একটি নতুন ব্যবসার পরিকল্পনা বা ইউনিক ‘বিজনেস আইডিয়া’ মাথায় থাকলেও সঠিক সময়ে সঠিক মূলধনের অভাবে অনেক স্টার্টআপ অঙ্কুরেই বিনাশ হয়ে যায়। তরুণ ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের এই বড় বাধা দূর করতে এক বৈপ্লবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। নতুন ও সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় অঙ্কের মূলধন সহায়তার বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই নতুন নীতির আওতায়, যোগ্য উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসার আইডিয়া ও ব্যাপ্তির ওপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন ৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সরকারি তহবিল পেতে পারেন। দেশীয় উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের সরকারি ঋণ বা আর্থিক সহায়তা কীভাবে দেওয়া হবে এবং কারা এই তহবিলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
কীভাবে যাচাই করা হবে প্রকল্পের যোগ্যতা?
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোতে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বিশেষ মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা না রেখে নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে প্রকল্পের মূল্যায়ন করা হবে।
এই নিরপেক্ষ কমিটি মূলত নিচের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে:
- প্রকল্পের সম্ভাবনা: প্রস্তাবিত ব্যবসাটির ভবিষ্যতে বাজারে কাটতি বা চাহিদা কেমন থাকবে।
- কার্যকারিতা ও উদ্ভাবন: আইডিয়াটি কতটা নতুন এবং সমাজ বা প্রযুক্তির কোনো বাস্তব সমস্যার সমাধান করছে কি না।
- বাস্তবায়ন যোগ্যতা: উদ্যোক্তার টিম, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং ফান্ড ব্যবহারের সঠিক রূপরেখা আছে কি না।
কমিটির সবুজ সংকেত মিললেই দ্রুততম সময়ে উদ্যোক্তার অ্যাকাউন্টে অনুদান বা ফান্ডিংয়ের অর্থ পৌঁছে যাবে।
প্রথমবার ব্যর্থ হলেও থাকছে দ্বিতীয় সুযোগ!
নতুন ব্যবসা বা স্টার্টআপ মানেই ঝুঁকি। অনেক সময় সঠিক চেষ্টা সত্ত্বেও প্রথম উদ্যোগে সাফল্য নাও আসতে পারে বা ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সাধারণত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো একবার ব্যর্থ হওয়া উদ্যোক্তাকে আর ঋণ দিতে চায় না। কিন্তু সরকারি এই নতুন নীতির সবচেয়ে অনন্য দিক হলো উদ্যোক্তাকে ঝুঁকির ভয়ে থেমে যেতে হবে না।
যদি কোনো উদ্যোক্তার প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, কিন্তু তার উদ্যোগটির মাঝে সত্যিকারের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থাকে, তবে তাকে বাদ দেওয়া হবে না। উক্ত নিরপেক্ষ কমিটির সুপারিশক্রমে সেই উদ্যোক্তাকে দ্বিতীয়বারও অর্থসহায়তা দেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু সম্ভাবনাময় স্টার্টআপগুলোকে টিকিয়ে রাখতেই এই ঐতিহাসিক সুযোগটি রাখা হয়েছে।
কারা এবং কীভাবে পাবেন এই সহায়তা?
যেসব তরুণ বা অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা তথ্যপ্রযুক্তি (IT), কৃষি-প্রযুক্তি, ই-কমার্স, হেলথ-টেক, ফিনটেক কিংবা উৎপাদনমুখী কোনো নতুন সমাধান নিয়ে কাজ করছেন, তারা এই সহায়তার মূল দাবিদার হবেন।
অফিশিয়াল পোর্টাল চালু হলে উদ্যোক্তাদের অনলাইনেই প্রজেক্ট প্রোফাইল (Pitch Deck) এবং ব্যবসায়িক রূপরেখা জমা দিতে হবে। নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্যানেল যাচাই-বাছাই করে সংক্ষিপ্ত তালিকার উদ্যোক্তাদের সরাসরি প্রেজেন্টেশনের সুযোগ দেবে।
অর্থসংকটের কারণে দেশের অসংখ্য মেধাবী উদ্যোক্তার বড় বড় স্বপ্ন ডানা মেলতে পারে না। সরকারের এই ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা স্কিম বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিটেমকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। আপনার কাছেও যদি উদ্ভাবনী কোনো বিজনেস আইডিয়া থাকে, তবে এখনই সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করে প্রস্তুত হয়ে যান সরকারি এই ফান্ডিংয়ের সুবিধা গ্রহণ করার জন্য!








