খুলনা নগরীর লবণচরা থানাধীন হঠাৎ বাজার এলাকায় দিনদুপুরে এক মর্মান্তিক ও সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি ও ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতা মো: ইকবাল মোল্লা।
রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ বাজার এলাকায় এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত ইকবাল মোল্লা নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক পদে দায়িত্বরত আছেন। তিনি লবণচরা ইসলাম পাড়া এলাকার বাসিন্দা বিল্লাল মোল্লার ছেলে।
এই সন্ত্রাসী হামলার পর পুরো লবণচরা ও আশপাশের এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
অতর্কিত হামলা: যেভাবে রক্তাক্ত হলেন বিএনপি নেতা
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালের দিকে মো: ইকবাল মোল্লা লবণচরা এলাকার হঠাৎ বাজার দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে নগরীর চিহ্নিত একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের কয়েকজন অস্ত্রধারী সদস্য তাঁর ওপর চড়াও হয়।
সন্ত্রাসীরা প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় ইকবাল মোল্লা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত চত্বর ছেড়ে সটকে পড়ে।
উদ্ধার ও হাসপাতালে ভর্তি
হামলার বিকট শব্দ ও ইকবাল মোল্লার আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন এবং দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের একাধিক গুরুতর আঘাত রয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা প্রদান করছেন।
হামলার কারণ: নেপথ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপ ও পূর্বশত্রুতা
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই হামলার মূল কারণ পুরোনো কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত পূর্বশত্রুতা হতে পারে। এলাকার চিহ্নিত কিছু অপরাধী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন ধরেই এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, হঠাৎ বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় সন্ত্রাসীদের আনাগোনা ও চাঁদাবাজি ইদানিং বেড়ে গেছে। সেই সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধেই বিএনপি নেতা ইকবাল মোল্লার ওপর এই নৃশংস হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
উত্তপ্ত এলাকা: পুলিশি তৎপরতা ও অভিযান
এই মর্মান্তিক হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই লবণচরা ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা অবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসী ও মূল পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি সম্পর্কে লবণচরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকা জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “আমরা হামলার কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যেই বিশেষ অভিযান শুরু করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”








