গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২৯৭টি আসনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নাম নিয়ে ইতিমধ্যে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। জনসেবার শপথ নিয়ে সংসদে আসা এই প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রীয়ভাবে ঠিক কী কী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।
মূলত ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ (সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী এমপিদের এই সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক ২০২৬ সালের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কী কী সুবিধা পেতে যাচ্ছেন।
মাসিক বেতন ও নির্বাচনী ভাতা
একজন সংসদ সদস্যের আয়ের প্রধান উৎস হলো তার মাসিক মূল বেতন। আইন অনুযায়ী:
- মূল বেতন: মাসিক ৫৫,০০০ টাকা।
- নির্বাচনী এলাকা ভাতা: নির্বাচনী এলাকার কাজের জন্য প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা।
- আপ্যায়ন ভাতা: মেহমানদারির জন্য মাসিক ৫,০০০ টাকা।
যাতায়াত ও গাড়ি আমদানির বিশাল সুবিধা
সংসদ সদস্যদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় সুবিধা হলো শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি। একজন এমপি তার মেয়াদে একবার শুল্ক, ভ্যাট বা কোনো কর ছাড়াই লাক্সারি গাড়ি বা জিপ আমদানি করতে পারেন। পাঁচ বছর পর তিনি পুনরায় এই সুবিধা পান। এছাড়া যাতায়াতের জন্য আরও রয়েছে:
- পরিবহন ভাতা: গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ও চালকের বেতনের জন্য মাসিক ৭০,০০০ টাকা।
- ভ্রমণ ভাতা: বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ট্রাভেল পাস বা ভ্রমণ ভাতা।
- যাতায়াত রেশিও: রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ ভাতা পান।
অফিস ও ব্যক্তিগত খরচ
জনগণের সেবা এবং অফিস পরিচালনার জন্য সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়:
- অফিস ব্যয় ভাতা: নির্বাচনী এলাকায় অফিস চালানোর জন্য মাসিক ১৫,০০০ টাকা।
- লন্ড্রি ভাতা: পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য মাসিক ১,৫০০ টাকা।
- বিবিধ ব্যয়: থালাবাসন, বিছানাপত্র ও টয়লেট্রিজের মতো দৈনন্দিন কাজে মাসিক ৬,০০০ টাকা।
চিকিৎসা ও বীমা সুবিধা
সংসদ সদস্য এবং তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা ভোগ করেন। এছাড়া:
- চিকিৎসা ভাতা: মাসিক ৭০০ টাকা।
- বীমা সুবিধা: দায়িত্ব পালনকালে কোনো দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা পঙ্গুত্বের শিকার হলে ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা কার্যকর হয়।
অধিবেশন চলাকালীন বিশেষ ভাতা
যখন সংসদ অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির সভা চলে, তখন এমপিরা বাড়তি কিছু ভাতা পান:
- দৈনিক ভাতা: অধিবেশনে উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা।
- যাতায়াত ভাতা: সভার জন্য নির্ধারিত স্থানে যাতায়াতে প্রতিদিন ২০০ টাকা।
- অবস্থানকালীন ভাতা: দায়িত্বস্থলে অবস্থানের জন্য দৈনিক ৭৫০ টাকা এবং যাতায়াত বাবদ ৭৫ টাকা।
টেলিফোন ও ঐচ্ছিক অনুদান
ডিজিটাল যোগাযোগ বজায় রাখতে এমপিদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন দেওয়া হয় এবং মাসিক ৭,৮০০ টাকা কল খরচ বাবদ বরাদ্দ থাকে। এছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঐচ্ছিক অনুদান। প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি বিশেষ তহবিল পান, যা তিনি নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী জনকল্যাণে ব্যয় করতে পারেন।
একটি বিশেষ তথ্য: সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্র থেকে যেসব ভাতা পান, তার ওপর কোনো আয়কর (Income Tax) দিতে হয় না। অর্থাৎ এই সুবিধাগুলো সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত।
এক নজরে এমপিদের সুযোগ-সুবিধার তালিকা
| সুবিধার ধরন | টাকার পরিমাণ (মাসিক/বার্ষিক) |
| মূল বেতন | ৫৫,০০০ টাকা (মাসিক) |
| পরিবহন ভাতা | ৭০,০০০ টাকা (মাসিক) |
| অফিস ব্যয় | ১৫,০০০ টাকা (মাসিক) |
| ট্রাভেল পাস | ১,২০,০০০ টাকা (বার্ষিক) |
| ঐচ্ছিক অনুদান | ৫,০০,০০০ টাকা (বার্ষিক) |








