ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও মূল শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল সম্প্রতি ভারতে গ্রেফতার হয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ফয়সালের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাকে দেখা যাচ্ছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলোচিত এই ছবিটি বাস্তব নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
ভাইরাল ছবির উৎস ও সত্যতা
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলোচিত এই ছবিটির কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র বা তথ্যপ্রমাণ নেই। ভাইরাল ফটোকার্ডটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি মূলত ‘GojobVision’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ছড়িয়েছে। পেজটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এটি একটি স্যাটায়ার বা ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট তৈরির পেজ। মূলত মানুষকে বিভ্রান্ত করতে বা নিছক ব্যঙ্গ করতেই এই জাল ছবিটি তৈরি করা হয়েছিল।
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত
ছবিটির সত্যতা যাচাই করতে রিউমার স্ক্যানার টিম গুগলের আধুনিক প্রযুক্তি সিন্থআইডি (SynthID) ব্যবহার করেছে। পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে:
- ছবিটি গুগলের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদন করা হয়েছে।
- সিন্থআইডি প্রযুক্তিতে এআই জেনারেটেড কনটেন্টে একটি অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক থাকে, যা বিশেষ টুল ছাড়া খালি চোখে দেখা যায় না।
- ছবিটি ক্রপ করা বা ফিল্টার দিলেও এই অদৃশ্য চিহ্নটি মুছে যায় না, যার মাধ্যমে এটি যে ভুয়া ছবি তা প্রমাণিত হয়েছে।
জনমনে বিভ্রান্তি ও বাস্তবতা
শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সালের গ্রেফতারের খবরটি সত্য হলেও, তার সঙ্গে জুমার ছবির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। অসাধু চক্র রাজনৈতিকভাবে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করতে অথবা স্যাটায়ার পেজগুলো মজা করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের ‘ডিপফেক’ বা ‘এআই জেনারেটেড’ ছবি তৈরি করছে।
ইন্টারনেটে কোনো ছবি বা তথ্য দেখলেই তা বিশ্বাস করবেন না। কোনো চাঞ্চল্যকর ছবি শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। প্রযুক্তির এই যুগে চোখের সামনে যা দেখছেন, তা সবসময় সত্য নাও হতে পারে।








