বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ২০ দিনে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন ৬ হাজার ৪৭৬ জন। এর মধ্যে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৮ জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান: নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যু
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় (৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে নতুন করে ৭৮৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ে মারা গেছেন ৬ জন, যার মধ্যে অন্তত দুইজনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিশ্চিত মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৮২৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৬ জনের নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। তবে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮ জনে।
বিভাগভিত্তিক তথ্য: শীর্ষে চট্টগ্রাম
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভাগভিত্তিক হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পাহাড়ী এলাকা ও ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে এই রোগের সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হাসপাতালের চিত্র ও সুস্থতার হার
গত ২০ দিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৪,৬২৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আশার কথা হলো, সঠিক চিকিৎসায় অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
- মোট ভর্তি: ৪,৬২৮ জন।
- সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন: ২,৬৫৪ জন।
হাম কেন ছড়াচ্ছে? স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্তমান এই পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটিকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে অবহেলার কারণে আজ দেশে হামের মতো ছোঁয়াচে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সরকার বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
হাম প্রতিরোধে করণীয়
হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এই সময়ে শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন:
১. টিকাদান: ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে শিশুদের হামের টিকা নিশ্চিত করুন।
২. আইসোলেশন: উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে আলাদা রাখুন।
৩. দ্রুত চিকিৎসা: জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলে বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একনজরে:
- মোট উপসর্গযুক্ত রোগী: ৬,৪৭৬ জন।
- নিশ্চিত হাম আক্রান্ত: ৮২৬ জন।
- উপসর্গসহ মোট মৃত্যু: ৯৮ জন।
- ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী: ৭৮৭ জন।








