্মস্থল থেকে ফিরছিলেন, তাঁরা বিকল্প পরিবহন খুঁজতে গিয়ে দীর্ঘ যানজট এবং ভোগান্তির শিকার হন। কখন থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে ডিএমটিসিএল সূত্র এখনো নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি।
নিরাপত্তা উদ্বেগ: দ্বিতীয়বারের মতো বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ার ঘটনা
এক বছরের ব্যবধানে একই ধরনের দুর্ঘটনা দ্বিতীয়বারের মতো ঘটায় মেট্রোরেলের নিরাপত্তা এবং নির্মাণ মান নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরও একই রকম একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফার্মগেট এলাকাতেই আরেকটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছিল, যার কারণে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরপর এমন নিরাপত্তা ত্রুটি সামনে আসায় মেট্রোরেলের নকশা, রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া এবং ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কী ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই নজর সবার।








