মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় দেশে জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে এমন আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মাঝে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিলেও বিপিসি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অভয় দিচ্ছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক। আমদানির প্রক্রিয়া নিয়মিত চলছে এবং বড় ভয়ের কোনো কারণ নেই।
দেশে পেট্রল-অকটেনের সিংহভাগ উৎপাদন
অনেকেরই ধারণা নেই যে, আমাদের দেশে ব্যবহৃত পেট্রল ও অকটেনের একটি বিশাল অংশ দেশেই উৎপাদিত হয়।
- পেট্রল: দেশে ব্যবহৃত পেট্রলের প্রায় পুরোটাই দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উপজাত (কনডেনসেট) থেকে তৈরি হয়।
- অকটেন: দেশি পেট্রলের সাথে আমদানিকৃত অকটেন বুস্টার মিশিয়ে উন্নতমানের অকটেন তৈরি করা হয়। ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি মিলে বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করতে পারে, যেখানে আমাদের চাহিদা মাত্র ৮ থেকে সাড়ে ৮ লাখ টন। ফলে এই দুই জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
বন্দরে আসছে তেলের জাহাজ
বিপিসি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে বন্দরে একটি জাহাজ থেকে তেল খালাস চলছে। আগামী সোমবার আরও দুটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া এপ্রিল মাস পর্যন্ত ২ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। চলতি মাসে ১৪টি এবং আগামী মাসে আরও ১৫টি কার্গো আসার কথা রয়েছে, যার বেশিরভাগই নিশ্চিত করা হয়েছে।
কৃত্রিম সংকট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা
জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে এমন গুজবে গত কয়েকদিন পেট্রলপাম্পগুলোতে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বিপিসির মতে, আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুতের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
নাটোরে বাঁশঝাড়ের নিচে ১০ হাজার লিটার ডিজেল অবৈধভাবে লুকিয়ে রাখায় এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ফার্নেস অয়েলের মজুদ
শুধু যানবাহন নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যও পর্যাপ্ত জ্বালানি হাতে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রায় ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ফার্নেস অয়েলের মজুদ রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও পরিবহন নিয়ে স্বস্তি
মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা থাকলেও বাংলাদেশের তেল পরিবহনে বড় সমস্যা দেখছেন না কর্মকর্তারা। যেহেতু চীনা জাহাজের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তাই তেল পরিবহন স্বাভাবিক থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় পাম্পগুলোর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।








