হটলাইনঃ +৮৮০ ৯৬১৩ ০০০ ২০০ |
Thursday, August 20, 2026
- বিজ্ঞাপন-spot_img
Homeজাতীয়রমজানে ইফতার পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া: দিশেহারা সাধারণ মানুষ!
spot_img

রমজানে ইফতার পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া: দিশেহারা সাধারণ মানুষ!

পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার আগেই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ডাল, তেল আর ব্রয়লার মুরগির পর এবার অসাধু ব্যবসায়ীদের নজর পড়েছে ইফতার সামগ্রীর ওপর। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কেবল কারসাজির মাধ্যমে বাড়ানো হচ্ছে প্রতিটি পণ্যের দাম। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে শসা, লেবু, মুড়ি এবং খেজুরের দাম হু হু করে বাড়ছে।

আকাশছোঁয়া লেবু ও শসার দাম

ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলো শরবত এবং সালাদ। কিন্তু গত তিন-চার দিনের ব্যবধানে লেবু ও শসার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। রাজধানীর নয়াবাজার ও মালিবাগ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি হালি লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ছিল মাত্র ৪০-৫০ টাকা। একইভাবে কেজিপ্রতি ৫০-৬০ টাকার শসা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়। সাধারণ ক্রেতাদের মতে, রোজার সুযোগ নিয়ে বিক্রেতারা এক প্রকার ‘ডাকাতি’ শুরু করেছে।

মুড়ি, বেসন ও খেজুরের বাজারে আগুন

শুধু কাঁচাবাজার নয়, মুদি দোকানেও দামের উত্তাপ ছড়িয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে যে মুড়ি ৭০-৮০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইফতারের মূল আকর্ষণ খেজুরের দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। মানভেদে খেজুরের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য ইফতারি তৈরি করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পণ্যের দামের তুলনামূলক চিত্র

পণ্যের নামবর্তমান দাম আগের দাম
লেবু (প্রতি হালি)১০০ – ১২০ টাকা৫০ – ৬০ টাকা
শসা (প্রতি কেজি)৮০ – ১০০ টাকা৫০ – ৬০ টাকা
মুড়ি (প্রতি কেজি)৮০ – ৯০ টাকা৭০ – ৮০ টাকা
বেসন (প্রতি কেজি)৮০ – ১৩০ টাকা৭০ – ১২০ টাকা
সরিষার তেল (লিটার)৩০০ – ৩৬০ টাকা২৯০ – ৩২০ টাকা

সিন্ডিকেটের কারসাজি ও ক্যাব-এর উদ্বেগ

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন জানান, রমজানে বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে বিক্রেতারা ক্রেতাদের পকেট কাটছে। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য একসাথে কেনেন, যা অসাধু ব্যবসায়ীদের দাম বাড়ানোর সুযোগ করে দেয়। তিনি ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সরিষার তেল ও অন্যান্য ইফতার সামগ্রীর অবস্থা

ছোলা-মুড়ি মাখানোর প্রধান উপকরণ সরিষার তেলের দামও লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া ইসবগুলের ভুসি, ট্যাঙ এবং রুহ-আফজার মতো শরবতের উপকরণের দামও অহেতুক বাড়ানো হয়েছে। এক মাস আগে যে ইসবগুলের ভুসি ১৫০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এই বাড়তি খরচ মেটানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

সাধারণ মানুষের হাহাকার

মালিবাগ কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা গৃহিণী লাইজু আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সব জিনিসের দামই তো বাড়ানো হলো, শুধু ইফতার পণ্যই বাকি ছিল। এখন এগুলোও মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। বাজারে তদারকি করার কেউ নেই, যে যেভাবে পারছে দাম নিচ্ছে।”


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে। রমজানে কোনো প্রকার অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু অভিযান নয়, স্থায়ীভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে।

আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সর্বাধিক জনপ্রিয়

- বিজ্ঞাপন-spot_img

সাম্প্রতিক মন্তব্য

- বিজ্ঞাপন-spot_img
error: Content is protected !!