হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Wednesday, July 15, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeইসলাম ও জীবনপ্রতিদিন ১০০ বার জিকির: অগণিত সওয়াব ও বিস্ময়কর ফজিলত
spot_img

প্রতিদিন ১০০ বার জিকির: অগণিত সওয়াব ও বিস্ময়কর ফজিলত

আমাদের প্রতিদিনের জীবন নানা রকম দুশ্চিন্তা, ঝামেলা আর ছোট-বড় ভুলে ভরা। এই ব্যস্ত দুনিয়ায় মনের শান্তি আর আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো জিকির। জিকির শুধু মুখে কিছু শব্দ বলা নয়, এটি মানুষের মনকে শান্ত করে এবং ইমানকে মজবুত করে।

ইসলামে এমন কিছু ছোট ছোট আমল আছে, যা করতে বেশি সময় লাগে না কিন্তু এর সওয়াব ও উপকারিতা অনেক বেশি। এমনই একটি চমৎকার আমল হলো— প্রতিদিন ১০০ বার একটি বিশেষ জিকির পড়া।

সেই মহান জিকির কোনটি?

নবীজি (সা.) আমাদের যে জিকিরটি প্রতিদিন ১০০ বার পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন, সেটি হলো:

বাংলা উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লা হু, লা হুল মুলকু ওয়া লা হুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন কাদির।

সহজ অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। সব রাজত্ব ও ক্ষমতা তাঁরই। সব প্রশংসাও তাঁর। আর তিনি সবকিছুর ওপর সব চেয়ে বেশি ক্ষমতাবান।

প্রতিদিন ১০০ বার জিকির করার ৫টি বড় ফজিলত

হাদিস শরিফে এই জিকিরের এমন কিছু পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে, যা শুনলে যেকোনো মুমিনের মন খুশিতে ভরে উঠবে। সহীহ বুখারী ও মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার এই জিকিরটি পড়বে, সে ৫টি বড় পুরস্কার পাবে:

১. ১০ জন দাস মুক্ত করার সওয়াব

প্রাচীনকালে নিজের টাকা খরচ করে দাস বা গোলাম মুক্ত করা ছিল অনেক বড় ও দামি একটা ইবাদত। আপনি যদি প্রতিদিন এই জিকিরটি ১০০ বার পড়েন, তবে ১০ জন দাস মুক্ত করার সমান সওয়াব আপনার আমলনামায় লিখে দেওয়া হবে।

২. ১০০টি নেকি বা পুণ্য লাভ

আমাদের প্রতিদিনের ভালো কাজের খাতা ভারী করা খুব দরকার। এই জিকিরটি পড়ার সাথে সাথে মহান আল্লাহ আপনার অ্যাকাউন্টে ১০০টি জ্যান্ত নেকি বা ভালো কাজ লিখে দেবেন।

৩. ১০০টি গুনাহ মাফ

মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিদিন কত ছোট-বড় ভুল বা গুনাহ করে ফেলি। এই আমলটি নিয়মিত করলে আল্লাহ তাআলা দয়া করে আপনার আমলনামা থেকে ১০০টি গুনাহ বা পাপ একদম মুছে দেবেন।

৪. শয়তানের হাত থেকে সারাদিনের সুরক্ষা

শয়তান সবসময় আমাদের ক্ষতি করার এবং ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টায় থাকে। কিন্তু আপনি যদি সকালে বা দিনে ১০০ বার এই জিকিরটি পড়ে নেন, তবে সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত শয়তান আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। এটি আপনার জন্য একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে।

৫. আল্লাহর দরবারে সেরা হওয়া

কেয়ামতের দিন বা আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে সেরা হবে, যে এই আমলটি করেছে। অন্য কেউ যদি আপনার চেয়ে বেশি বার এই জিকির না করে, তবে কেউ আপনার চেয়ে বেশি সওয়াব নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে পারবে না।

এই জিকিরটি কেন এত শক্তিশালী?

এই জিকিরের ভেতরে লুকিয়ে আছে ইসলামের মূল কথা তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদ। এখানে আমরা মুখে স্বীকার করছি যে:

  • আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই।
  • তিনি এক, তাঁর কোনো পার্টনার বা শরিক নেই।
  • এই পুরো পৃথিবীর মালিক একমাত্র তিনি।
  • ভালো-মন্দ সব কিছুর প্রশংসা শুধু তাঁরই প্রাপ্য।
  • তিনি যেকোনো কিছু করতে পারেন, তাঁর ক্ষমতার কোনো শেষ নেই।

যখন কোনো মানুষ মন থেকে এই কথাগুলো বিশ্বাস করে জিকির করে, তখন তার মন থেকে দুনিয়ার সব ভয় আর চিন্তা দূর হয়ে যায়। সে সবকিছুর জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শেখে।

আমাদের করণীয় কী?

আমরা প্রতিদিন কত সময় সোশ্যাল মিডিয়া বা গল্পগুজব করে নষ্ট করি। অথচ এই জিকিরটি পুরো ১০০ বার পড়তে মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিট সময় লাগে। আপনি চাইলে সকালে একবারে পড়তে পারেন, অথবা সারাদিনে ভাগ ভাগ করেও ১০০ বার পূরণ করতে পারেন।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!