সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। পাকিস্তানের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও, তেহরান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা পাওয়া গেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কখনোই যুদ্ধবিরতি চায়নি বা এর জন্য কোনো অনুরোধও করেনি। এই ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই ঘোষণার পেছনে ৫টি সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বের করেছেন।
ট্রাম্পের কৌশলগত পরাজয়
যুদ্ধ চলাকালে ট্রাম্প তার সমস্ত সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা যাচাই করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝতে পেরেছেন যে, এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের ওপর কাঙ্ক্ষিত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। যুদ্ধের মাঠে কোনো অর্জন না থাকায় মুখ রক্ষা করার জন্য এবং আরও বড় সামরিক বিপর্যয় এড়াতে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসাকেই তিনি সবচেয়ে নিরাপদ পথ হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
প্রতারণার কৌশল
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণা কোনো আন্তরিক পদক্ষেপ না-ও হতে পারে। ট্রাম্প হয়তো এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে চাইছেন যেখানে তিনি অভ্যন্তরীণভাবে নিজের সাফল্য দাবি করতে পারেন, কিন্তু নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশ (যেমন: ইসরায়েল) তার হয়ে ‘সন্ত্রাসী’ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে। ইরানের কর্মকর্তারা এই সম্ভাবনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন।
৩. প্রক্সি যুদ্ধের ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধ থেকে সরে আসার নাটক করলেও, ইসরায়েলকে লেবাননে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে। তবে তেহরান আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, তারা একতরফাভাবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে গিয়ে মিত্রদের মাধ্যমে প্রক্সি যুদ্ধ চালাতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে পুরো দায়ভার ওয়াশিংটনকেই বহন করতে হবে।
৪. হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ
ইরান এখন হরমুজ প্রণালীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। ইরানের স্পষ্ট বার্তা যতদিন মার্কিন বাহিনীর নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে, ততদিন তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলবে না। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে তারা অবরোধ ভাঙবে। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা কি এই প্রণালী খুলে দেওয়ার একটি কৌশল? সেটিই এখন দেখার বিষয়।
৫. অস্থিরতা বজায় রাখার অপচেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি শান্তিতে বিশ্বাসী নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অর্থনীতি ও রাজনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখতে যুদ্ধের ‘ছায়া’ বা অস্থিরতা বজায় রাখতে চাইছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির মূল পার্থক্য হলো, হরমুজ প্রণালী এখন ইরানের হাতে। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই যুদ্ধের ছায়া বজায় রাখতে চায়, তবে তাদের বুঝতে হবে যে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা।
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা কি সত্যিই শান্তির সূচনা নাকি দীর্ঘমেয়াদী সংকটের নতুন কোনো অধ্যায়? বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, ইরানের অটল অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপকে কঠিন করে তুলেছে। বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে ট্রাম্পের এই ঘোষণার বাস্তব ফলাফল দেখার জন্য।








