বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল আন্তর্জাতিক ম্যাচে দীর্ঘ দিন ধরে জয়ের মুখ দেখছে না। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত তাদের একমাত্র জয়টি এসেছে জুন উইন্ডোতে ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। তবে এই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে আশাবাদী দলের মিডফিল্ডার শমিত সোম। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী ১৮ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে সেই প্রতীক্ষিত জয় ছিনিয়ে আনবে বাংলাদেশ।
শমিতের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরু
ক্যাভালরি এফসি-র এই প্রতিভাবান খেলোয়াড় গত ১০ জুন ঢাকায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক করেন। এরপর থেকে লাল-সবুজ জার্সিতে তিনি মোট চারটি ম্যাচ খেলেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই চার ম্যাচে তিনি এখনো জয়ের স্বাদ পাননি। বাংলাদেশের ফলাফল ছিল দুটি ড্র এবং দুটি হার।
- সর্বশেষ জয়: ৪ জুন ভুটানের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে।
- শমিতের আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফল: সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ ব্যবধানে হার, হংকং-এর বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলে হার, এবং নেপালের বিপক্ষে ইনজুরি সময়ে গোল হজম করে ড্র।
ভারত ম্যাচ নিয়ে শমিতের প্রত্যাশা
এই জয়ের খরা কাটাতে শমিত এখন পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছেন ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে। তিনি এই ম্যাচটিকে অন্য যেকোনো ম্যাচের চেয়ে আলাদা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শমিত সোম বলেন, “আলাদা করে প্রেরণা বানানোর দরকার নেই। সবাই জানে ভারত ম্যাচ মানে কী। আমি যখন প্রথম দিন এসেছি বাংলাদেশ দলে, তখনই কেউ বলেছিল ভারত ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকতে। তখন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ ছিল। তাই এই ম্যাচ আমাদের মাথায় অনেক দিন ধরেই আছে। আমরা উদ্বুদ্ধ। আমরা এই ম্যাচ জিততে চাই, আর আমরা জিতবও।”
ভারতের দুর্বলতা চিহ্নিত
শমিত কেবল আত্মবিশ্বাসীই নন, ভারতের রক্ষণভাগে সুযোগ তৈরির কৌশল নিয়েও তিনি ওয়াকিবহাল। প্রতিপক্ষ ভালো দল হলেও তাদের দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছেন এই মিডফিল্ডার।
- শমিতের বিশ্লেষণ: “ভারত ভালো দল, কিন্তু তাদের ফাঁকও আছে। তাদের মিডফিল্ড লাইন আর রক্ষণভাগের মধ্যে জায়গা আছে। নেপাল যেভাবে রক্ষণ করেছে, ভারত সে মান ধরে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না। আমরা এখন যেভাবে পাস খেলছি, আমরা হাফ-স্পেস খুঁজে পাচ্ছি। এভাবেই ম্যাচে প্রভাব ফেলতে পারব।”
শমিতের এই বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দেয় যে বাংলাদেশের কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামতে প্রস্তুত। তাদের লক্ষ্য হলো মধ্যমাঠ ও রক্ষণভাগের মাঝের স্থান ব্যবহার করে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং আক্রমণকে কার্যকর করা।
আগামীকালের (১৮ নভেম্বর) এই ম্যাচটি কেবল এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা জয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণের একটি সুযোগ।








