আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর এসব অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন আইনি কাঠামো তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন বলেন, “এখন প্রচুর ভুয়া তথ্য ও এআই-নির্ভর কনটেন্ট ছড়াচ্ছে। নির্বাচনের সময় এগুলোর প্রভাব আরও বেশি হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ফেক নিউজ প্রতিরোধ করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “তথ্যের প্রবাহ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেই তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিয়াজ আহমদ বলেন, “আইটি অবকাঠামো দুর্বল হলে তা বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা ও যাচাই দরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসির সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই আইন আরও শক্ত করতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “নির্বাচনে হারা পক্ষ সবসময় অসন্তুষ্ট থাকে—তাই আগে থেকেই সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে হবে। যত বেশি সম্ভব সিসিটিভি, সাংবাদিক ও ক্যামেরা থাকা উচিত।”
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ইতোমধ্যে অপপ্রচার ঠেকাতে আইনি কাঠামো তৈরি করেছে এবং ‘সত্য তথ্য প্রচার’ জোরদার করছে।
কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “ভুয়া তথ্য পুরোপুরি রোধ করা না গেলেও সত্য তথ্য দ্রুত প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি অনেকটাই কমানো যায়।”
এদিকে, ইসি তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে নিয়মিত নির্বাচনী তথ্য ও ব্রিফিং প্রচার শুরু করেছে। সিইসি এমএম নাসির উদ্দিন জানান, কানাডা ও ইউএনডিপি এআই অপব্যবহার রোধে কারিগরি সহায়তা দেবে।
এবার প্রথমবারের মতো আইনি কাঠামোয় এআই অপব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী বা তার প্রতিনিধি যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভুয়া বা ঘৃণাত্মক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করেন, তাহলে তার প্রার্থিতা বাতিলসহ জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
ইসি জানিয়েছে, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ভোট আয়োজনের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি চলছে।








